আঙুলের ব্যর্থতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রুদ্রাক্ষ রহমান

রাত যতই ভোরের দিকে হাঁটছিলো; আমার কেবল সেই কবিতার কথা মনে পড়ছিলো। ‘অনাঘ্রাতা ভেবে তাকে আমি সমুদ্র স্নানে নিয়ে গিয়েছিলাম। অথচ সে ছিলো বিবাহিতা।’ অনাঘ্রাতা, নাকি কুমারি? কোন শব্দটা বেশি জুতসই? এই প্রশ্নটাও আমার ভেতর উড়েফিরে খেলা করছিলো।

 সমুদ্র শহরে, আমরা সেই রাতে, যেখানে ছিলাম সেখান থেকে জলরাশি খুব দূরে নয়। রাতে অন্যসব হলাহল থেমে গেলে সমুদ্রের ডাক ঝংকার তোলে; হুঙ্কারও।

সেই রাতে আমি কি একটু বেশিই মাতাল হয়ে ছিলাম?  রাতটা জ্যোৎস্নাভরা ছিলো? নাকি ভীষণ আন্ধারের? যে বনভূমিকে নিয়ে, অথবা যে বনভূমির সঙ্গে আমি সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলাম; তাকে কি আদরের নামে ব্যথায় কাতর করে তুলেছিলাম? এসবের কিছুই আর স্পষ্ট করে মনে পড়ছে না। তবে এসব টুকরো টুকরো কথা গেঁথে আছে বুকের ভেতরে। বনভূমি ঘুম জড়ানো গলায় আমাকে বলেছিলো-‘তোমার নেশা এখনো কাটেনি?’  এটাও অত্যন্ত মনে আছে , খুব কাছে এসে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলো বনভূমি। বলছিলো- নো নো নো। আই ডোন্ট ওয়ান্ট। না না না। আমি চাই না। লিভ মি। আমি উঠবো। তারপর সে উঠে কোথায় চলে গিয়েছিলো আমি জানি না। পরিনতিহীন একটি যুদ্ধের পর আমি কি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম? আজ আর কিছুই মনে পড়ছে না!

কেবল অনেক বেলা করে যখন আবার জেগে উঠি তখন বনভূমির কিছুটা ক্লান্তিভরা মুখ। কিছুটা হাসিমাখা, কিছুটা মায়ায় জড়ানো। একটিও প্রশ্ন ছিলো না তার।

 এখন, অনেক কারণে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। এই বোধের মধ্যেই একটা দৃশ্য ভাসতে থাকে। অনেকটা স্পষ্ট, কিছুটা অধরা। বিগত রাতের। আমার মনে হয়, ব্রার হুক জানে আঙুলের ব্যর্থতার সব খবর। তাইতো। আমি যতই নিজেকে অপরাধী বলে প্রবোধ দিতে থাকি না কেনো; সেই সমুদ্ররাতে এই আমি অবশ্যই খুব করে চেয়েছি বনভূমিকে। আমার মন, আমার হাত, আমার আঙুল খুব করে চেয়েছে তার ব্রার হুক খুলে যাক। কালো মখমলের বেষ্টনী ছিড়ে; বন্দিজীবন থেকে লাফিয়ে পড়ুক দুটি সারস। তারা নেচে উঠুক। খেলা করুক। শরীর, শরীর-ই তো মুহূর্তে দু’জন মানুষকে অনেক কাছে এনে দিতে পারে। সেটা কেনো হলো না? বনভূমি কেনো চাইলো না? তাহলে বনভূমি আমার সঙ্গে সমুদ্রস্নানে গিয়েও ছিলো অন্যভূমিতে? আর সে যে অন্যের স্ত্রী, তাও আগে বলেনি কোনোদিন? তবে কি আমি তার কাছে ছোট হয়ে গেলাম; অপরাধীও-বনভূমি যার স্ত্রী?

এসব নিয়ে ছেড়া ছেড়া কথা হয়েছে একবার, বনভূমির সঙ্গে। যখন সে ফোনে জানালো আয়নায় কালশিটে দাগ দেখে আঁতকে উঠেছে । তখন মনে হলো আমার বুকেও আদরের একটু চিহ্ন পড়েছিলো। ফোনে হাসির বাতাস ছড়িয়ে দিয়ে বনভূমি বললো- ‘আই লস্ট মাই মাইন্ড ফর অ্যা হোয়াইল।’ বনভূমির মনভূমিতে সেই রাতে একটু দোলা লেগেছিলো। তার চিহ্ন আমার বুকে। আমার শরীরে। তার ব্যথাটা  কিছুতেই যাচ্ছে না।

ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box