কুরুক্ষেত্র

shapma rezaসংসার এক কুরুক্ষেত্র। রোজ সেখানে যুদ্ধ আর রক্তপাত। কিন্তু সে লড়াই অদৃশ্য। আমাদের জানার বাইরে ঘটে চলে সেই ক্ষরণ আর যুদ্ধ। প্রতিপক্ষ সংসারের স্বজনরাই। প্রাণের বাংলার এই বিভাগে আমরা সেই অদৃশ্য ক্ষরণের কাহিনি তুলে ধরতে চাই। আপনি জানাতে পারেন আমাদের সেসব কথা। গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে আমরা প্রকাশ করবো সেইসব কাহিনি।আর আপনার সমস্যা বিচার করে আপনাকে উপযুক্ত সমাধান দিবেন অভিনেত্রী ও সঙ্গীত শিল্পী শম্পা রেজা।  

পাখিদের তখন ঘর বাধবার সময়। আমার বিয়ে হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী পেরুনোর আগেই। সেই আশির দশকে। লাভ ম্যারেজ। যাকে বলে প্রেম করে বিয়ে। আমার স্বামী জাহেদ তখন ছোটখাট ব্যবসা করার চেষ্টা করছে ঢাকা শহরে। বাড়ির কিছুটা অমতেই আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পর আমরা একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নেই শান্তিনগর এলাকায়। দুজনের চোখে তখন অনেক স্বপ্ন। দুজনের সংসারে তখন অভাব ছিলো। কিন্তু আমাদের ভালোবাসা সে অভাব বোধ করতে দিতো না। সেই সময়টা যে কোথা দিয়ে পাখির ডানায় ভর করে উড়ে যাচ্ছিলো আমরা বুঝতেই পারিনি।
এরপরের গল্প একটু অন্যরকম। জাহেদের ব্যবসার অবস্থা ধীরে ধীরে ভালো হতে শুরু করলো। আমাদের সংসারে অভাব নামের বিষয়টা বিদায় নিলো। স্বাচ্ছন্দ্য এলো। কিন্তু কোথায় যেন খটকা তৈরী হলো। আমি এক সময় বুঝতে পারলাম জাহেদ বিনা কারণেই আমাকে সন্দেহ করতে শুরু করেছে। তার ধারণা আমি গোপনে প্রেম করছি। এই সন্দেহের বীজ বড় হতে হতে একটা বৃক্ষে পরিণত হলো। জাহেদ সরে গেলো আমার কাছ থেকে। ওর সন্দেহ আমাদের দুজনের মাঝ থেকে ভালোবাসার জায়গাটাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিলো। আমি ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। বুঝতে পারলাম গোটা বিষয়টা মানসিক রোগ। আমি জাহেদকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে চাইলাম। কিন্তু সে স্বীকারই করতে চাইলো না তার সমস্যার কথা। এরপর জাহেদ আমাকে শারীরীক ভাবে নির্যাতন শুরু করলো। সংসারে আমার আর সন্তানদের টাকা-পয়সা দেয়া বন্ধ করে দিলো। আমি ঘরে বসে বেকারির খাবার তৈরী করে বিভিন্ন দোকানে সাপ্লাইয়ের কাজ শুরু করলাম। শুরু হলো বেঁচে থাকার নতুন লড়াই। সন্তানদের তো আমি জাহেদের মত পরিত্যাগ করতে পারবো না।
সম্প্রতি একটি বিবাহিত ছেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। ছেলেটি আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু বিয়ে করতে পারবে না। অন্যদিকে আমার পরিবার জাহেদের ব্যাপারে সব জেনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে ডিভোর্স করিয়ে বিয়ে দেবে।
আশ্চর্য, আমি আমার মতো করে কোন জায়গাতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আমার সন্তানরাও এই সম্পর্কের কথা জানে। মেয়েদের জীবনটা আসলে তার নিজের জীবন নয় বলে আমার মনে হয়। তাদের বোধহয় অন্যের ইচ্ছোয় একটা জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। হয়তো আমাকেও তাই করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
মীরপুর,ঢাকা

সমাধানঃ আপনি যেভাবে ঘরে বসে রোজগার করে সংসার চালাচ্ছেন। সেটা বজায় রাখুন।যার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব হবে না তার সঙ্গে সম্পক না রাখাই ভাল।যেভাবে আছেন সেভাবে থেকেই সন্তানদের প্রতিস্ঠিত করূন।কস্ট হবে তবে সময়ই আপনাকে আপনার লক্ষে পৌছে দেবে।