অমলকান্তি রদ্দুর হতে চেয়েছিল…

চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।আলোকিত কবিতার পংক্তি ছেড়ে উঠে গিয়ে দাঁড়ালেন অন্ধকার বারান্দায়, চলে গেলেন তাঁর অমলকান্তির রদ্দুর, কলকাতার যিশু আর কলঘরে চিলের কান্না ফেলে। আজ বড়দিনের ভোরে কলকাতার একটি হাসপাতালে চোখ বন্ধ করলেন কবি ৯০ বছরে পৌঁছে। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন অনেক দিন ধরেই।কলমও বন্ধ হয়েছিলো আগেই। এবার বিচ্ছেদ চিরকালের। কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে গান স্যালুটে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে।

তিনি চলে গেলেন। রয়ে গেল সারিসারি কাব্যগ্রন্থ, অসংখ্য অনুবাদ, লেখা, ভাবনা আর অগণিত সাহিত্যপ্রেমী। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে বারোটায় ঘড়ির কাঁটা আটকে রইল, সাহিত্যের ক্যালেন্ডারে একটি দিন থমকে গেল।

প্রথম বই ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’।নক্ষত্র জয় করা হয়নি হয়তো কিন্তু কবিতার পাঠকের মন জুড়ে ছিলেন তিনি। তাঁর লেখা ‘উলঙ্গ রাজা’, অমলকান্তি, ‘কলকাতার যিশু’ অথবা ‘কলঘরে চিলের কান্না’ কবিতার কথা ভোলা সম্ভব নয়। বাংলা কবিতায় দীর্ঘ সময় ধরে এক আশ্চর্য শান্ত অথচ ভিন্ন অনুভূতিময় জগৎ তৈরী করেছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সেসব কবিতা পাঠককে নিয়ে গেছে শীতল আগুনের মধ্যে। সে আগুনে দহন আছে কিন্তু চিৎকার ছিলো না।

শিশুদের জন্য কলম ধরেছিলেন কবি। সম্পাদনা করেছেন কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত আনন্দমেলা পত্রিকা।

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কবির শেষকৃত্য হবে উত্তর কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে।

কবির দুই মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েরা বিবাহিত। গত বছর স্ত্রীর মৃত্যর পর একা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা

ছবিঃ গুগল