অফিস যাত্রীর ডায়েরি…১৮

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর

রোড শো

‘শো মাস্ট গো অন’- সব সময় শোনা কথাটা কে বলেছিলো জানি না, কিন্তু জীবনের সবক্ষেত্রে এটা বেদবাক্য হিসাবে মেনে চলতে চেয়েছি। আমার প্রতিদিনকার অফিস যাত্রায় ট্রাফিক জ্যাম নিত্যসঙ্গী। এটাকে দু’ভাবে দেখা যায়, প্রচন্ড বিরক্তির সঙ্গে, কারন মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে এক, দেড় ঘন্টা সময় লাগাটা কোন সভ্য দেশের লক্ষন হতে পারে না। অন্যভাবে দেখলে এটাই ঢাকাই জীবনের বাস্তবতা, যত অভিযোগই করি না কেন, এর সমাধান আমার হাতে না। তাই এখন আমি বাড়ি থেকে বের হবার সময়ই মন কে বলে দেই, যাই ঘটুক- ‘শো মাস্ট গো অন’। আসলে একটু খেয়াল করলে আমাদের চারপাশে এতো সব বিচিত্র মানুষ এতো ধরনের বিচিত্র কাজ করে চলেছে যে এটাকে অনায়াসে এক ধরনের রোড শো বলা যায়। হয়ত রোড শো-র প্রকৃত যে মানে তা পাওয়া যায় না, কিন্তু তামাশাটা যেহেতু রোডে, একে রোড’ শো বলতে আমার অন্তত কোন বাঁধা নেই। আমার পথের একটা অংশ লেক রোডে পরে। বছরের কোন সময়টায় এ রাস্তায় যাই তার ওপর এর শোভা নির্ভর করে।এখন যেমন এখানে ফুটে আছে লাল কৃষ্ণচুড়া। জ্যামে বসে এর শোভা দেখতে ভালোই লাগে। যেহেতু এ রাস্তায় প্রধানমন্ত্রির চলাচল, তাই এখানকার জ্যামটা কত সময় থাকবে সেটা ধারনা করা কঠিন। কোন দিন খুব দ্রুত পার হওয়া যায়, কোন দিন বসে থাকতে হয় অনেকক্ষন। তখন আর পথশোভায় কুলায় না। তখন মানুষ শোভায় সময় কাটাতে হয়। প্রতিদিন পথে এতো মানুষ শোভার দেখা মেলে যে সেটা একটা রিয়েলিটি শো-র মত হয়ে যায়। গাড়িতে বসে থেকে দু’পাশে দু ধরনের তামাশা দেখা যায়। বামে চলে মোটরবাইক চালকতের খেলা, ডানে চলে গাড়ি চালকদের খেলা। শুরুতে গাড়িগুলো আসে, সার ধরে দাড়ায়। যত সময় যায় গাড়ি চালকরা তত অসহিষ্ণু হতে থাকে। পরে যারা আসে তারা আগে যাবার বাসনায় ডান পাশে নতুন নতুন লাইন তৈরি করতে থাকে। মাঝখানের হলুদ লাইনের পর এতো সারি তৈরি হয় যে উল্টা দিকের গাড়িগুলো চলার জায়গা থাকে না। পুলিশের দাবড়ানি খেলে এই গাড়িগুলো নিয়ম মেনে সার দিয়ে থাকা গাড়িগুলোর ওপর চড়াও হয়। তাদের বাধ্য করে সরে জায়গা দেবার জন্য। আমি এই চালকদের সারিতে আপাত পেশাদার চালকদের পাশাপাশি আপাত শিক্ষিত চালককেও দেখি। আরে বামে চলে অন্য খেলা। মোটরবাইক চালকরা প্রথমে এসে সার দিয়ে দাড়ায়। একটু পরই তাদের উশখুশ শুরু হয়। ইতিউতি তাকাতে থাকে কি করে একটু সামনে এগুনো যায়। আরো সময় গেলে বামের ফুটপাথটা মেপে দেখে। এক সময় তাতে উঠে পরে। তারপরেরটা সেই ভেড়া পালের পথ চলার গল্প। এক জনের পিছনে আরেক জন। যুক্তি সহজ সামনের জন্য করেছে, ধরলে তাকে ধরেন। ওর যদি কোন দোষ না থাকে আমার দোষ হবে কেন? সব দোষ সামনের জনের। এর মাঝে সাইড শো হিসাবে আছেন পথচরীরা। যেই সিগন্যাল ছাড়লো অমনি সবাই হাত তুলে রাস্তা পার হতে রাস্তায় নেমে পড়েন। একটু অপেক্ষা করে সিগন্যাল মেনে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব না। জীবন বাজী রেখেই রাস্তা পার হতে হবে। জীবনের চেয়ে সময়য়ের দামি বেশি। এ কারনেই বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে সামিল হতে পেরেছে। কারন আমরা সবাই সময়কে জীবনের চাইতে মুল্যবান মনে করি…….

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]