জিকা ভাইরাসে ভয়ের কিছু নেই

সম্প্রতি জিকা ভাইরাস নামটি প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, আর শুনে অন্তরাত্না কেঁপে উঠছে–এই বুঝি আমাকে ভাইরাসটি আক্রমন করলো। আসুন জেনে নিই ভাইরাসটি সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

আমাদের অধুনা-পরিচিত ভাইরাস ডেঙ্গু এর মত এর প্রভাব কঠিন না হলেও, ১৯৪৭ সালে আবিষ্কৃত এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশে মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়। ডেঙ্গু ভাইরাসের মতই ভাইরাসটি মশাকে ‘পোশক’ হিসেবে ব্যবহার করে, অর্থাৎ মশার দেহের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক তথ্যমতে, এই ভাইরাস শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে।

1134141

স্বাভাবিক মানুষের তেমন ক্ষতি না করলেও, গর্ভবতী নারীদের শরীরে, বিশেষতঃ গর্ভের প্রথম অবস্থায়, এই ভাইরাস আক্রমন করলে গর্ভের শিশুর মারাত্নক ক্ষতিসহ শিশুটি বিকলাঙ্গ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ফলশ্রুতিতে, ভূমিষ্ঠ শিশুর মাইক্রোসেফ্যালি রোগে আক্রান্ত মস্তিস্কের আকার স্বাভাবিক আকারের চেয়ে অনেক ছোট হয়; ফলে শিশুর বিকাশজনিত সমস্যা অনিবার্য। । অনিরাময়গোয্য এই অসুখের ফলে বিকলাঙ্গ হয়েই শিশুটিকে সারাজীবন বেঁচে থাকতে হবে।

ভাইরাসটির উপসর্গ অন্য সব ভাইরাসের উপসর্গের মতই যেমন: ঘুসঘুসে জ্বর, মাথাব্যথা, রেশ, চোখ গোলাপী বর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি। তাই এইসব অস্পষ্ট উপসর্গের মাধ্যমে নয়; একমাত্র প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসটি সনাক্ত করা সম্ভব।

অন্যান্য ভাইরাসজনিত অসুখের মতই এর টিকা কিংবা প্রতিরোধক সঠিক ও সুনির্দিষ্ট ঔষধ এখনও অপ্রতুল ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

ক্যরিবিয়ান অঞ্চলসহ মধ্য-আমেরিকা ও দক্ষিণ-আমেরিকায় আক্রমনের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও ভারতকে এই ভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক থাকার ইঙ্গিত করা হয়েছে। যদি এই ভাইরাসটি ভারতে পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কাজেই ভয় পাওয়ার তেমন কিছুই নেই; বরং সকর্ত থাকুন।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক