আঁকতে আঁকতে পোলানের বিদায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহরের সব মানুষের মুখশ্রী এঁকে ফেলতে চেয়েছিলেন শিল্পী জ্যাসন পোলান্।নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়ে স্টেশনে হেঁটে যাওয়া ব্যস্ত মানুষ, রেস্তোরাঁয় কফিতে মগ্ন কেউ আবার জাদুঘরে দর্শকদের ভিড় থেকে একাধিক মুখ পোলান অদ্ভুত দক্ষতায় এঁকে ফেলতেন তার স্কেচ বইতে। প্রায় ৩০,০০০ হাজার মানুষের মুখ তিনি এঁকেছেন। একজনের ছবি আঁকতে তিনি সময় নিতেন মাত্র দুই মিনিট। কিন্তু পোলানকে থামিয়ে দিলো ঘাতক ক্যানসার। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে গত সোমবার নিউইয়র্কেই তাঁর ছবি আঁকার পৃথিবীকে বিদায় জানাতে বাধ্য হলেন জ্যাসন পোলান।

একটা শহরের সব মানুষের ছবি আঁকার এই দুঃসাধ্য পরিকল্পনাটি পোলানের মাথায় আসে ২০০৮ সালে। তখনই তিনি নিজের একটি ব্লগ পেইজ তৈরি করে সেখানে এই পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানান। তিনি এও জানিয়ে দেন, অনেক মানুষের ভিড় জমে এমন সব জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি ছবিগুলো আঁকবেন। যার বা যাদের ছবি আঁকবেন তাদের কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটাবেন না বলেও তিনি জানিয়ে দেন পোস্টে। কারণ ছবিটা খাতায় তুলে নিতে তার সময় লাগবে মাত্র দুই মিনিট।

পোলানের আঁকা শেষ ছবির নিচে তারিখ লেখা রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ সাল। এরপর পোলান আর ছবি আঁকেননি অথবা আঁকতে পারেননি।

সেদিনও একজন মানুষের প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন তিনি। ছবিটির নাম দিয়েছিলেন ‘ম্যান অ্যাট টাকো বেল’।

জ্যাসন পোলান ২০১৫ সাল নাগাদ এঁকে ফেলেছিলেন ১১০০০ ছবি। এই অজস্র ছবি থেকে বেছে নিয়ে একটি বইও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পোলানের আঁকার প্রক্রিয়াটিও ছিলো বেশ অদ্ভুত। ভিড়ের জায়গায় একটু আড়াল বেছে নিয়ে তিনি একের পর এক ছবি আঁকতেন মানুষের। কখনো কখনো ছবিতে মানুষের মুখ ভালো করে আঁকা হতো না। কারণ তার আকার সাবজেক্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিলো চলমান। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেই মানুষটি ভিড়ের ভেতরে হারিয়ে যেতো।পরিচিত মানুষদের বেলায় পোলান তাদের আগেই ই-মেইল করে জেনে নিতেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই ব্যক্তি নিউইয়র্ক শহরের কোন জায়গায় অবস্থান করবেন। উত্তর পেলে পোলান পৌঁছে যেতেন যথাস্থানে।

জ্যাসন পোলান নিউইয়র্কে এসেছিলেন মিশিগান রাজ্য থেকে। তিনি নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন জাদুঘরে ঘুরে বিখ্যাত সব শিল্পকর্মের ছবিও আঁকতেন। টাকো বেল ড্রয়িং ক্লাব নামে একটি প্রতিষ্ঠানও খুলেছিলেন পোলান ২০০৫ সালে। ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্ক্যোয়ারে অবস্থিত টাকো বেল নামে এই রেস্তোরাঁয় বসে আঁকাআঁকির কাজ করতেন পোলান। চালাতেন ড্রইং ক্লাবের কাজও।

নিউ্ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পোলান বলেছিলেন, ‘আমি জানি কাজটা দুঃসাধ্য। সব ছবি আঁকার আগেই আমি ফুরিয়ে যাবো। কিন্তু এই কাজটা করতে আমার খুব ভালো লাগছে।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]