একই স্পেস একাধিক কাজে ব্যবহার

শহুরে জীবনে এখন বড় পরিবার নেই বললেই চলে। জীবিকার সন্ধানে মানুষ এখন শহরমুখী। পরিবারের সংজ্ঞা এখন স্বামী স্ত্রী আর সন্তান। নতুন সংসারী বা বিবাহিত কিন্তু  চাকরির সুবাদে  শহরে এসে ব্যাচেলর জীবন যাপন করতে হয় অনেককে। ঘর তখন শুধু রাতে মাথা গোজার ছাউনি। বড় জোর ছুটির দিনটা হয়ত ছোট্ট ছাদেই ছাউনিতে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা এই তো।studio1 (23)
এমন জীবন যাত্রার মানুষদের কথা মাথায় রেখেই স্টুডিও এপার্টমেন্ট এর কনসেপ্ট । কাজের লোক এর দরকার নেই ৪৫০ বর্গফুটের এই বাসাতে। নেই আসবাবের আধিক্য। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই এখানে ডিজাইন করা। রান্না ঘরের জায়গাতে ছোট্ট একটা কিচেনেট। হালকা রান্না বা বাইরের থেকে আনা খাবার গরম করে খাবার ব্যবস্থা। কিচেনের টপটাতেই ডাইনিং টপ হিসেবে ব্যবহার করা। কেবিনেটের ব্যবহার যেমন রান্না করার জায়গা থেকে ঠিক অপর দিকে একই কেবিনেট বসার জায়গায় বইয়ের তাক ।
একই স্পেস কে একাধিক কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই আয়োজন। পর্দার জায়গাতে বাঁশের চিকের ব্যবহার। যাতে করে আলোর সাথে সাথে বাতাসেরও অভাব না হয়। একইসাথে প্রাইভেসিও নিশ্চিত হয় । শোবার ঘরে শুধু একটা আলমারি আর একটা খাট। ব্যাস এতটুকুই। ব্যাস্ত জীবনে এর বেশী আসবাব কারোই প্রয়োজন হয় না । একটি মাত্র টয়লেট যা শোবার ঘরের সঙ্গে। শোবার ঘর আর লিভিং স্পেসকে আলাদা করেছে একটা ফোল্ডিং দরজা। কাঁচের একটা লুভ্যর পাশে ডিজাইন করা যা গ্রামের বাড়ির পুরাতন কাঠের জানালার শহুরে রূপবিন্যাস । ব্যাস্ত জীবনে যেখানে কেশ বিন্যাসও অনেক সময় বিলাসিতা তখন এমন প্রয়োজন মেটানো জন্য ছিমছাম স্টুডিও এপার্টমেন্ট গুলোই মানুষের পছন্দের তালিকাতে উপরের দিকেই অবস্থান করছে।

স্থপতি হাসান শাহরিয়ার খান

intro