আপনার কিডনি কি সঠিকভাবে কাজ করছে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কিডনি আমাদের শরীরে বর্জ্য অপসারণ, শরীরের তরল ভারসাম্য, রক্ত ​​এবং অন্যান্য সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণভাবে অঙ্গে সঞ্চালিত করতে দরকার পরে।তাই এটি সুরক্ষার প্রযোজন আছে।তবে কিডনিতে কখন কিভাবে রোগ বাসা বাঁধে বোঝাই যায় না। রোগটি শরীরে ঘুমন্ত অবস্থায়ই থাকে। এটির লক্ষণ প্রথমে বোঝাই যায়না। তাই কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে কিভাবে বুঝবেন  সেইসব লক্ষণগুলির এখানে উল্লেখ করা হলো। আপনার যদি এইগুলির মধ্যে একটিও থাকে, তবে তখন আপনার একজন ডাক্তারকে দেখানো প্রয়োজন।

প্রস্রাবের রং পরিবর্তন: আপনি আপনার প্রস্রাবের  রঙ, পরিমান ও গন্ধের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করলে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

প্রস্রাবের সময় ব্যথাঃ প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া_ এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। মূলত যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়াঃ প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।

বমি বা বমি বমি ভাবঃ রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

ঘুমের সমস্যা: কিডনি যদি ভালোভাবে কাজ না করে  তাহলে বুঝতে হবে যে জীবাণু দেহ ছেড়ে যেতে পারছে না এবং রক্তেই রয়ে গেছে। এতে  টক্সিনের মাত্রা বেড়ে যায়।তখন  ঘুমের সমস্যা হয়। তাই আপনার এই লক্ষন গুলি দেখা দিলে অবশ্যই চেকআপের প্রয়োজন।

উচ্চ রক্তচাপ: আপনার  উচ্চ রক্তচাপে অনেক কিছুই হতে পারে।তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনি। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ।

চামড়ার চুলকানি: কিডনি আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। শরীরের মধ্যে খনিজ সঠিক অবস্থানে বজায় রাখতে সাহায্য করে।শরীরের ত্বক শুষ্ক এবং চুলকানি হলে অনেক সময় এমনও হতে পারে যে আপনার কিডনি ভালো কাজ করছে না বলেই চুলকানি হচ্ছে।

চোখের চারপাশে ফোলাভাব:  কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের প্রোটিন ধরে রাখতে  পারে না তাতে চোখের চারপাশে ফুলে যায়।তখন প্রস্রাব দিয়ে একটি বড় পরিমাণে প্রোটিন আমাদের শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

সংক্ষিপ্ত শ্বাস: যাদের শ্বাসকষ্টই হাঁপানি বা হৃদরোগ আছে তারা একটু সাবধানে থাকবেন। অনেক সময় এগুলো কিডনি সম্পর্কিত সতর্কতার লক্ষনও হতে পারে।

ফুলে যাওয়া শরীরের অংশ: কিডনি ভালোভাবে কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল অপসারণ করতে পারবেন না। ফলে  হাত, পা এবং গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।

গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস: কিডনি ভালোভাবে কাজ না করলে রক্তে অনেক বেশি টক্সিন থাকবে। তখন শ্বাস গন্ধযুক্ত হবে। যদি ক্রমাগত মুখের মধ্যে একটি ধাতব স্বাদের সম্মুখীন হন তাহলে মনে করতে হবে এটি কিডনি খারাপের আর একটি লক্ষণ।

পেটের পিছনে ব্যথা: যদি ক্রমাগত আপনার পেটের পিছনে ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে এটি কিডনির রোগের একটি সতর্কবাণী হতে পারে।

অবসাদ:  কিডনি সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম না হলে  শরীরের নির্মিত বর্জ্যের কারণে ক্লান্তি বা দুর্বলতার সম্মুখীন হতে পারেন।তখন মস্তিষ্কও যথেষ্ট পরিমানে অক্সিজেন পাবে না চিন্তায় বিঘ্ন ঘটাবে।

ঠান্ডা অনুভব করবেন (যখন অন্যদের লাগে না): কিডনি ভালোভাবে কাজ না করলে তখন স্বাভাবিকের চেয়ে কম লোহিত রক্ত ​​কণিকা শরীরে থাকে, এবং গরমেও ঠাণ্ডা অনুভুত হয়। তাই যদি আপনার এইসব লক্ষন থাকে, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার কিডনি সঠিকভাবে কাজ করছে না।

মাত্র দুটি পরীক্ষায় জানা যায় কিডনি রোগ আছে কি-না এবং একটি সহজ সমীকরণে বের করা যায় কিডনি শত ভাগের কত ভাগ কাজ করছে। একটি হলো- প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা মাইক্রো অ্যালবুমিন যায় কি-না এবং অন্যটি রক্তের ক্রিয়েটিনিন।

কিডনি ভালো রাখার উপায়

* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা।

* চর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা।

* ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা ও রক্তের হিমোগ্গ্নোবিন এওয়ানসি  নিয়ন্ত্রণে রাখা।

*  শিশুদের গলা ব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাঁচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত। কারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে।

 * ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত পড়ে ও লবণশূন্য হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে।

* চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করা।

 * প্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া।

একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, সচেতন হলেই এবং একটু কষ্ট করে যদি লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রার প্রণালি বদলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে চলা যায়, তাহলে কিডনি বিকল হওয়ার এসব কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]