হাসিটা কী চমৎকার

মানুষের সৌন্দর্যের অনেকটা জুড়েই থাকে তার ‘হাসি’। আর সুন্দর হাসির জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো ‘সুন্দর দাঁত’। ঝকঝকে সুন্দর দাঁতের হাসি মানুষের আত্ববিশ্বাসকেও বাড়িয়ে তোলে অনেক খানি।

অনেকেই ভাবেন যখন দাঁতে সমস্যা হবে তখন ঔষধ খেলেই সব সমস্যা সমাধণ হয়ে যাবে কিন্তু আসলে ছোট বেলা থেকেই মাড়ি ও দাঁতের যত্ন নিতে হবে। তাহলে ভাবষ্যতে দাঁত ও দাঁতের সমস্যা থেকে অনেকাংশেই দূরে থাকা সম্ভব। দাঁতের সুস্থতা অনেকাংশেই নিয়মিত দাঁতে পরিস্কার রাখার চর্চার উপর নির্ভর করে। ছোট শিশুর যখন দাঁত উঠতে শুরু করে তখন থেকেই প্রতিদিন একটা ছোট সুতি কাপড় দিয়ে মাড়ি মুছে দেয়া উচিত যা অধিকাংশ মায়েরাই করেন না। আর দাঁত সম্পূর্ণ উঠার পর প্রতিদিন নিয়ম করে দুবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস   বাবা – মা দুজনকেই করিয়ে দিতে হবে। সাথে সাথে তাদের 12নিজেদের ও প্রতিদিন অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে। মুখ পরিস্কার রাখার ফলে দাঁতের ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগ, জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ, মুখের দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস এবং আরো অনেক দন্তজনিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয় যাবে

মাত্র তিনটি অভ্যাসের মাধ্যমে আমরা মুখের যত্ন নিতে পারি।

(১)  প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ও সকালে নাস্তা খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা।

(২)  দুই দাঁতের মাঝখানটা পরিস্কার করার জন্য ‘ডেন্টাল ফ্লস’ ব্যবহার করা।

(৩)  মাউথওয়াশ ব্যবহার করা নিয়মিত।

দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ

‘ডেন্টাল ক্যারিজ’ আমরা একে ক্যাভিটি বলে জানি। এটি মূলত হয়ে থাকে মুখে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারণে। যা দাঁত ও মুখে জমে থাকা খাদ্যকনাগুলোকে ভেঙ্গে এসিড তৈরী করে এবং দাঁতের উপরে অবস্থিত সাদা অংশ যা এনামেল নামে পরিচিত । এসিড এই এনামেলকে ক্ষয় করে দেয়। যার ফলে দাঁতে গর্ত সৃষ্টি হয়। এনামেলের নিচেই থাকে ‘ডেন্টিন’। দাঁতে গর্ত হলে সেটি ফিলিং এর মাধ্যমে সমাধান করা যায়। যার ফলে গর্ত আর বাড়তে পারে না। কিন্তু ফিলিং না করলে সেক্ষেত্রে তা বাড়তে বাড়তে দাঁতের ডেন্টিন পর্যন্ত চলে যায় এবংতখন থেকেই দাঁতের সমস্যা ও ধরা পড়তে থাকে। ডেন্টিন এর নীচে থাকে পাল্প। যদি ক্যারিজ পাল্প পর্যন্ত চলে যায় সেক্ষেত্রে দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে যা হয়ত সাময়িক ভাবে ঔষধ খেলে কমে যায়। কিন্ত দাঁতের সঠিক চিকিৎসা না করলে এই সামান্য গর্ত থেকেই অনেক বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

(১)   প্রতিদিন অন্তত দুবার ফ্লুরাইড যুক্ত পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা।

(২)   প্রতিদিন অন্তত একবার ফ্লস ব্যাবহার করা ।

(৩)   প্রতিদিন মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিস্কার করা।

(৪)   স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহন করা। জাঙ্ক জাতীয় খাদ্য কমখাওয়া।

(৫)   চকলেট, চিপস জাতীয় খাবার কম খাওয়া এবং খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করে ফেলা।

(৬)   প্রতি ৬মাস অন্তর একজন ডেন্টিস্ট এর কাছে গিয়ে চেকআপ করিয়ে নেয়া।

জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ

বেশিরভাগ মানুষই তাদের জীবনে কখনো না কখনো ‘জিনজিভাইটিস’ বা ‘মাড়ির প্রদাহ’ রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু আসলে জিনজিভাইটিস কি ?

আপনি যদি দেখেন যে আপনার মাড়ি সামান্য লালচে হয়ে ফুলে গেছে, ব্রাশ করলে রক্ত পড়ছে তাহলে বুঝবেন আপনি জিনজিভাইটিসে আক্রান্ত । বেশিরভাগ মানুষই এই ব্যাপারটিকে খুব সামান্যা ভেবে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসা না করলে এই সামান্য ব্যাপারটি ই অনেক বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। অথচ শুধু মাত্র ব্রাশ করা ও ফ্লস করার মাধ্যমে যে কেউ এর থেকে দূরে থাকতে পারে।

কেন হয় জিনজিভাইটিস: কি কারণে ব্রাশিং, ফ্লসিং ঠিকমত করা না হলে দাঁতের চারপাশে ‘প্লাক’ জমে যায়। এই ‘প্লাক’ ৭২ঘন্টার মধ্যে শক্ত হয়ে গিয়ে ‘ক্যালকুলাস’ বা ‘টারটার’ এ পরিনত হয়ে দাঁত ও মাড়ির মাঝে জমে যায় যা শুধু মাত্র ব্রাশিং এর মাধ্যমে সরানো সম্ভব হয় না এবং এর উপরেই আরো ক্যালকুলাস জমে গিয়ে মাড়িতে যন্ত্রনা তৈরী করে এবং মাড়িতে ক্ষত এর মত সৃষ্টি হতে থাকে। এর ফলেই তৈরী হতে থাকে জিনজিভাইটিস।

জিনজিভাইটিসের লক্ষণ

(১) মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া।

(২) মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়া।

(৩) মাড়িতে ক্ষত হওয়া ও যন্ত্রনা হওয়া।

(৪) মুখে ঘা হওয়া।

চিকিৎসা

(১) একজন অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট এর কাছে গিয়ে দাঁত ‘স্কেলিং’ করিয়ে নেয়া।

(২) নিয়মিত ভাবে দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস ব্যাবহার করা যেটা হবে কার্যকরী।

(৩) মাউথওয়াশ ব্যবহার করা।

(৪) ৬মাস অন্তর ডেন্টাল চেকআপ করানো ।

ডাঃ সাদিয়া মৌ