হাত বাড়ালেই উপকরণ

রুপচর্চা করার সময় অনেকেই একেবারে পান না। তাই একেবারেই হয়তো নিজেকে নিয়ে ভাবার অবসর পান না।তবে একটু মাথা খাটালেই হাতের কাছের উপকরন দিয়েই কাজের ফাকে আপনি নিজের শরীরের যত্নআত্ত করতে পারেন।আর যদি সঠিক জিনিষ ব্যবহার করতে পারেন তাহলেই করবেন না হলে প্রয়োজন নেই। আপনার রান্নাঘরেই আছে রুপচর্চার অনেক উপকরন।যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন রুপচর্চার ক্ষেত্রে।একই সঙ্গে এগুলো খাঁটি ও ভেষজ ও বটে।

উজ্জল ত্বকের জন্য: আপনার ত্বক শুষ্ক হলে বেসন ও দুধ বা দুধের সর মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে আলতো করে ঘষে তুলে ফেলুন। এতে ত্বকের মরা কোষ ঝরে  গিয়ে ত্বক হবে উজ্জ্বল।যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা  ঠিক একই ভাবে বেসন আর দইয়ের মিশ্রন ব্যবহার করথত পারেন।

ভ্রু কম হলে: ক্যাস্টর অয়েল অথবা বিশুদ্ব নরিকেল তেল ভ্রুতে লাগালে ভ্রুর লোম বাড়বে। চোখর পাতার বেলাতেও একই পদ্বতি ব্যবহার করবেন।

রুক্ষ ত্বক: এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম, দুধ,মেয়োনিজ অথবা মধু মুখে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষন পরে ধুয়ে ফেলুন।

চিকন, উজ্জ্বল চুল:  শুস্ক চুলে ডিমের হলুদ অংশ ও তৈলাক্ত চুলে ডিমের সাদা অংশ লাগালে চুল উজ্জ্বল হবে্।ব্যবহার করা চায়ের পাতা ফেলে দিবেন না। জমিযে রাখবেন। পর্যাপ্ত পরিমান  পানিতে সেই চায়ের পাতা ফেলে ফুটিযে ঠান্ডা করুন এবং শ্যাম্পু করার পর এটি ব্যবহার করূন। চা পাতা ভেজানো পানির ট্যানিক এসিড চুলে উজ্জ্বলতা আনবে। বিয়ার দিয়ে চুল ধুলেও চুল উজ্জ্বল হবে।

রুপচর্চা (4)

চুল নরম করতে: চুলে নিয়মিত দই মাখলে চুল মোলায়েম হবে। ডিমের কুসুমও ব্যবহার করতে পারেন একই ভাবে। ডিমের কুসুম চুল পরিস্কার করেও বটে। দই বা ডিমের কুসুম চুলে লাগিয়ে আধ ঘন্টা রেখে ধুয়ে  ফেলুন পানি বা হালকা কোন ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে।

ঘামের গন্ধ দূর করতে : গোসলের পানিতে গোলাপজল মিশিয়ে নিয়মিত গোসল করেন। গোসলের শেষে এক মগ পানিতে কয়েক ফোটা চন্দন, জুঁই বা গোলাপের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে সেটি গায়ে ঢালুন তারপর হালকা করে মুছে নিন।

পা ফাটা দূর করতে : সামান্য গরম পানিতে অল্গ লবন দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন ২০ মিনিট।পামিস্ট স্টোন বা মোটা খরখরে কাপড় দিয়ে গোড়ালি ঘসে ঘসে মরা কোষ তুলে ফেলুন। বাজারে স্ক্রাবার পাওয়া যায় তা ও ব্যবহার করতে পারেন। কোন নারিশিং ক্রিম দিয়ে  গোড়ালি ও পায়ের পাতা ম্যাসেজ করুন। বিশেষ করে গেড়িালীতে ভাল করে ক্রিম লাগান তারপর একটা ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের পাতায় ভাল করে ক্রিম লাগিয়ে পুরানো মোজা পরে শুতে যান, যেন পায়ের পাতায় ক্রিমের প্রলেপ লেগে থাকে সারারাত।

রূক্ষ হাতের পাতা : সামান্য লেবুর রসে চিনি মিশিযে হাতে ঘসতে থাকুন যতক্ষন না চিনি সম্পূর্ন গলে না যায়। কোন কিছু ধোয়ার সময রাবার গ্লাভস পরে ফেলুন।

নখ ভঙ্গুর হলে : এক চামচ জিলেটিন পানিতে ভিজিয়ে  যদি নিয়মিত খান তাহলে নখ শক্ত হবে। যথেস্ট পরিমান তাজা সব্জি কল বের করা ডালও দই খান। এতে নখ শক্ত হবে।

ঘরে বসে ক্রিম বানান

ত্বকের পক্ষে যেসব ভেষজ ভাল তার সবকটি দিয়েই ভিন্ন ভিন্ন ক্রিম বানানো যায়।ওষুধের দোকানে যে সব সাধারন সাদা অয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায তাতে থাকে কয়েক রকমের তেল এবং ত্বকে ব্যবহার্র্য মোম যেগুলাি পানিতে গরে যায।এব িধরনের ক্রিম ফ্রিজে রাখরে মাসখানেক ব্যবহার করা যায। কয়েক ফোটাবেনজয়েন টিঙচার মিশিয়ে নিলেও ক্রিম অনেকদিন রাখা যায়।জেবিক তেল ওচর্বি থেকে যে সব ক্রিম বানানো হয় carrot-cream-1024x926সেগুলো আরও তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। যেভাবে ক্রিম বানানোর তাতে প্রায সব ভেষজই আলাদা করে ব্যবহার করা জযতে পারে।

উপকরন :  সাদা অয়েন্টমেন্ট ১৫০ গ্রাম। গ্লিসারিন ৭০ মিলিলিটরি। পানি ৮০ মিলিলিটার। শুকনো ভেষজ ৩০ গ্রাম।

যা যা লাগবে : চ্যাপটা কাঁচের পাত্র একটা, সসপ্যান একটা, কাঠের চামচ একটা, জুসার একটা, প্লাস্টিকের ব্যাগ বা পাতলা কাপড়, বড় বাটি, মাখন লাগানো ছুরি. বায়ু নিরোধক ছোট জার।

কিভাবে তৈরি করবেন :  স্নেহ জাতীয় পদার্থ গলো আঁচে গলিয়ে নিন।অন্য একটি বড় পাত্রে পানিফোটান। ফোটানো পাত্রের পানির ওপরে ছোট পাত্রে গলানো স্নেহ পদপর্থ ও পানি বসিয়ে তাতে শুষ্ক ভেষজ ঢেলে দিন এবং হালকা আচেঁ ৩ ঘন্টা রাখুন। জুসারের মুখে জেলি ব্যাগ বেধেঁ ধীরে ধীরে উষ্ণ তরল ঢালুন। জুসার থেকে তরল টি বড়মুখ বাটিতে ঢেলে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন যতক্ষন পর্যন্ত না পুরোপুরি ঠান্ডা হয়।থকথকে হয়ে গেলে মাখনের ছুরি দিয়ে একটু একটু করে জারে ভরুন।জারের ভিতরের দিকে সারা গায়ে লেপে দিয়ে তবেইভিতরটা ভরাট করূন ।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক