অঘটন বলা যায় না

শামসুল আলম মঞ্জু
আমেরিকা প্রবাসী

একদা বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী সময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু। বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য প্রবাসী এই কৃতী ফুটবলার মন্তব্য প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা থেকে।

অঘটন বলা যায় না।বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে দুর্দান্ত খেলে নজর কেড়েছিলেন মার্টিনেজের ছেলেরা৷ আর সেই খেলা দেখেই ফুটবলের আলোচকদের কেউ কেউ ‘ডার্ক হর্স’ তকমা এঁটে দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের নামের পাশে।তারপর থেকেই তাদের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ সেই ‘ডার্ক হর্স’ গতকাল কিন্তু নান্দনিক এক ফুটবল খেলা উপহার দিয়ে তিন গোলে পানামার সংসারে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

স্পেনের বিরুদ্ধে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফ্রিকিক থেকে গোল বিস্মিত করেছে ফুটবলবিশ্বকে৷ আবার সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কুটিনহোর গোলটি এবারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সেরা গোলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে৷ আর গতকাল বেলিজিয়ামের স্ট্রাইকার মার্টিনেসের লং ভলিতে গোল বোধ হয় সেই ভালো লাগার তালিকায় নাম লেখালো। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল৷ সৌজন্যে ম্যান ইউ তারকা লুকাকু৷ কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে যিনি এগারোটি গোল করে ইউরোপের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে বেলজিয়ামের ফুটবল দর্শকদের আশা জাগিয়েছিলেন।

তবে পানামার ডিফেন্সকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। বেলজিয়ামের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা অফেন্স লাইনকে গোটা প্রথমার্ধ আটকে দিয়েছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের গোলমুখ খোলার চেষ্টাও করেছিলেন পানামার আক্রমণভাগ। কিন্তু সাফল্য মেলেনি৷ নজরে থাকা চেলসির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইডেন হ্যাজার্ড গোল পাননি ঠিকই৷ তবে লুকাকুর দ্বিতীয় গোলের নেপথ্যে ছিলেন তিনিই৷

আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ব্রাজিলের মতো ভারী ভারী নামগুলির পাশে বেলজিয়াম  যে তাদের নাম ঘোষণা করলো গতকাল তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আমি বেলজিয়ামের জয়কে অঘটন বলবো না। তারা সামনের দিনে অনেক বড় পরাশক্তির ঘুম কেড়ে নিতে পারে।তারা বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ হয়ে থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। এ ধরণের আক্রমণাত্নক ফুটবল তাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে বলেই মনে হয়।

অন্যদিকে গতকাল ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলো ইংল্যান্ড দল। প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া।  তিউনিসিয়া অন্যান্য আফ্রিকান দলগুলোর স্ট্র‌্যাটেজি অনুযায়ীই বড় শরীরকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষকে আটকানোর চেষ্টা করে গিয়েছে।সঙ্গে ছিল হেভিওয়েটদের গোল করার রাস্তা আটকাতে নিজেদের বক্স ঘেরাও করে রাখা। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা সময় দশজন নেমে এসে ডিফেন্স করলো। অন্যদিকে ইংল্যান্ড কি সাংঘাতিক দল হিসেবে পারফর্ম করলো? ইনজুরি টাইমের হাত ধরে কোনোরকমে বিজয় সূচক গোল। খেলাটা তাদের নিয়ে যাচ্ছিলো আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের হোঁচট খাওয়ার পথেই। খেলার একেবারে অন্তিমে এসে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনের গোল বাঁচালো ইংল্যান্ডকে।

ছবিঃ ফিফা