অভিনেতার মৃত্যু নেই

আজ ছোট অথবা বড় কোন পর্দায় দেখা যাবে না হুমায়ূন ফরীদির অনবদ্য অভিনয়। কানে বাজবে না তাঁর সেই প্রাণখোলা হাসি,তাকে দেখা যাবে না ধানমন্ডীর বাড়িতে বসে থাকতে একা। নেই হুমায়ূন ফরীদি, ২০১২ সালে ফাল্গুন মাসের জন্মকালে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। আজ এই মানুষটির ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ফরীদি ভাই শুনলে হয়তো হেসে বলতেন, মৃত্যুর আবার বার্ষিকী হয় নাকি! আমরা তো ক্রমাগত মৃত্যুর দিকেই চলেছি।
কবি আবুল হাসানের কবিতায় আছে, ‘আমি চলে গেলে সত্যিই কী ফুরাবে সব?’ অভিনেতা অথবা মানুষ হুমাযূন ফরীদির অনুপস্থিতিতে কি সত্যিই সব শেষ হয়ে গেছে? একজন অভিনেতার তো মৃত্যু নেই। হুমায়ূন ফরীদি আজও গভীর ছায়া ফেলে রেখেছেন আমাদের অভিনয়ের জগতে। পরিচালক, অভিনেতাদের আরও অনেক বছর শুনতে হবে হুমায়ূন ফরীদি ছাড়া এই চরিত্রে আর কাউকে অভিনেতা হিসেবে ভাবা যাচ্ছে না।
বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চে সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। অর্জন করেছেন দেশ-বিদেশের লাখো-কোটি ভক্তের ভালোবাসা। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এই অভিনেতা ক্রমাগত নিজের কাজ দিয়ে যেন অতিক্রম করে গেছেন নিজেকেই। নায়ক থেকে শুরু করে খল নায়ক, চরিত্রের নানা ডাইমেনশন তাঁর অভিনয়ের জাদুস্পর্শে আলোকিত হয়ে উঠেছিল, তাঁর ভক্ত, দর্শক আর সমালোচকদেরও মুগ্ধ করে রেখেছিল।
১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন দ্বিতীয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ফরীদি নাট্যচর্চার পুরোধা ব্যক্তিত্ব নাট্যকার সেলিম আল দীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
১৯৭৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নাট্য উৎসব আয়োজনেরও প্রধান সংগঠক ছিলেন ফরীদি। এ উত্সবের মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্গনে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি গড়ে ওঠে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা থিয়েটারের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশে একজন মেধাবী ও শক্তিমান নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে যে আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন ফরীদি, তাঁর সেই উচ্চতায় এ দেশের খুব কম মানুষই পৌঁছতে পেরেছেন।

হুমায়ুন ফরীদি মঞ্চ  টিভি ও সিনেমায় অভিনয় করে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নির্মাণে সক্ষম হয়েছিলেন। ফরীদি তাঁর কয়েক দশকের কর্মময় জীবনে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফরীদি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘শ্যামল ছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘আহা!’ , ‘হুলিয়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘দহন’, ‘সন্ত্রাস’, ‘ব্যাচেলর’ প্রভৃতি। উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল নকশার সন্ধানে’ (১৯৮২), ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ (১৯৮২), ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ (১৯৮৩), ‘ভবের হাট’ (২০০৭), ‘শৃঙ্খল’ (২০১০) প্রভৃতি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’ নাটকে ফরীদির অনবদ্য অভিনয়ের কল্যাণে ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

বিনোদন প্রতিবেদক
ছবিঃ গুগল