অর্ঘ্যের সুরভী 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

ফারহানা ফিরু

সাদা নয়নতারা ফুলের মত দেখতে মেঘরাশি ছেয়ে থাকা নীল আকাশের দিকে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে আছে সুরভী। অশীতিপর একটা বটগাছের নীচে গাছের গোড়ায় হেলান দিয়ে বসে আছে সে। গাছের কচি কচি সবুজ পাতা জড়ানো একটা ছোট ডাল দু’হাতে একবার ডানে আরেকবার বামে নাড়াতে নাড়াতে চাতক পাখির মত এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে কোন অংকের হিসেব যে সে করছে তা সেই জানে আর জানে উপরওয়ালা।

দুপুরের খানিকটা পর কিছুটা হেলে পড়া রোদের চনমনে আলোর ছটায় কলাপাতা আর গোলাপী রঙ এর সালোয়ার কামিজ এ যেনো টকটকে একটা মরুগোলাপের মতো দেখতে লাগছিলো সুরভীকে। মাথার একপাশের চুলে ঢেকে যাওয়া কিছুটা কপাল আর কপোলের আঁধার কোণ থেকেও যেন সূর্যের আভা আঁছড়ে পড়ছিলো একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ঘ্য এর দু’চোখে।

অর্ঘ্য আর সুরভী একই এলাকার। অর্ঘ্য মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ছে আর সুরভী এলাকাতে একটি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে। এলাকার নাট্য গ্রুপে ওরা বেশ এক্টিভ আর তুখোর কর্মী।

কিছুক্ষনের জন্য অমন অবস্থাতেই অর্ঘ্য তার বিস্ময়ভরা মুগ্ধতা নিয়ে সুরভীর দিকে চেয়েই রইলো। এরপর ধীরপায়ে সুরভীর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। সুরভী বিন্দু মাত্র বুঝতে পারলো না যে কেউ একজন এসে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। অর্ঘ্য এবার আরেকটু সামান্য কাছে গিয়ে সুরভীর আনমনা আকাশ দর্শন অবলোকন করতে লাগলো। অর্ঘ্য ভেবেছিলো সুরভী হয়তো এরই মধ্যে টের পেয়ে তার দিকে তাকাবে। কিন্তু না, সে অপলক দৃষ্টিতে আকাশ এর দিকে তার দৃষ্টি আটকে রইলো।

কিছুটা সময় যেতেই সুরভী আকাশ থেকে চোখ সরিয়ে অলসভাবে একপাশ থেকে অন্য পাশে দৃষ্টি নেয়াতেই যেন হঠাৎ করে ওর ঘোরটা কেটে গেলো আর চমকে উঠে বললো, ও মা! অর্ঘ্য দা, তুমি? কখন এলে? টের পেলাম না যে! ডাক দিয়েছিলে? শুনিনি নাকি?

অর্ঘ্য সামান্য হেসে উত্তর দিলো, নীল আকাশে কৌতুহল ভরা মুগ্ধতায় চুর হওয়া ভ্রমণকারিনীর বিভ্রম ঘটাতে চাইনি যে।

সুরভী অবাক হয়ে হেসে আবার জিজ্ঞেস করে, মানে?

তুমি আকাশে নাকি মেঘের ভাঁজে কী যেনো খুঁজছিলে। প্রশ্ন ছিলো তোমার চাহনিতে। এই অবেলায় তোমার অমন আকাশ গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটাতে চাইনি। তাই তোমাকে না ডেকে না সাড়া দিয়ে চুপটি করে এসে তোমার পাশে দাঁড়িয়েছি। সিম্পল ব্যাপার। আর এছাড়াও, কল্পকথার ছাঁচে ঢালা তোমার হৃদয় হরণ করা চাহনি স্বয়ং ঈশ্বরও যে ভাঙতে চাইবে না। সেখানে এই নগন্য আমি ধৃষ্টতা দেখাই কী করে বলোতো?

— অর্ঘ্য দা, আচ্ছা বলোতো, এতো দারুণ করে বলো কীভাবে তুমি? কাব্য কি তোমার মুখে লেগেই থাকে? কী করে পারো বলোতো এতো উপমা দিতে! এতো কথা মাথায় থাকে একসঙ্গে তোমার! কথাতো নয় যেনো ফুলের মৌ মৌ সুবাস ভরা বাগানে ভমরার তালে তালে গুঞ্জন। সুগন্ধিও আছে আবার সুরও। দারুণ কম্বিনেশনে কথা তোমার অর্ঘ্য‘দা। মনে হয় যেন সারাক্ষণ এই সুবাস ছড়াতেই থাক আর মাতোয়ারা হয়ে আমি কেবল মেখেই যাই তোমার কথার সুবাস।

সুরভীর এমন কথায় অর্ঘ্য কিছুটা হতচকিত হয়ে যায়। সুরভীর চোখে এটা ধরা পড়াতে সুরভী সামান্য লজ্জা পেয়ে কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অর্ঘ্যও চট করে বলে ফেলে, কথা বলাতেতো তুমিও পটু। আমাদের মঞ্চ নাটকগুলোর ডায়ালগ তোমার মুখস্ত করা লাগেনা। একবার চোখ বুলালেই গড়্গড় করে সব বলে ফেলো। স্টেজের পেছন থেকে প্রমট করতে হয় না তোমাকে। আবার পাখির মতো আবৃত্তিও করে যাও, ঝর্ণাধারার মতো গেয়ে যাও। সুগন্ধি ছড়ায় তোমার নাটকের কাজে, তোমার কথা বলায়, চলায়, তোমার মনে, আসলে সৌরভ তোমার আত্মায় মিশে আছে। তাইতো তুমি কারো সম্পর্কেই মন্দ বলোনা। সবার সঙ্গে দারুণ ভাবে মিশে যাও। সব সময় হাসি খুশি থাকো। তোমার উপস্থিতিতে নাট্যগ্রুপে একটা দোলা আসে, সবাই চাঙ্গা হয়ে রিহার্সাল করতে থাকে। তোমার গান শোনার জন্য নিক্কন গানপাড়া স্কুল থেকে যোতিন গুরু গানের আসর জমাতে আসে। অথচ কত আঘাত এসে ক্ষত বিক্ষত করতে চাইলো নিষ্ঠুর বাস্তবতা! আসলে তুমি হচ্ছো একটা সাগরের মতো। সাগরে জোয়ার আসে ভাটা আসে। তাও সাগরের ঢেউ এর আছড়ে পরা বন্ধ হয় না। আর কেউ বুঝতে পারে না এই জল কান্নার নাকি আনন্দের। তোমার জীবনে কত জোয়ার ভাটা এলো। এরপরও তুমি হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতিতে তোমার চারপাশ মাতিয়ে রাখো, চরিত্রের প্রয়োজনে আনন্দে হাসো কাঁদো কখনো কষ্টে হাসো কাঁদো, তোমার মঞ্চের অভিনয়ে আমরা হাততালি দেই, খুশি হই, ব্রাভো ব্রাভো বলে উঠি। তোমার সফল অভিনয়ের স্বীকৃতির আনন্দের ধারায় আমরা সকলেই সিক্ত হই। এরপরও আমরা কি ঠাহর করতে পারি কোনটা তোমার আসল আনন্দ কোনটা কৃত্রিম?

সুরভীর দু’ চোখে জল টলটল দেখে পরিবেশটার মোড় অন্যদিকে ঘুরাতে অর্ঘ্য তাড়াতাড়ি একটা কাগজ সুরভীর দিকে ধরে বললো, নাও, এই লিরিক্সটা নাও। হঠাৎ আনমনে অনুভূতিতে টান লাগায় চোখের পানি জলদি করে মুছে হাল্কা হেসে সুরভী বলে, তোমরা যে কী না! কাজ দিয়ে সময়ই দাও না। এক্ষুণি চাই তো এক্ষুণি দাও। যত তাড়া কেবল তোমাদেরই। আমার মাথা খাটার বুঝি দরকার পড়েনা? মুড লাগবে না বুঝি? হাসতে হাসতে অর্ঘ্যও বলে, এক ঘন্টার মধ্যে সুর করে দাও
প্লিজ। আজকে সন্ধ্যায় নাটক রিহার্সেলে নাটকের পরিচালক রিন্টু ভাইয়া এই গানের সুর তোমার কাছ থেকে চেয়েছে। জানি এটা করতে তোমার সময় লাগবেনা। তুমি লিরিক্সটা পড়ো, সুর করো। আমি একটু সামনে নদীটার দিকে গিয়ে কয়েকটা ছবি তুলে আসি বরং।

কাগজটা হাতে নিয়েই হঠাৎ করেই সুরভীর মুখ থেকে স্মীত হাসির ছটাটা দমকা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো মুহুর্তেই। চোখ দুটো সরিয়ে দূরে আকাশের সীমানায় থিত করে উদাসী হয়ে কিছুটা অভিমানী সুরে বললো, অর্ঘ্য দা, তুমি আমায় অনেক বোঝো। আমি ধন্য এতেই। কতো কষ্টের দিনগুলোতে আমাকে বুঝিয়েছো, সামলিয়েছো। আর যে ক’টা গানে সুর দিয়েছি ওগুলো যে তোমরা গ্রহন করেছ এই অনেক আমার জন্য। আবার লিরিক্স এনেছো বিশ্বাস হচ্ছে না। আমার সুরে গান হয়! আমার কথা আবার সুবাস ছাড়ায়! সাগরও বললে আমায়! সাগর যে বিশালতার প্রতীক। কিন্তু আমিতো অনেক তুচ্ছ আর অপয়া মেয়ে একটা অর্ঘ্য  দা। আমার নামটা কেন যে মামি সুরভী রাখলেন! কোনও সৌরভই নাই আমার। নাই সৌরভ কথায়, নাই চলায়। আমি পুরোটাই মলিনতার মূর্তি। একদম ঝিমিয়ে পড়া নির্জীব কদাকার একটা নাম আমার। হঠাৎ করে ফুঁপিয়ে উঠে কাঁদতে কাঁদতে সুরভী বলে, দেখো না বাবা মা চলে যায় আমি পৃথিবীতে আসার এক মাসের মাথায়। মামার চাকরি চলে যায় মামী আমাকে তার বাসায় আনার বছর খানেকের মধ্যে, মামাতো বোন তিনটাই আমার থেকে ছোটো। আমি উনাদের বাসায় থাকাতেই মামীর তিন তিন টা মেয়ে হলো। একটা ছেলে হয়নি দেখে মামার মন্টা খারাপ থাকে। আমি না এলে হয়তো মামীর একটা না একটা ছেলে হতোই। মামা ব্যবসায় মাঝে মধ্যেই অনেক লোকসান করেন, সব আমার জন্য। আমার হাতে গন্ধরাজ, বেলী, রজনীগন্ধা, হাস্নাহেনার মত ফুল্গুলোর গাছ বেশি দিন বাঁচে না। কেবল নয়নতারা আর টগরই হয়, যার গন্ধ পুরোই তিতকুটে। আমি একটা অচ্ছুৎ মেয়ে অর্ঘ্য দা, আমার কাছে এসো না। আমার সংস্পর্শে তোমার অমঙ্গল হোক আমি এটা সহ্য করতে পারব না। তুমি চলে যাও প্লিজ।

অর্ঘ্য সুরভীর পাশে বসে কথাগুলো শুনছিলো।  সুরভীর কান্না জড়ানো কথা শুনেই সুরভীর মুখের সামনে এসে হাঁটু ঠেকিয়ে বসে সুরভীর হাতে থাকা পাতা মোড়ানো ডালটি নিজ হাতে নিয়ে একপাশে সরিয়ে রেখে সুরভীর হাত দু’টো নিজ হাতের মুঠোতে নিয়ে অর্ঘ্য বল্লো, সুরভী, আমি সব জানিরে মেয়ে, সব জানি। ওসব নিয়ে ভাবতে তোমাকে বারবার বারণ করেছি। ওসব নিয়ে পড়ে থাকো বলেই তোমার মন  উদাস, আনমনে থাকে। ওসব কাকতালীয় ঘটনাগুলো নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিও না। মামা মামি তোমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে, কাজিনরাও আপন ভাবে তোমায়। জীবনে সবার চড়াই উৎরাই থাকে, এর জন্য নিজেকে দোষী করোনা সব সময়। এসবে ডুবে থাকো দেখেই তোমার চঞ্চলা উৎফুল্ল মনটা দিন দিন শুষ্ক, ভারী আর স্থির হয়ে যাচ্ছে। আমি তোমার পাশে আছি সুরভী, সব সময় থাকবো। তুমি উপরওয়ালার আশীর্বাদ নিয়ে আসা একটা পবিত্র মেয়ে। তোমাকে বিচলিত অবস্থায় কখনো রেখে গেছি আমি? কেন এতো চিন্তা করো? তুমি ডেকেছো আমি সাড়া দেইনি এমনটা হয়েছে কখনো? ভরসা রাখো। তুমি লক্ষ্মী একটা মেয়ে।

অর্ঘ্য তার ডান হাতের আঙুল দিয়ে সুরভীর চিবুকটা তুলে ধরতেই সুরভী নিষ্পাপ শিশুর মত অর্ঘ্যের বুকে  ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকে। অর্ঘ্যও সুরভীকে তার বাহুডোরে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে থাকে আর বলে, পাগলী একটা তুমি। উল্টাপাল্টা চিন্তা করে অবেলায় একা একা কষ্ট বিলাস করা হচ্ছিলো তাহলে! তা আমাকে একটু ডাকতে, তুমি কষ্ট বিলাস করতে আর আমি আমার মোবাইলে কষ্টগ্রাফি কর‍তাম একটু। এই বলেই দু‘জনেই হা হা করে হেসে উঠে।

অর্ঘ্য সুরভীর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে, শোনো মেয়ে, তুমি হলে অস্থির হরিণী, এলোমেলো ঝোড়ো হাওয়া, আছড়ে পড়া তুমুল ঢেউ এর মালা, কুসুম কোমল শুভ্র ফুলের পাপড়ি, তুমি প্রেমের টর্নেডো, তুমি সুরেলা চটুল পাখি, তুমি বিস্তৃত নীলাকাশ যেখানে উড়বে শুধুই অর্ঘ্য নামের এলোমেলো একটা ক্ষ্যাপাটে পাখি। তুমি আমার সুরভী। বুঝেছো?

ততোক্ষণে পশ্চিমাকাশ খেলে উঠেছে সিঁদুর রঙা খেলায়। সূর্য বিদায় নিতে নিতে সুরভী অর্ঘের বাম হাতের তালুটা নিজের ঠোঁটে ছুঁয়ে দিয়ে বলে, আমাকে তিনটা দিন মাত্র সময় দাও, তুমি ছাড়া চলতে আমার ভীষণ বেসামাল লাগে থেকে থেকে, আমাকে নুয়ে এসো তোমার বাড়ি,  মামা মামিকে বোলো,সবাইতো জানেই আমাদের বিষয় টা। অর্ঘ্য তার গালে হাত দিয়ে স্পর্শ করে বলে, একটুও দুশ্চিন্তা কোরোনা, পরশু বাদে পরদিনই আমার বাবা মা তোমার মামার বাড়ি আসবে আমাদের ব্যাপারে কথা বলতে। সেদিনের মতো তাদের আবেগী মিষ্টি আলাপ পশ্চিমাকাশে লালীমার আভার সাথে সাথে মিলিয়ে গেলো, ছড়িয়ে গেলো দু’ টি অন্তরের অন্তরীক্ষে।

দু’দিন পর হঠাৎ করে বিকেল বেলা অর্ঘদের নাট্য গোষ্ঠীর এক কর্মী শিপলু দ্রুত সাইকেল চালিয়ে এসে ওদের নাটক রিহার্সাল রুমে দৌড়ে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলে,  অর্ঘ ভাইয়া, কী হচ্ছে? আপনি এখানে কী করেন? আর সুরভী ওদিকে! সুরভীর বিয়ে হচ্ছে কেন? আপনাদের মাঝে কী হলো, কখন হলো?

হুট করে মনে হলো অর্ঘ এর চোখে কালো কালি গুলোনো ধোঁয়া কেউব ছিটিয়ে দিলো আর পায়ের নীচ থেকে চোরাবালী এক লহমায় সরে গেলো। কয়েক সেকেন্ড নিজের দু’হাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরে মুহুর্তেই শিপলুর সাইকেলটা টেনে নিয়ে চালিয়ে গেলো সোজা সুরভীর মামা বাড়ি। গিয়ে দেখে মাত্র ১৫-২০ জন বাসায়, কোথাও কোনও সাজসজ্জা নাই, বিয়েবাড়ির বিন্দুমাত্র হট্টোগোল নাই। শুধুই থ‘ বনে দেখতে দেখতে বুঝতে বাকী রইল না সুরভীর বিয়েটা হয়েই গেলো মাত্র।

উঠোনের পেয়ারা গাছের ডালের ফাঁক গলে সুরভীর ঘরের দরজার পর্দা বাতাসে দুলে উঠলে বিছানায় বসে আছে কনের সাজে সুরভী আর তার হাত ধরে বসে হেসে হেসে গল্প করছে বিয়ের পাত্র সেজে এক সুঠাম দেহী সুপুরুষ।  বাসার সবার হাঁটাচলা দেখে মনে হলো এক্ষুণি বর কনেকে নিয়ে মানে সুরভীকে নিয়ে বিদায় হবে। কারণ সুরভীর মামী জোরে জোরে বলছে, সব কাপড় দিয়ে দিলাম সুরভী, আজই তুই রাজ প্রাসাদে রাত কাটাবি, বুঝে শুনে শাড়ি কাপড় পরিস। আরো বলে, তোর কপালে রাজ কুমার আছে আমার মনেই হচ্ছিল। মামা মামী, কাজিনদের দেখে খুব খুশি মনে হচ্ছিলো।

সুরভীর মামা, বড় কাজিন অর্ঘকে দেখেই তাকে উঠোন থেকে বারান্দায় উঠে আসতে বলে। অর্ঘ বারান্দা হেঁটে ঘিরে এলে সুরভীর মামা পাত্রের সঙ্গে অর্ঘ এর পরিচয় করিয়ে দেয় পাড়ার খুব ভালো একজন মেধাবী ছাত্র আর গুণী নাট্য মঞ্চকর্মী হিসেবে। পরিচয়ের এই ফাঁকে অর্ঘ্য সুরভীকে দেখে বেশ কয়েকবার। সুরভীকে কলাপাতা রঙটা এতো মানায়না! বলার বাহিরে। একদম বৃষ্টি ধোয়া প্রকৃতির দেবী লাগছিলো দেখতে ওকে। আর মনে হচ্ছিলো, লাল পদ্ম হয়ে মাঝে মাঝে প্রকৃতিতে রোশনাই ছড়াচ্ছে। পরক্ষণেই মনে হলো, আহা! এমন রাজকন্যারতো আসলেই একটা রাজ প্রাসাদই দরকার। অর্ঘ এর না আছে রাজার হাল না আছে প্রাসাদ, আছে মাঁথা গুঁজার মতো বৃষ্টির ছন্দে ছন্দায়িত হওয়ার মতন বাসা আর রেঁধে খাওয়ার যাবতীয় সুবিধা। ওতে কি আর রাজ কন্যা মানায়! মানায়না তো।

চোখের পলক হাতে গোনা কয়েকবার ফেলতে না ফেলতেই সুরভী চলে গেলো ঢাকা, লালবাগ, ওর শ্বশুর বাড়ি। অর্ঘ ওর কাজ নিয়ে গ্রামেই দিন কাটাতে লাগলো। একটাবারও আর সুরভীর খবর নিতে চায়নি কারো কাছে থেকে। কেনো সে অর্ঘকে কিছু না জানিয়ে অন্য জায়গায় থিত হলো, কেমন যাচ্ছে দিন সংসারে সুরভীর এসব কোনও কিছুই না।

পেরিয়ে গেলো প্রায় পাঁচটি বছর। এরপর একদিন, ঢাকার শিল্পকলায় মঞ্চ নাটক এর এক প্রদর্শনী নিয়ে অর্ঘ্য ঢাকায় এলে শিল্পকলার মঞ্চের গ্রীণ রুমে যখন অর্ঘ কস্টিউম নিচ্ছিলো তখন একজন পঞ্চাশোর্ধ স্বাস্থবান পুরুষ তার দিকে বেশ কৌতুহলী চাহনি নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে আসছে। চোখে চোখ পরতেই চিনতে ভুল হলোনা অর্ঘের ইনি সুরভীর স্বামী। কিছু বলতে না বলতেই ভদ্র লোকটি অর্ঘকে বললেন, মঞ্চ নাটক শেষে যেন অর্ঘ উনাকে কিছু সময় দেন কিছু কথা বলার জন্য। অর্ঘ অবাক হয়ে গেলেন, কোনও হিসেব মেলাতে পারছেন না ইনি এখানে তার কাছে কেন! স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলো অর্ঘ, সুরভী আসেনি? অর্ঘকে অবাক করে দিয়ে  উনি গ্রীণ রুমের নীরবতা ভেঙে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে অর্ঘকে শুধু এটাই বারবার বলেন যে মঞ্চায়ন শেষ হলেই যেন কিছু সময় দেন অর্ঘ উনাকে। অর্ঘ ভদ্র লোকটিকে একটি চেয়ারে বসিয়ে এক বোতল পানি এগিয়ে দিয়ে মঞ্চে চলে যায় উনাকে অপেক্ষা করতে বলে।

সৈয়দ হেদায়েত হোসেন এর বাড়ি অর্থাৎ সুরভীর শ্বশুড় বাড়িটা রাজ প্রাসাদ বললেও কম বলা হবে। প্রাসাদের ভিতর প্রবেশের পর থেকেই অর্ঘ্যের প্রতি পদ চারনায় অর্ঘ কেবলই হা বনে যাচ্ছে প্রাসাদের ঝিল্লিঝরা সৌন্দর্যে। বড় বড় টেরাকোটায় মোড়া দেয়াল, বিশাল বিশাল ঝারবাতি, বাঘ সিংহের মূর্তি ঘরগুলোর কোণ জুড়ে, পুরো আঙিনায় হাজারো ফুল গাছ, নানা রঙের ল্যামপ পোস্ট, বাহারি গাছের বিশালাকৃতির পিতলের টব, ভারী কাঠের দরজা জানালা, বন জঙ্গল খোদাই করা চেয়ার টেবিল আরো কত কী! যতই বর্ণনা দেয়া যায় ততোই কম।

খাস অতিথি মহলে অর্ঘকে বসিয়ে তাকে আতিথেয়তা করার পর হেদায়েত হোসেন যা শোনালো অর্ঘকে তা শুনে সে রীতিমতো বন্ধ পিঞ্জিরায় ছটফট পাখির মতো করতে লাগলো, বুকের ভেতর পাঁজরের হাঁড়গুলো যেনো ভেঙ্গে যাবার যুদ্ধে অবনিত হলো।

বিয়ের এক বছরের মাথায়ই সুরভী আর হেদায়েত এর ভালোবাসার ফুল, তাদের মেয়ে সন্তান, এক নয়নকাড়া রাজকন্যা তিতলী জন্ম নেয়। তিতলীর বয়স যখন দু’ বছর তখন ছাদে সুরভী, হেদায়েত, বাড়ির আরো কয়েকজন মিলে তিতলীর সঙ্গে খেলছিলো। খোশ গল্পের কোন এক ফাঁকে হেদায়েত দেখে ছাদের রেলিং এ বসে পরেছে তিতলী, ন্যানো সেকেন্ডের ব্যবধানে যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। এক চিৎকার দিয়ে  হেদায়েত উঠে তিতলীর কাছে যেতে না যেতেই সুরভী কোত্থেকে দৌড়ে এসে ওর এক হাত দিয়ে তিতলীকে গোল করে ধরে টেনে কোলে নিতে গিয়ে না পেরে ছাদের উপরে হেদায়েতের দিকে ছুঁড়ে দেয় আর ও সেখানেই মুহুর্তেই পা পিছলে চিৎ হয়ে পরে যায়। তিতলীকে হেদায়েত জলদি বুকে টেনে নেয়, এতে তিতলী ব্যথা সেরকম পায়না তবে ভয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠে,  কিন্তু সুরভী অজ্ঞান হয়ে যায়।

টানা চারদিন পর সুরভীর জ্ঞান ফিরে। কিন্তু অঘটন যা ঘটার ঘটে গেছে। সুরভী মাথার পিছনে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে, যাকে মেডিক্যাল বিজ্ঞানে ব্রেইন হ্যামারেজ বলে, তাই সে কাউকে চিনতে পর্যন্ত পারছিলনা, না হেদায়েতকে না তিতলীকে, না তার মামামামীকে, কাজিনদেরও না।  শুধু একটা কথাই বলছিলো, অর্ঘ দা কই? অর্ঘ দা নদীর পাড়ে আমাকে আরেকদিন নিতে চেয়েছিল, আসছে না কেন অর্ঘ দা? অর্ঘ দা কে এনে দাও।

এই ঘটনার পর সুরভীর মামা মামী অর্ঘের সঙ্গে অনেক বার কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু অর্ঘ তাদের সঙ্গে কোনও রকম কথা বলতে চায়নি। তক্ষুণি অর্ঘের সব মনে পরে যায়, প্রায় তিন বছর আগে সুরভীর মামা মামী তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল তাদের বাসায়, সে যায়নি, আবার অনেকবার তারাও এসেছিলেন অর্ঘের সঙ্গে কথা বলতে, ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে অর্ঘ এড়িয়ে গেছে বহুবার। সব এখন তার মনে পরছে।

এই ঘটনা বলার পর হেদায়েত অর্ঘ্যকে বলেন, অর্ঘ্য, টানা তিন বছর প্রায় রোজই আপনার নাম নেয় সুরভী, মাঝে মধ্যে খুব বেশি বেসামাল হয়ে পরে সুরভী, আমরাও তখন তাকে সামলাতে হিমশিম খেয়ে যাই। আপনি যদি এক্টু দয়া করে মাত্র কয়েকটা দিন আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে দিন, ও যদি ফিরে আসে আবার তার স্বাভাবিক জীবনে তাহলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে। ডাক্তারসহ আমাদের সব প্রচেষ্টা বিফলে যাচ্ছে, তাও হাল তো ছাড়ার মানুষ নই আমি। আপনার সহযোগিতা আমার ভীষণ প্রয়োজন আমার অর্ঘ্য।

এই বলে হেদায়েত অর্ঘকে নিয়ে যায় সুরভীর কাছে। বিশাল এক ঝলমলে শৌখিন এক রুমের একটি বিশাল কাঠের কাজের খোদাই করা জানালার পাশেই কাঠের হাতলওয়ালা এক আয়েশি চেয়ারে বসে কালো আকাশের আঁধারে কী যেনো খুঁজছে আর কোলে তিতলীকে জড়িয়ে আছে। তাকে ধীরে ধীরে বোঝানো হয়েছে তিতলী তার বাচ্চা, আদর না করলে ও তো কাঁদবে। প্রথম প্রথম অনেক ভয় পেতো সুরভী তিতলীকে। পরে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ওকে আদর করাতে। বাড়ির সবাই ধীরে ধীরে সময় নিয়ে নিয়ে ওকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তিতলী ওরই মেয়ে।

কিন্তু একদম দুম করে জীবনের এই সময়টাতে প্রকৃতি কী এক নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠলো অর্ঘের সঙ্গে! পাঁচ বছর আগে সুরভীর হঠাৎ কৌতুহলী বেদনাদায়ক প্রস্থানের পর অর্ঘ নিজেকে একা বেশ ভালোমতোই সামলে নিয়েছিলো পুরোটা। এখন সে বিশ্বাস করতে বারবার টলমল খাচ্ছে যে সেই সুরভী আজ একটা নির্মম আকস্মিক দূর্ঘটনার কারণে পূর্ণ স্মৃতি শক্তি খোয়া যাওয়া নিতান্ত
একটা মানুষ মাত্র। এতোদিনের জমানো রাগ, অভিমান,জিজ্ঞাসা এই একান্ত ভালোবাসার মানুষটার সামনে এভাবে পরে গিয়ে ক্ষণিকেই সব উবে গেলো যেনো, নিস্তেজ হয়ে গেলো অর্ঘকে না জানিয়ে সুরভীর সেরকম শক্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার যন্ত্রণাটাও।

এক পা দু’পা করে অর্ঘ সুরভীর পাশে দাঁড়ালে সে দেখতে পায় সুরভীর কোলে তিতলী ঘুমিয়ে পরেছে আর সুরভী গুনগুন করছে,

চাঁদের বুড়ী করবে চুরি
চাঁদকে করবে হাওয়া
আমার বুড়ী আমার কোলে
করবে আসা যাওয়া।

অর্ঘ আরেকটু সামনে এগিয়ে সুরভীকে নাম ধরে ডাকলো। অর্ঘ্যকে অবাক করে দিয়ে সুরভী একদম স্বাভাবিকভাবেই বলে, অর্ঘ দা, আমাকে শেক্সপিয়ার এর কমেডি নাটকগুলো আর করতে বোলো না, ওর কমেডি আর ভালো লাগে না। আমি পুতুল নাচের ইতিকথার কুসুম এর চরিত্র করবো। প্লিজ, এবার পুতুল নাচের ইতিকথার চিত্রনাট্য তৈরী করো তো অর্ঘ দা।

এই বলে চেয়ার থেকে উঠে তিতলীকে বিছানায় সুন্দর করে শুইয়ে দিয়ে পাঁচ বছর পর এই প্রথম বার এর মতো অর্ঘের দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিস্ময়ভরা চোখে আর প্রশ্নে জর্জরিত কপাল নিয়ে সুরভী তাকে বলে, অর্ঘ দা, অনেক দিন হলো বুঝি তুমি আমাকে নাটক রিহার্সাল এ ডাকো না,  তাইনা? নদীটার ধারেও নিয়ে যাও না, সূর্যোদয় দেখাতে সাইকেল এ ক্ষেতবাড়ির ঢিবিটার ওপাশেও নিয়ে যাওনা, না? মাঠের পাশের ঝালমুড়ি ও এনে দাও না, বর্ষাকাব্য লিখোনা আমাকে নিয়ে আর, তাইনা? বলো? বলো? আচ্ছা, তুমিকি অনেকদিন বাদে এলে আমার কাছে? নাকি আমি ভুল বলছি? তুমি এমন রোগা আর মনমরা হয়ে আছো কেন অর্ঘ দা? আমার জন্য নিতাই খুড়ার বাতাসা এনেছ? কই দেখি? আনোনি? গুড়ের গজা? তাও আনোনি! নাকি এনেছ? বলো না? নিমকপরা? সেটাও আনোনি? ছি অর্ঘ্য দা, তুমি বড্ড কৃপণ গো। আগে তো বুঝিনি। এই বলে হো হো করে হেসে উঠলো সুরভী।

পরক্ষণেই এসব বলতে বলতে সুরভী কিছুটা অস্থির হয়ে যায়, ওর নিঃশ্বাসের উঠানামা ঘন হতে থাকে আর বলতে থাকে, ও অর্ঘ দা, আমাকে যে একদিন নদীর পাশে বট গাছটার ছায়ায় অনেকগুলো কথা বলছিলে দারুণ দারুণ, ঐ কথাগুলো বলোনা,  বলোনা,  মনে নেই তোমার? বলেই সুরভী দৌড়ে এসে মুহুর্তেই অর্ঘের হাত দু’টো নিজের হাত দু’টোর মুঠোয় নিয়ে বলে, অর্ঘ দা, কী যেনো বলছিলে আমি কিসের মতো, ওগুলো বলোনা গো দাদা। কী যে মনে ঢেউ লাগানো ছিলো কথাগুলো! ইশ! যদি চোখে মুখে মেখে নেয়া যেতো ঐগুলো! আহা! কী সৌরভ তোমার আবেগগুলোতে!  মনে আছে তোমার অর্ঘ দা? সুরভী হঠাৎই ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পরে।

ঘরের দরজার একপাশে দাঁড়ানো হেদায়েত সাহেব এর দিকে অর্ঘ তাকায়, হেদায়েত সাহেব তার চোখ আর হাত  দিয়ে ইশারায় বোঝায় ওই কথাগুলো বলতে। অর্ঘকে উনি আশ্বস্ত করেন চোখের হাল্কা ইঙ্গিতে।

তারপর অর্ঘ সুরভীর হাত দু’টি ধরে ঠুনকো, নকল প্রাপ্তির হাসিটাকে আসল রুপ দিয়ে আনন্দমাখা স্বরে বলে উঠে, হ্যা সুরভী, আমার সব মনে আছে, তুমি স্থির হও, অস্থির হয়োনা, আমার সব মনে আছে, শান্ত হও, শোনো তুমি, তুমি ছুটে চলা মেঘেদের দলের পথ প্রদর্শক, তুমি জোনাকি জ্বলা ঝাঁড়ের আলোর দিশারী, তুমি মৌমাছিদের মধু আহরণকারীদের ছন্দে নৃত্যকারিনী, তুমি স্বর্ণলতার ডগডগে কচি শিখর, শুধু ছড়াবেই তোমার ডালপালা উচ্ছল দুষ্টু ফরিং এর মতো, তুমি প্রজাপতির বাগানে রঙিন স্নিগ্ধ প্রজাপতি যে শুধুই  উড়বে আর রঙ ছোঁয়াবে আমার গালে আমার ঠোঁটে, তুমি কালবোশেখী ঝড়ের তান্ডব, তুমি পেখম তোলা বন ময়ূরীর নৃত্যের মুদ্রা, তুমি আমার তৃষ্ণার জল, তুমি আমার নেশা, তুমি একান্তই আমার। আমার নিজের। তুমি হলে কেবলমাত্র অর্ঘ্যের সুরভী ।

কথা শেষ হলে খেয়াল করে সুরভী অর্ঘের বুকে মিশে আছে আর চোখ দু’টো পুরোই বোজা। বুঝতে বাকি রইলো না, ঘুমিয়ে পরেছে সুরভী। হেদায়েত সাহেব আর অর্ঘ দু’জনে মিলে সুরভীকে বিছানায় শুইয়ে দেয়।

ঐ দূর্ঘটনার পর আজই প্রথম সুরভী ঘুমের হাই পাওয়ারের ঔষধ ছাড়া ঘুমালো।

হেদায়েত সাহেবের করজোর অনুরোধের মুখে সে দিনের পর থেকে অর্ঘ রোজ সন্ধ্যায় হেদায়েত সাহেবের বাসায় আসে সুরভীকে এক্টু স্বাভাবিক করতে। সেইসঙ্গে রোজ রাতে নিয়ম করে বলতেই হয় অর্ঘকে, সুরভীকে বলা সেই কথাগুলো, বারবার। তবেই সে শান্তভাবে ঘুমিয়ে পরে কোনও জ্বালা যন্ত্রণা ছাড়া।

অর্ঘ,  হেদায়েত সাহেব বা সুরভীর নিয়মিত মানসিক ডাক্তার কেউই জানেনা কবে সুরভী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে আর কবেই বা বন্ধ হবে সুরভী কে নিয়ে অর্ঘের কথামালার পুনরাবৃত্তির প্রাণঘাতী নাটক। কবেই বা ইতি ঘটবে হেদায়েত সাহেবের অপেক্ষা আর অর্ঘের জীবনের স্বাভাবিক পরণতি। অপ্রকাশিত আসল ভালোবাসার এ যেনো কোন শাসক প্রকৃতির এক বিদ্রুপাত্মক, নিষঠুর, নকল আর রূঢ় মঞ্চায়ন।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]