অন্য পৃথিবীর ছবি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীম

ওষুধের দেশ সুইজারল্যান্ড অসহায়। প্রযুক্তির দেশ জার্মানী নিরুপায়। মানবতার দেশ ইটালি কাঁদছে। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র আমেরিকা দিশেহারা। ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল, স্পেনও যুক্ত হয়েছে এই মিছিলে। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই ‘জৈব অস্ত্র’ বন্ধের ডাক।এরই মাঝে মানবতার রোল মডেল সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ,কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।বিশ্বের মানুষ এখন গৃহবন্দী, সাধারণ মানুষের কাছে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইন্টারনেট। এর শেষ কোথায় কেউ জানেন না। মুসলমানদের ধর্মীয় তীর্থভুমি মক্কা, মদিনা রুদ্ধ। মানুষের কপালে অজানা এক আতংকের ভাঁজ। প্রিয় চেনা বিশ্বকে ভয়ে কাঁপিয়ে তুলেছে কোভিড-১৯ ভাইরাস যা পরিচিত হয়েছে করোনা নামে।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীন থেকে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মাঝে দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে, যা বর্তমান মহামারির সঙ্গে সম্পর্কিত।যদিও প্যাঙ্গোলিনের বিষয়টা বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।অবশ্য প্যাঙ্গোলিন ছাড়াও গবেষণা চলছে, বাদুর ও অন্যকোন বন্যপ্রানীর উপর।পাশাপাশি চলছে এই ভাইরাস প্রতিরোধের ওষুধ তৈরীর প্রক্রিয়াও।

এসব ঘটনার মাঝে চেনা পৃথিবীটা যেন বদলে যাচ্ছে।দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে হু হু করে কমছে বায়ুদূষণের মাত্রা।উর্ধ্ব আকাশে উড়োজাহাজ চালকরা বলছেন, বায়ূমন্ডলে কমেছে বায়ূদূষনের মাত্রা যে কারনে উর্ধ্ব আকাশ এখন অন্যরকম পরিস্কার। সাগরের তীরে ভেসে আসছে হারিয়ে যাওয়া ডলফিন।

চীন, ইতালী বা ব্রিটেনের আকাশে অবিশ্বাস্য গতিতে কমছে নাট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা। পরিবেশবিদদের হতবাক করে নিউইয়র্কের আকাশে দূষণের মাত্রা কমেছে ৫০ শতাংশের বেশী। উপগ্রহ ছবিতে নয়, ঘরবন্দী ইউরোপের মানুষ খালি চোখেও দেখতে পাচ্ছে ঝকঝকে নির্মল আকাশ  যা আগে কখনো দেখেনি তারা।

যে জলবায়ূ ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানব প্রতিবাদ রুখতে পারেনি, সেই মানবিক  চাওয়া এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। দল বেঁধে ফিরে আসছে পরিযায়ী পাখির দল। সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাওয়া নিরীহ ডলফিনের ঝাঁক ফিরে আসছে মানুষের কাছে।রাশ পড়েছে বিশ্ব ঊষ্ণায়নের হারেও।

ক্ষুদ্র এক ভাইরাস গোটা দুনিয়ার ভোল পাল্টে দিয়েছে। বদলে গেছে আমাদের মানসিকতা, আমাদের জীবনযাত্রা। একদিকে সীমান্ত মুছে গিয়ে গোটা পৃথিবী দাঁড়িয়েছে এক আকাশের নিচে; অজানা অচেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে একজোট হয়ে।

এরপর ঘরবন্দী হয়ে যাওয়া মানুষ প্রাথমিক ধাক্কাটুকু সামলে হাত বাড়িয়ে দেবে প্রতিবেশীর দিকে। চারপাশের পরিবেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার আগে ভাববে আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশীদের কথা।

করোনা ঢেউ শুধু এই এক-দু’মাসের গল্প নয়। একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে বাজারে আসতে সময় নেবে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ মাস। এরমধ্যে পৃথিবীর মানুষ আক্রান্ত হবে দফায় দফায় যতদিন ভ্যাকসিন না আসবে।

কী অদ্ভুত না? আমরা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের কথা জানি। অথচ এই পৃথিবীরও যে একটা ইমিউন সিস্টেম আছে, তা ভাবিনি কখনো।ত্যাক্ত বিরক্ত পৃথিবী আর সইতে না পেরে সেই পদ্ধতি কার্যকর করে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী এক বছরে করোনা-বিপর্যস্ত মানুষ, দফায় দফায় ঘরবন্দী থেকে পৃথিবীর দূষণ কমিয়ে ফেলবে প্রায় ৪৫ শতাংশ।পরিবেশ ফিরে যাবে ৫০০ বছর আগের বিশুদ্ধতার কাঠামোতে। মাস ছয়েকের মধ্যে কমতে থাকবে হিমবাহের গলন, বন্ধ হয়ে যাবে বছরখানেকের মধ্যে।কমবে ক্যানসার, কিডনী, শ্বাসযন্ত্র ও অন্যান্য দূষণজনিত রোগ।

নতুন পৃথিবীতে নতুনভাবে পা রাখবে বেঁচে থাকা মানুষ। ভাঙাচোরা অর্থনীতি, থমকে যাওয়া শিল্প আর আমূল বদলে যাওয়া জীবনকে নতুন করে বাঁধতে শুরু করবে তারা। ধূলো-ধোঁয়া-অন্ধকার পেরিয়ে সেই নতুন পৃথিবীর সোনালী আলোর রেখা হয়তো দেখা যাচ্ছে এখন থেকেই। ভাল থাকুন । নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ থাকার জন্য সামাজিক নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখুন।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]