অস্ট্রেলিয়ার পার্থে এলো বৈশাখ…

মোঃ রুবায়েত রেহান

“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা,”রবিঠাকুর এভাবেই আহ্বান করেছেন বাংলা নতুন বর্ষকে। বারতা। এক নতুন সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচনা হলো বাংলা ১৪২৫ সালের। এলো পহেলা বৈশাখ। বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হল  উৎসব। এই উৎসবের আলো ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর সেইসব প্রান্তে যেখানে আছে বাঙালি। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলা নতুন বছরকে নানা আয়োজনে বরণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ কার্টিন   ইউনিভার্সিটি  (বিএসএসিইউ) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি রিসার্চ ভবনের এক্সিবিশন হলে পার্থে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এক আনন্দমুখর উৎসবের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বৈশাখের লাল-সাদা রঙের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নানা পোশাকে বর্ণিল সাজে সেজে এ আনন্দ উৎসবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, চাকরিজীবীসহ নানান পেশার মানুষ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাজানো গান, নাচ, নাটক, আবৃত্তি, নবীণ  শিক্ষার্থীদের বরণ। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের দেশীয় খাবার এবং মিষ্টান্নের সমারোহে পুরো অনুষ্ঠানস্থল  হয়ে উঠেছিল একখণ্ড বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানের মূল উপস্থাপক ছিলেন সৈকত এবং ইসরাত । জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। এরপর “এসো হে বৈশাখ এসো, এসো” গান পরিবেশন করেন অনুস্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর বৈশাখী গানের সাথে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানান নাফিসা, ফাবিহা এবং আশা। এছাড়াও উচ্চাঙ্গ নৃত্য পরিবেশন করেন নাফিসা, লিমা, শিথি। এর মাঝে নবীণ শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মোহাম্মদ কুদ্দুস এবং প্রবীর সরকার। গান পরিবেশন করেন ইয়াসিন, যুলফিয়া রুবায়েত এবং ইশরাক। কেমনে ভুলিব, রাত নির্ঘুম, নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক, চাইনা মেয়ের মত জনপ্রিয় সব গান শুনিয়ে সবাইকে আনন্দ দেন ইয়াসিন। তোমার ঘরে বাস করে কারা এই গানটি দিয়ে অনুষ্ঠানকে আরো মাতিয়ে তোলেন যুলফিয়া। একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয় যেখানে রুবায়েত, শিহাব, সাদ্দিদ, ইশরাক গ্রাম বাংলার পাঠশালার চিত্র তুলে ধরেন।  সে যে বসে আছে, গাড়ি চলেনা গান দিয়ে সবার মনোরঞ্জন করেন রুবায়েত এবং ইশরাক।  জীবনানন্দ দাশের আবার আসিব ফিরে আবৃত্তি করে বাংলার সেই চিরচেনা রুপের সাথে সবাইকে আবার পরিচয় করে দেন সংগীতা। সবশেষে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন নাফিসা, ফাবিহা, সাদ্দিদ, তাযওয়ার, নীলিমা, আশা এবং মোনেম। এই নৃত্য ছিল বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কিছু গানের সাথে যার শেষে মিনারের চল উড়ে যাই গানের মাধ্যমে নতুন বছর এবং নতুন শিক্ষার্থীদের আবারও স্বাগত জানানো হয়। সবগুলো নৃত্য পরিচালনা করেন নুসরাত জেরিন লিমা। সকলের উপস্থিতি, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ভবিষ্যতে এমন আরও আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি নাফিসা তাবাসসুম হক এবং সহ সভাপতি ফাবিহা ফাইযা অবন্তি। অনুষ্ঠানস্থলের শাজসজ্জার মূল দায়িত্বে ছিলেন ইরফান  এবং কিফায়াত। তাদের সহযোগিতা করেছেন সংগঠনের সবাই। সব মিলিয়ে বর্ণাঢ্য এক আয়জনের মধ্য দিয়ে বাংলা ১৪২৫ সালকে বরণ করে নিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি আরও উজ্জ্বল হয়ে ছড়িয়ে পড়বে দেশে-বিদেশে। এমন শপথে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পথ নির্দেশনায় এগিয়ে চলছেন কার্টিন  বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রবাসী শিক্ষার্থীরা।

ছবি: লেখক

লেখক: মিডিয়া অ্যান্ড কম্যুনিকেশান সেক্রেটারী

বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ কার্টিন   ইউনিভার্সিটি  (বিএসএসিইউ)