অন্তর্বাসের অন্তরে…

অন্তর্বাসের ইতিহাস! আছে নাকি?ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় আছে। গেল সপ্তাহে লন্ডনের ‘ভিক্টোরিয়া এবং অ্যালবার্ট জাদুঘরে হয়ে গেলো অন্তর্বাসের প্রদর্শনী। সেখানে হাজির করা হয়েছিলো ১৮ শতক থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত নারী পুরুষের ব্যবহৃত অন্তর্বাসের নমুনা।

‘আনড্রেস: এ ব্রিঢ হিস্ট্রি অফ আন্ডারওয়্যার’ নামে সেই প্রদর্শনীতে সাজিয়ে রাখা হয়েছিলো বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত প্রায় ২০০টি অন্তর্বাসের নমুনা। অন্তর্বাসের বদলে যাওয়া ফ্যাশন, পরিবির্তিত কাপড় আর ডিজানেইনের বিবর্তনের একটি চিত্র দেখা গেছে প্রদর্শনীতে।

পোশাক নিয়ে যাদের কারবার তারা বলেন, নারীর অন্তর্বাস চিরকালই এক রহস্যময় আবরণ। নারীর সৌন্দর্য, নারীর রহস্যময়তা আর যৌনতা ছায়া ফেলেছে এই অন্তর্বাসে। শরীরের বিশেষ স্থান ঢেকে রাখার তাগিদে এই বস্ত্রখণ্ডের উদ্ভব ঘটলেও পরবর্তী সময়ে অন্তর্বাস নিয়ে মাথা ঘামিয়েছে, ঘামাচ্ছে পৃথিবীর বাঘা বাঘা সব ফ্যাশন হাউজ। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে পুরুষরা অন্তর্বাস পরিধান করতো। তাদের পাশাপাশি নারীদের মাঝেও এই বিশেষ পোশাকের চল ছিলো। তখনই চামড়ার তৈরী এক ধরণের বক্ষবন্ধনী সেখানকার মেয়েরা ব্যবহার করতো।পরে অন্তর্বাস তৈরী করতে উলের ব্যবহার দেখা যায় শীতপ্রধান দেশে।

মধ্যযুগেও নারী-পুরুষ অন্তর্বাস ব্যবহার করতো। তবে সেগুলো ছিলো একেবারেই দর্জির হাতে তৈরী। বিংশ শতাব্দীতে অন্তর্বাস তৈরী হতে শুরু করে বিপুল জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে। পুরুষদের জন্য প্রথম আধুনিক অন্তর্বাস তৈরী করে বাজারে আনে আমেরিকার কুপারস কোম্পানী। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে অন্তর্বাসের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। পুরুষের ক্ষেত্রে যেমন আধুনিক ও আরামপ্রদ আন্ডারওয়্যার তৈরী হয় তেমনি নারীর ক্ষেত্রে অন্তর্বাস হয়ে ওঠে যৌনতারও প্রতীক। নারীর একেবারেই সংক্ষিপ্ত অন্তর্বাস প্রথম জনপ্রিয় করে ব্রাজিলের একটি কোম্পানী। তাদের মাধ্যমেই পরবর্তী সময়ে গোটা বিশ্বে এই বিশেষ স্টাইলটি ছড়িয়ে পড়ে। সত্তরের দশকে বিকিনি আন্দোলনও তৈরী হয়েছিলো এই অন্তর্বাসের ওপর ভিত্তি করে।

অন্তর্বাসের জন্য যারা ডিজাইন করেন তারা মনে করেন ২৫ বছর আগেও এই বিষয়টি বেশ রাখঢাকের ঘেরাটোপেই বন্দী ছিলো। কিন্তু সময় পাল্টেছে। অন্তর্বাস এখন প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদন দুটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন, উইকিপিডিয়া

ছবিঃ গুগল