অফিস যাত্রীর ডায়েরি… এক

ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর

১৮৭৮ সালে রবীন্দ্রনাথ যাত্রা করেন ইউরোপের পথে, তার ফলে আমরা পেয়েছি ইউরোপ প্রবাসীর চিঠি আর ইউরোপ যাত্রীর ডায়রীর মত অসাধারন সব ভ্রমন কাহিনী। তখন ইউরোপ যেতে জাহাজই ছিলো সবচেয়ে দ্রুতগামী বাহন। তাই ডায়রী লেখার বিস্তর সময় পাওয়া যেত। কখনো ভাবিনি ২০১৮ এ এসে আমারও তেমনি ডায়রী লেখার ফুরসত হবে।
আমার এ ডায়রী – একজন অফিস যাত্রীর ডায়রী। ফেসবুকের জমানায় ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া পোস্টিং…
আমার বাড়ি থেকে অফিস মেরে কেটে সাত কিলোমিটার হবে, এ পথটুকু পারি দিতে কেটে যায় এক-দেড় ঘন্টা। শুনেছি আম্রিকায় মানুষ নাস্তা খেয়ে কুলিটা ফেলে এ দুরত্বে (সংবিধিবদ্ধ সর্তকিকরন- শোনা কথায় কান দিতে নেই- তা গুজব বলে প্রমান হয়)। সকালে আমার নাস্তা করে কুলি ফেলার বিলাসিতা করার সুযোগ থাকে না। পাঁচ মিনিট আগে বের হতে পারলে একঘন্টার যাত্রা, পাঁচ মিনিট পরেই সেটা দেড়ঘন্টা হয়ে যায়।
এ রকমটা সাধারণত ঘটে থাকে পরাধীন দিনগুলোতে, মানে যে সব দিনগুলোতে আমরা মোটামোটি অনিচ্ছায়, পুলিশের চোখরা‍ঙ্গানিকে পাত্তা দিয়ে রাস্তার আইন-কানুন মেনে চলার চেষ্টা করি। এবং ডেমোগ্রাফিক জিভিডেন্টের যাঁতাকলে পিস্ট হয়ে কচ্ছপে পরিনত হই। এর বাইরে আরো দুধরনের দিন ঢাকায় আমরা পাই। এক হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস, যে দিন আমরা সত্যিকারের স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে মুক্তির আস্বাদ গ্রহন করি এবং সেই মত আচরন করি। সব রাস্তাকে নিজের বাপের রাস্তা মনে করে যেভাবে মন চায় সেভাবে ছুটি- অথবা এক জায়গায় বসেই দিন পার করে খুশদিলে কোথাও যেতে না পেরে ঘরে ফিরি। আরেকটা হচ্ছে ভয়াল দিন- যে দিন রাস্তা থাকে নিরিবিলি, ১০ মিনিটে পৌছে যাই গন্তব্যে। যেতে যেতে ভাবি হচ্ছেটা কি? বড় কোন সমস্যা হয়েছে কোথাও, অনেকটা কুকুর এবং ঘি-ভাতের গল্পের মত। জ্ঞানীলোকেরা অবশ্য এসব দিন আগাম বলে দিতে পারেন- অমুক দিন আমাদের রক্ষাকর্তাদের বিদেশ সফর দিবস অর্থাৎ ভয়াল দিবস। ভবিষ্যত বক্তার সব বানী যেমন ফলে না তেমনি এটাও সবসময় হয় না…
এরপরো আমার দিন শুরু হয় এশহরে- যেখানেসকাল মানেই জান প্রানে ছুট।
তারপরো বলি – আহারে জীবন, বড় সুখের জীবন….(চলবে)

ছবি: লেখক