অবিনাশী কাল নাটক আমাদের অসুখের ইতিহাস

নাটক প্রসঙ্গে শত বছরের এক ভয়াবহ মহামারীর সাক্ষী আমরা এই সময়ের মানুষ। বিজ্ঞানের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি, উর্দ্ধমুখী উন্নতি ছাপিয়ে আমরা সাক্ষী হয়ে রয়েছি এক ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের। মানবিক ও সামাজিক সংকটের। একদিকে সারি সারি মৃত্যু, অন্যদিকে মানুষের অমানবিক পতন। বিপরীতে শেষ পর্যন্ত মানুষের অদম্য চেষ্টা আর মানবিকতা বোধেরই জয়। লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, ভেন্টিলেশন ইত্যাদি দুর্বিষহ পরিবেশে বসে রচিত এ নাটকে ধরে রাখা হয়েছে শুধু তাৎক্ষণিক অনুষঙ্গগুলিই। যা হয়তো একদিন ইতিহাস হবে, অথচ সভ্যতার জন্য তা ছিলো টিকে থাকার লড়াইতে।

কুশিলব মঞ্চে ছিলেন, অনিরুদ্ধ কুমার ধর, জুয়েল দাস, অদ্বিতীয়া ধর, বর্ষা রায়, তন্বি পাল, উর্মি বড়ুয়া, তুষ্টি রায়, শক্তি রানী দাস, দৃষ্টি, তানজিয়া আহমেদ, শাহ মোঃ রাসেল, মঞ্চের বাইরে যারা ছিলেন তারা হলেন, আলোক ও মঞ্চ পরিকল্পনায় জুনায়েদ ইবনে ইউসুফ। পোশাক পরিকল্পনা ও সংগীত পরিকল্পনায় নুসরাত জাহান জিসা।  আলোক প্রক্ষেপণে মোঃ শাহজাহান মিয়া আবহ সংগীত পরিচালনায় দিব্যেন্দু পাল ভিডিওগ্রাফীতে মাঝহারুল ইসলাম স্থির চিত্রে সুপ্রিয় চক্রবর্তী। মিলনায়তন ব্যবস্থাপনায় আজহারুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ,ইমন দাস,খান নিশো,জীনাত জাহান নিশা।

নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক অনিরুদ্ধ কুমার ধর বলেন, মহামারীকালে প্রায় স্থবির হয়ে পড়া দেশের নাট্যদলগুলোকে আবার সচল করার চেষ্টায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আর্ট বিপরিত করোনা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় দেশের ৩৫০ টি নাট্যদলকে স্বল্প ব্যয়ে নতুন স্থানে নতুন নাটক মঞ্চায়ন শীর্ষক কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী নাটকের দলগুলোতে জন্ম নিয়েছে প্রাণ চাঞ্চল্য।।মঞ্চকর্মীরা ফিরে পেয়েছে উদ্দীপনা। এই অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেয়ার জন্য আন্তরিক অভিবাদন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও এর মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকীর প্রতি।

মহামারীর প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণির মুখোমুখি বাংলাদেশের থিয়েটার চর্চায় নতুন যুগের সূচনা করলেন তিনি। এই কর্মসূচির আওতায় আমরা জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠী হবিগঞ্জ মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছি রুমা মোদক রচিত ও অনিরুদ্ধ কুমার ধর নির্দেশিত নাটক অবিনাশী কাল।জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠীর নবনির্মিত স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রথমবারের মতো নাটকটি প্রদর্শিত হবে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের যে এর মাধ্যমে হবিগঞ্জে একটি নতুন মঞ্চের অভিষেক হতে যাচ্ছে হবিগঞ্জের নাট্যাঙ্গনে।আমরা প্রত্যাশা করি এর মাধ্যমে হবিগঞ্জের থিয়েটার চর্চা বেগবান হবে।

নাট্যকার রুমা মোদক বলেন, তখন প্রতিদিন মিডিয়া জুড়ে মৃত্যুর মিছিল আর বিশ্বময় মহামারী ঘিরে নানাবিধ সংকট। মৃত্যুভয়াক্রান্ত প্রতিটি মূহুর্ত মৃত্যু আর আক্রান্তের খবরে বিভীষিকাময়। আত্মীয় স্বজন পরিজন নিয়ে অনিশ্চিত বেঁচে থাকা দিন। এর মাঝে খবর হয়ে উঠে চিকিৎসা, মানবিক, সামাজিক সংকট।মানব সভ্যতার চরম পরীক্ষার কাল। মৃত্যু, আতংক,ভয় আর দুঃসহ সময়ে বসে লেখা এ নাটক।কলম চলেনি। শব্দরা অবরুদ্ধ, থ মেরে থেকেছে ভেতরে।নিজেকে দুমড়ে মুচড়ে নিংড়ে লেখা এ নাটক।লিখেছিলাম শতাব্দীর ভয়াবহ এই সময়কে ধরে রাখার সামান্য চেষ্টা হিসেবে। ‘অবিনাশী কাল’ সেই নাট্যভাষ্য, মহামারীর নির্দয় কালে যা কিনা আমাদের সভ্যতাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় অজস্র আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি। এক ক্ষুদ্র ভাইরাস দেখিয়ে দিয়ে যায় কতো তুচ্ছ মানুষের বড়াই। আর সবকিছু ছাপিয়ে তবু সকল বিপন্নতার মুখোমুখি মানবতার জয়ই আদি থেকে মানুষের শেষ কথা।

নান্দনীক প্রতিবেদক


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box