অন্য হেমন্তের কাছে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রথম জীবনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সাহিত্যিক হতে চেয়েছিলেন। ছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের বাল্যবন্ধু। লেখালেখি করার আগ্রহটা এক সময়ে চাপা পড়ে যায় গানের চাদরে। সাহিত্যের সাধনাকে টপকে জিতে যায় গানের সাধনা। আত্মপ্রকাশ ঘটে বাংলা গানের জগতে এক অসাধারণ শিল্পীর। কিন্তু তাকে নিয়ে গানের জগতের বাইরের মানুষদের কাছে জমা পড়ে থাকে অনেক স্মৃতি। বাংলা ভাষার একজন অনন্য কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘‘সত্যি বলতে কি, সঙ্গীতের জগতের লোক যেমন নই, তেমনি  সঙ্গীতের সঙ্গে রীতিমত যোগাযোগ বলতে যা বোঝায় তাও নেই। …কিন্তু কোনো কোনো গান কোনোদিনই বিদায় নেয়নি, নেয়ও না বোধহয়। একদা (কত আগে, ঠিক মনে করতে পারি না) শুনেছিলাম, ‘কথা কয়ো না কো, শুধু শোনো।’ …লিরিক রচয়িতার কাছে সেটা হয়তো প্রিয়ার উদ্দেশে ছিলো। হেমন্ত মুখুজ্যের ক্ষেত্রে সেটা হয়ত সঙ্গীত শ্রোতাদের উদ্দেশেই নিবেদন ছিলো। আজকের শ্রোতারা নিশ্চুপে ওঁর গান শুনছে।”

অধ্যাপক নিমাইসাধন বসু একবার কলকাতার বসুশ্রী হলে একটি দাতব্য চিকিৎসালয়ের সাহায্যার্থে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বাবা কালিদাস মুখোপাধ্যায় ছিলেন ওই দাতব্য চিকিৎসালয়ের অন্যতম পরিচালক। সে অনুষ্ঠানে হেমন্ত গান গাইবেন। অনুষ্ঠানের কিছু আগে পৌঁছে নিমাইসাধনবাবু দেখেছিলেন অদ্ভুত এক দৃশ্য। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজে অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজাচ্ছেন, চেয়ার টেবিল সরাচ্ছেন, মাইক ঠিক করছেন, আবার সকলকে অভ্যর্থনাও জানাচ্ছেন। নিজের বইতে তিনি লিখেছেন,‘যে ভূমিকায় ভারতবিখ্যাত শিল্পী হেমন্তকুমারকে দেখলাম, সে দৃশ্য অভিনব, শিক্ষণীয়’।

ব্রজলাল ব্যানার্জি নামে এক ব্যাঙ্ক অফিসার একসময় থাকতেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পাশের বাড়িতে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন একেবারেই সাধারণ প্রতিবেশী-সুহৃদের মতো। দরকারের সময় চা পাতা-দুধ ইত্যাদি ফুরিয়ে গেলে দেওয়া নেওয়া চলতো দু’টি বাড়ির মধ্যে। বাড়িতে অন্য শিল্পীরা এসেছেন, গান চলছে -ব্রজলালবাবু গান শুনতে ভালবাসেন বলে ডাক পড়তো তার সেই আসরে। এইভাবে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লার মতো অনেক শিল্পীর সঙ্গে ব্রজলালবাবু বা তাঁর পরিবারের আলাপ করিয়েও দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তার মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যে ভাবে মিশতেন সেই স্মৃতি আজও ব্রজলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিষ্ময় হয়ে আছে।

‘কতদিন পরে এলে’, ‘হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা’ ‘কোনো এক গাঁয়ের বধু’ এমন অসংখ্য গান যাকে অমর করে রেখেছে সেই মানুষটি ছিলেন একটু মুখচোরা। নিজের উপস্থিতির বিনয় দিয়ে অন্যদের মুগ্ধ করে রেখেছেন আজও। ২০২০ সালের ১৬ জুন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ারে শতবর্ষ পার অতিক্রান্ত হলো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ প্রহর, কলকাতা
ছবিঃ গুগল   


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box