আজো চে গুয়েভারা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চে গুয়েভারার মৃত্যুর দিনটিও ৫০ বছর অতিক্রম করলো। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর তারিখের ঠিক ২৪ ঘন্টা পর বলিভিয়ার ছোট্ট শহর ভালেগ্রান্দা’র সিনর দ্য মালটা নামে একটি হাসপাতালের লন্ড্রির শূন্য বারান্দায় শুইয়ে রাখা হয়েছিলো চে গুয়েভারার নিথর দেহ।

এই চৌকিতেই শুইয়ে রাখা হয়েছিলো মৃত চে-কে

সামনে জ্বলে উঠছিলো সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফ্লাশের আলো। বলিভিয়া সরকার আর সিআইএ গোটা দুনিয়াকে জানান দিতে চাইছিলো চে ‍গুয়েভারা ‍মৃত, নিভে গেছে পৃথিবীজোড়া নিপীড়িত মানুষের বিপ্লবী আদর্শ।

পাহাড়ঘেরা ছোট্ট শহর ভালেগ্রান্দা। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় লেখা আছে ১৬১২ সালে শহরটি আবিষ্কৃত হয়। গরম, পাহাড় আর উপত্যকা ছাড়া আর কোনো কিছুই আবিষ্কৃত হবার পর শহরটিকে বিশেষত্ব দিতে পারেনি। কিন্তু চে গুয়েভারার মৃত্যু ইতিহাসের পৃষ্ঠার সঙ্গে এই শহরের নামটিকে জুড়ে দিয়েছে চিরকালের জন্য। এই শহরেই শেষবার উপস্থিত হয়েছিলো বিপ্লবের অকম্পিত শিখাসম সেই মানুষটির প্রাণহীন শরীর।

১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর খাবার আর প্রয়োজনীয় অন্যান্য রসদের অভাবে ভোগা ক্লান্ত, অবসন্ন চে আর তার গেরিলা বাহিনী ঘেরাও হয়ে যায় বলিভিয়ার সেনাবাহিনী আর সিআইএ’র ঘাতক বাহিনীর হাতে। সংঘর্ষে আহত হন চে। ধরা পড়েন শত্রুদের হাতে। পরদিন বলিভিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারপর তার নিথর দেহ হেলিপ্টারের সঙ্গে বেঁধে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ভালেগ্রান্দায়। সেই হাসপাতালের খোলা বারান্দাতেই চে’র শরীরের ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর হাত কব্জি থেকে কেটে নেয়া হয়।

চে গুয়েভারা কালচারাল সেন্টার

কাটা হাত আসল চে গুয়েভারার আঙুলের ছাপের সঙ্গে মেলানোর জন্য পাঠানো হয় লা পাজ ও পরে আর্জেন্টিনায়।

এত কাণ্ডের পরেও পৃথিবীর মানুষ ভুলে যায়নি চে গুয়েভারাকে। ভুলে যাননি ভালেগ্রান্দা শহরের মানুষও। সেই মালটা হাসপাতালের যে শূন্য এবং অব্যবহৃত বারান্দাটিকে ১৯৬৭ সালের ১০ অক্টোবর তাৎক্ষণিক ময়নাতদন্তের জায়গা হিসেবে তৈরি করে কাটাছেঁড়া করা হয়েছিলো চে গুয়েভারার শরীর সে জায়গাটিই এখন হয়ে উঠেছে চে‘র স্মৃতিমঞ্চ। এখানেই দেয়ালের গায়ে গ্রাফিতি করে আঁকা হয়েছে চে গুয়েভারার মুখ। সেখানে শ্লোগান লেখা হয়েছে ‘আন্টিল ভিক্ট্রি…অলওয়েজ’। এখানে আজো এসে ভীড় জমান শত শত চে ভক্ত আর পরযটক।

এই হাসপাতালের কাছেই বলিভিয়ার বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট ইভো মরালেস গেল বছর চে গুয়েভারা কালচারাল সেন্টারের উদ্বোধন করেছেন। সেখানে একটি ছোট্ট মিলনায়তন, লোকশিল্প বিক্রির দোকান আর লাইব্রেরী আছে।

চে গুয়েভারার স্মৃতি মিলনায়তনের দেয়ালে ঝুলছি তাঁর বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য ছবি। যেখানে চে গুয়েভারাকে খুন করা হয়েছিলো সেখানকার কিছু পাথর এনেও রাখা হয়েছে তাঁর স্মৃতিমঞ্চের সামনে। বাইরের বাগানে চে’র নিহত সহযোদ্ধাদের স্মরণেও তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিফলক।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবি : ইন্ডপেন্ডেন্ট

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]