অফিস যাত্রীর ডায়েরি… ১৬

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর

পিঠটান

মহাকাশচারী হবার স্বপ্ন বঙ্গবাসীর কখনো পুরন হবে না। এর বিবিধ কারন আবিস্কার করা যায়। তার মধ্যে দ্রষ্টব্য কারন হতে পারে অর্থের অভাব, শারীরিক সক্ষমতা না থাকা, বিশাল স্বপ্ন দেখার আঙাক্ষার অভাব ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমার মনে হয় এসবের চাইতেও বড় একটা কারন আছে- মহাশুন্যযানে জানালা এবং তার আকার। মহাশুন্যযানে জানালা থাকে, কিন্তু সেগুলোর আকার এতো ছোট আর তাতে এমন ভাবে শক্ত কাঁচ আটকে রাখা যে একারনেই বাংলার মানুষ কখনো মহাকাশযানে উঠতে চাইবে না। ভুলে গেলে চলবে না- আমাদের সবার মাঝে লক্ষন সেনের অনু-পরমানু বিদ্যমান। ইতিহাস সাক্ষী- বখতিয়ার খিলজী যখন বাংলা আক্রমন করেন তখন লক্ষণ সেন জানালা দিয়ে পলায়ন করেন। আমরা সেই ঐতিহ্য এখনো বয়ে চলেছি। যে কোন সুযোগে আমার তাই এখনো জানালা দিয়ে পালাই। জানালা ছাড়া তাই আমাদের চলেই না- অগত্যা মহাকাশ যাত্রা বাতিল। কিন্তু আমরা হলাম দুধ না থাকলে ঘোলে স্বাদ মেটানো জাতি। তাই আমার খুঁজে নিয়েছি মহাকাশ এবং মহাকাশযানের বিকল্প- ঢাকার রাস্তা এবং তাতে চলাচলকারী পাবলিক বাস। এখন আপনারা ভাবছেন- ব্যাটা আগরতলা আর উগারতলা এক করে ফেলেছে, আমি কথাটা শেষ করি। আপনার পাশের বাসের দিকে তাকান- মহাকাশযান যখন বায়ুমন্ডলের ভেতর দিয়ে মর্ত্যে ফিরে আসে, বায়ুমন্ডলের ঘর্ষনে তার যে চেহারা হয়, আমাদের বাসগুলার অবিকল সেই চেহারা। ঢাকার রাস্তায় ইদানিং কোন সুস্থ চেহারার বাস দেখেছেন? সব কটা বাসের চেহারা প্রতিদিন কয়েকবার বায়ুমন্ডল ভেদ করা মহাকাশযানের মত। আর তাতে আছে লক্ষণ সেনের জানালা…. বনানী রেল ক্রসিং এ দাড়িয়ে আছি। ট্রেন আসবে বলে গেট বন্ধ, একই ভাবে উল্টো দিকেও ৪-৫ টা গাড়ি দাড়ানো। একটা মহাকাশচারী বাস বেশ জোরে এসে থামার চেষ্টা করে ব্রেক ফেল করলো। গেটে দাড়ানো গাড়িগুলোর গা ঘেষে চলে তারপর থেমে গেল। উল্টো পাশ থেকে আমরা সবাই তা দেখছি কিন্তু কিছু করার নাই। সবচেয়ে অসাধারন যে দৃশ্যটি দেখলাম তা হলো বাস ড্রাইভারের কান্ড। বাসটা পুরো থামার আগেই সে কি নিদারুন দক্ষতায় পাশের জানালা গলে রাস্তায় নেমে পড়লো। এবং নির্বিকারভাবে রাস্তা পার হয়ে ফুটপাতের মানুষের ভিড়ে মিশে গেল। আমি এই দক্ষতা আগেও দেখেছি আরেকবার মানিক মিয়ার মোড়ে। একটা বাস একটা রিক্সাকে চাপা দিয়ে ফুটপাথে উঠে পড়লো। সেখানেও নীল শার্ট পড়া ড্রাইভার মুহুর্তে জানালা গলে নেমে গেলো। শুধু যে নেমে গেল তা না, সে পাশে ভিড় করে দাড়িয়ে থাকা লোকেদের সঙ্গে মিশে তামাশা দেখতে লাগলো। আমি পাশের দালানের চারতলার জানালা থেকে অবাক বিস্ময়ে তা দেখলাম। আমার ধারনা এইসব খানসেনাদের গাড়ি চালানোর বাসনা প্রকাশ করা মাত্র জানালা টেস্ট নেয়া হয়। যারা যারা জানালা টেস্টে পাশ করে তাদের একটা করে বাসের চাবি ধরিয়ে দেয়া হয়- যা বাবা, মেরে খা। আমাদের আধুনিক এই খানসেনাদের উপর বিশাল দায়িত্ব। পুর্বপুরুষদের আধুরা কাজ পুর্ন করা। পুর্বপুরুষরা বাংলাকে মেধা শুন্য করার কাজটা শেষ করতে পারেনি, তার আগেই লোটা-কম্বল নিয়ে ভেগে গেছে। তাই এই খানসেনারা সেটাই নতুন কৌশলে শুরু করেছে। বাসচাপার ভয় দেখিয়ে ভাগিয়ে দেয়া। যে সব অর্বাচিন যাবে না তাদের চাপা দিয়ে মেরে ফেলা। সহজ কাজ, বাধা দেবার কেউ নেই। রাজতন্ত্র যখন পকেটে তখন আর আমাকে থামায় কে?

আমার ভাইয়ের ছেলে আবরার আর তার বাবা-মা সে রকম অর্বাচীন ছিলো, তাই তাকে চলে যেতে হলো। বিদেশে পড়বার সুযোগ ছিলো, চলে যাবার সুযোগ ছিলো- না গিয়ে ছেলেটা এখানে থেকে গেল। এমন বেয়াদবি কি সহ্য করা যায়? খানের মানের উপর হামলা! তাই যা করা দরকার তাই করা হলো। এটাকে বাংলায় বলে ঝিকে মেরে বউকে শেখানো। আর কারো সাহস হবে সুযোগ থাকার পরও সন্তানদের খানেদের রাস্তায় ছেড়ে দেবার? ভাগো ইহাঁসে, ইয়ে মুল্লক তুমহারা নেহি হ্যায়….

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]