অফিস যাত্রীর ডায়েরি… ৭

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর

সাইরেন মাইরেন

সাইরেন শুনলেই আমার খাবারের কথা মনে পড়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশে সাইরেন মহামারি আসবার আগে সাইরেনের শব্দ প্রায় শোনাই যেত না। রাস্তায় কালে ভদ্রে অ্যাম্বুলেন্সের উচুনিচু চিৎকার অথবা ফায়ার সার্ভিসের একটানা বিলাপ। সবচেয়ে পরিচিত সাইরেন ছিলো রোজার দিনে সেহেরি আর ইফতারের সময় জানানো সাইরেন। আহ, সারাদিন অপেক্ষার পর সন্ধ্যায় সাইরেন মানে দারুন সব খাবার… ভাবলেইতো মুখে পানি চলে আসছে। কি সেই কাল ছিলো আর কি একাল- একবারে আকাল, পুরাই মাকাল। এখন ঘরে ঘরে সাইরেন, একেবারে সাইরেনে মাইরেন অবস্থা। সাইকেলে সাইরেন, মোটর সাইকেলে সাইরেন, গাড়ির কথাতো বাদই দিলাম, মানুষ পারলে ঠেলাগাড়িতেও সাইরেন লাগায়। সেদিনের জন্য অবশ্য বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না, অচিরেই আমার ঠেলাগাড়িতেও সাইরেন শুনতে পাবো। সবই ডিজিটাল বাংলাদেশের আশির্বাদ। উন্নয়নের তোড়ে সাইরেনের আকার গেছে ছোট হয়ে, দামও মনে কমে গেছে, না হলে কেন এই মহামারি। এখনতো রাস্তায় বের হলেই আসে, পাশে, সামনে, পিছন থেকে খালি সাইরেনের উচু নিচু চিৎ‌কার। এই যে আজকে বাসা থেকে বের হয়ে যেই না বড় রাস্তায় উঠেছি ওমনি শুনি প্যাঁ….। আশংকা করলাম কোন অ্যাম্বুলেন্স চলেছে রোগী নিয়ে- আহারে সকালের এই সময়টা রাস্তাঘাটে যে অবস্থা। কিভাবে যে হাসপাতালে পৌছাবে। পেছনে তাকালাম, কোন অ্যাম্বুলেন্স নেই রাস্তায়। কিন্তু প্যাঁ প্যাঁ তো চলেছে সঙ্গেই। ওরে, প্যাঁ ডাক ছাড়ছে তো পেছনের ওই পাজেরোটা। কিন্তু ওটা কেন ডাকবে? দেখে তো মনে হয় মাত্র ধোলাইখাল থেকে উঠে এসেছে। সারা বডিতে এতো দাগ, আসল রং কি ছিলো সেটা গবেষনা করে আবিস্কার করতে হবে। আর চার চাকা চলেছে চার দিকে, আমার পেছন পেছন সোজা আসছে কি করে? কিন্তু সবথেকে আশ্চর্যজনক হলো কেন ওটা থেকে থেকে প্যাঁ… করে ডাক ছাড়ছে? আরে, এটাতো নিজেকে ভিআইপি ভাবছে, সবাইকে সেটা জানাতেই এই বিলাপ। কে যায় এমন জিনিষে চড়ে দেখবার জন্য ভালো করে উঁকি দিলাম। কেউ নাই, শুধু ড্রাইভার। হঠাৎ ‌মনে হলো এটা নিশ্চয়ই- “দারোগার যে নায়ের মাঝি, তার যে গুছায় কাছি, তার বাড়ির ধারে আমি আছি”- ভিআইপি। ঢাকায় এখন অনেক ভিআইপি, বিভিন্ন সাইজের, বিভিন্ন দরের, বিভিন্ন কদরের। পশ্চাতে সাইরেনে প্যাঁ প্যাঁ শুনতে শুনতে সিগ্যনালে এসে আটকে গেলাম। দেখি সবাই গাড়ি বন্ধ করে বসে আছে। সময় লাগবে বোঝা গেলো। আমিও গাড়ি বন্ধ করে থিতু হয়ে বসলাম। কখন এই অপেক্ষার শেষ কেউ জানে না। এর মাঝে, পেছনের ভিআইপি ভাই একটু পরে পরে প্যাঁ করে সাইরেন বাজাচ্ছেন। যেন বাংলা সিনেমার মৃত্যুপথযাত্রী নায়ক, গুলি খেয়েও একটু পর পর মাথা উঁচু করে এক একটা ডায়লগ দিয়ে জানাচ্ছেন তিনি আছেন, এখনো বেঁচে আছেন। সামনের রাস্তা বন্ধ করা ভিআইপি-র মত এতোটা ক্ষমতাসালী না হলেও তিনিও ভিআইপি বটে। রবি ঠাকুরের কাদম্বিনীর মত, মরিয়া প্রমান করিবেন তিনি মরেন নাই..

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]