অফিস যাত্রীর ডায়েরি… ১৭

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর

রেডু

“মাইর দিলে কয়টা খাইতে পারবেন? একটাও না। বাইন্ধা পিটাইলে? যয়টা দেন, তয়টা।” – আমার অবস্থা সেই রকম। অফিসের পথে বসে আছি গাড়িতে। আপাতত সময় কাটানোর উপায়- রেডিও। এক সময়ের একমাত্র বিনোদন রেডিও, টেলিভিশনের দাপটে মাঝখানে প্রায় মরেই গিয়েছিলো, হাল আমলে এফ এম এর হাত ধরে আবার ফিরে এসেছে। সিডি মারা গেছে (যদিও এখনো তারা বের হয়, কিন্তু অন লাইনের দাপটে তারা এতটাই মৃয়মান যে তাকে বেঁচে থাকা বলে না)। গান শোনার জন্য, বিশেষ করে গাড়িতে, আমার মত অলস লোকদের সম্বল এখন এফ এম রেডিও। কিন্তু সময় সময় এটা অত্যাচারের পর্যায়ে চলে যায়। এই যেমন এখন। হাসান নামের কোন এক লোক পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে কেনাকাটা করছে, বস্তুত বিজ্ঞাপন কিন্তু আর, জে সাহেব ভান করছেন যেন সত্যি কোন শ্রোতার সঙ্গে কথা চলছে। কথাবার্তার ছিরি শুনে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আর কোন উপায় নাই তাই শোনা- নাই মামার চেয়ে কানা মামেই ভালো। এমনিতেই সকালে রাস্তায় বের হলে শুরু হয় ধৈর্যের পরীক্ষা, তার উপর এই সব অর্ধ শিক্ষিত আর জে নামক চিড়িয়াদের উৎপাত। সবাই যে এক রকম তা অবশ্যই না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন কে চিনি যারা রীতিমত খাটা খাটুনি করেন তাদের শ্রোতাদের ভালো কিছু দেবার জন্য। কিন্তু কয়েকজন অখাদ্য। আজকে সকালেরটা সেরকম। সারাদিনে কখনই আয়োজন করে রেডিও শোনা হয় না, যা শোনা হয় তা গাড়িতেই, জ্যামের কল্যাণে। যে জিনিষটা আমার ব্যক্তিগতভাবে অপমানজনক লাগে তা হলো- শ্রোতাদের গাধা ঠাওড়ানো। এমনিতেই আমরা যারা ম্যাংগ পিপল ( আম জনতা) , তাদের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে, আমলা, দোকানী সবাই গাধা হিসাবে বিশ্বাস করে এবং সেই মত আচরন করে। তাই বলে রেডিওর আর জে? এটা বাড়াবাড়ি মনে হয়। যাই দেয় তাই খাই, মানে যে গানই টপ হিট বলে চালায় তাই আমরা শুনি, মানি কি মানি না সেটা ভিন্ন আলাপ। তাই বলে আর জে দের হুদাই প্যাচাল হজম করা? মাঝে মাঝে আর জে ভাষায় বলি- ওভার দা টপ হয়ে যায়। ঢাকায় এখন নাকি ২৩ টা রেডিও চলে। আমি মাত্র ২-৩ টায় ঘোরাঘুরি করি। একটা কারন আমার গাড়িটা পুরানা, সঙ্গের রেডিওটা তাই সব চ্যানেল ধরতে পারে না আর তারচেয়েও বড় কারন চ্যানেলগুলা এমনিতেই চরিত্রহীন- মানে সবার চরিত্রই এক (যার সত্যিকার অর্থে কোন চরিত্র নাই – যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন)। কষ্ট করে নতুন রেডিও কিনে শোনার মত যুৎসই যুক্তি নাই ( আমার কাছে)। তাই মুফতে যা আসে তাই শুনি। অফিস আসা যাওয়ার পথে দিনে ২-৩ ঘন্টা রেডিও শোনা হয়। তা থেকে আমার লব্ধ জ্ঞান- আর জে মানে রেডিও জকিরা আসল জকিদের মতই গাধাদের (মতান্তরে শ্রোতাদের) পিঠে সওয়ার হয়ে রেসের মাঠে ছুটে চলেছেন, তাদের রুচির বিকাশ ঘটাতে।মনে হয় বাংলা ভাষা একটা ফালতু ভাষা, একে ইংরেজির সঙ্গে খিচুড়ি পাকিয়ে জাতে ওঠাতে রেডিওগুলো প্রানপাত করছে,আর বাংলা গান খুবই ফালতু টাইপের। ভাগ্যিস হিন্দি সিনেমার গানগুলো ছিলো বলে রেডিও বেঁচে গেছে, প্রকারান্তে শ্রোতার বেঁচে গেছে। মনে হয় পৃথিবীতে ৬-৭ টা বেশি হলে ১০ টা ইংরেজী গান আবিস্কার হয়েছে। সেগুলো ঘুরে ফিরে শুনিয়ে মুখস্ত করানোটা রেডিওগুলোর পবিত্র দায়িত্ব। জ্ঞান খুবই বাজে পদার্থ- এর ব্যবহার যত কম হয় ততই সবার মঙ্গল। সবচেয়ে সেরাটা হলো- শ্রোতারা সব গরু, ঘাস বিচালী যাই দেয়ে হবে, তাই তারা খাবে। সুতরাং এদের নিয়ে ভাবার কিছু নাই। একবার নামের আগে আর জে যোগ হলেই কেল্লা ফতে, গায়ক নায়ক হবার সব দরজা যাবে খুলে। অনএয়ারে যেমন খুশি বলো যেমন খুশি চলো। আমি নিশ্চিত আমার রেডিও বন্ধুরা এতোক্ষনে ভাবছে- আমার দোকান, আমার মাল, তোমার পোষালে শোন, না পোষালে ভাগো। এত প্যাচালের কি আছে?

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]