আবার বড় পর্দায় অপু-দুর্গা

লন্ডনের হেন্ডারসন ফিল্ম ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত ছিলো সত্যজিৎ রায়ের অপু-‌ত্রয়ীর ক্যামেরা নেগেটিভ বা মাস্টার নেগেটিভ।আর আচমকা এক অগ্নিকান্ডে তিনটি ছবির নেগেটিভ-‌ই প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ভালো খবর হচ্ছে, এই ‘‌পথের পাঁচালী’‌কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে নতুন করে নতুন জীবন দেওয়া হয়েছে। শুধু ‘‌পথের পাঁচালী’‌ নয়, সত্যজিতের অপু-‌ত্রয়ীর অন্য দুটি ছবি ‘‌অপরাজিত’‌ এবং ‘‌অপুর সংসার’‌ও প্রায় ধ্বংসের মুখ থেকে পুনর্জীবিত হয়ে উঠেছে। এ বছর কলকাতায় চলচ্চিত্র উৎসবে নবজীবন পাওয়া এই তিন ছবি সেখানকার দর্শক দেখতে পাবেন বড় পর্দায়।

এই তিনটি অসাধারণ চলচ্চিত্রের মাস্টার নেগেটিভ নষ্ট হওয়ার খবরটা রায় পরিবারের জন্য ছিলো ভয়াবহ এক দুঃসংবাদ। সত্যজিৎ-‌পুত্র সন্দীপ রায় বললেন, ‘‌এই খবর পাওয়ার পর আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। এই তিনটি ছবির অন্য নেগেটিভ বা প্রিন্ট থাকলেও, ওখানে ছিলো ‘‌অরিজিন্যাল নেগেটিভ’‌ বা ‘‌মাস্টার নেগেটিভ’‌। আকাদেমি অফ মোশন পিকচার্স বাবার সব কাজই সংরক্ষণ করেছিলো। হেন্ডারসন ফিল্ম ল্যাবরেটরিতে এই নেগেটিভগুলো পাঠানো হয়েছিলো যদি কোনও মেরামত লাগে তার জন্যে। কিন্তু ঘটলো উল্টো ঘটনা। আগুনে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেলো তিনটে ছবির নেগেটিভ। তখন আমেরিকার ক্রাইটোরিয়ান সংস্থার উদ্যোগে ইতালির ইমাজিনে রিক্রোভাতা ফিল্ম রেস্টোরেশন ল্যাবরেটরিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এই ছবি তিনটি ‘‌রেস্টোর’‌ বা ‘‌সংরক্ষণ’ করার জন্যে।

রেস্টোর করার অর্থ হচ্ছে প্রতিটি ছবির নেগেটিভ ফ্রেম-‌বাই-‌ফ্রেম‌ রেস্টোর করা। ইতালিতে সেই কাজটাই করা হয়েছে। সত্যিই পুনর্জীবন লাভ করেছে বাবার ‘‌অপু-‌ত্রয়ী’‌।
এই তিনটি পুনর্জীবিত ছবি নিয়ে আমেরিকাতে প্রদর্শনী হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ রায়। শুধু প্রদর্শনী নয়, নিউইয়র্কে নতুন করে রিলিজ হয়েছিলো এই ছবি, যা দেখতে উপচে পড়েছিল ভিড়।
ক’‌দিন আগে হেরিটেজ ফিল্মের পক্ষ থেকে ঠিক করা হয়েছে কলকাতায় এই তিনটি বিখ্যাত সিনেমার বিশেষ প্রর্দশনীর আয়োজন করা হবে। আগামী নভেম্বর মাসে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের সময় বিশেষ প্রদর্শনীতে দেখানো হবে সত্যজিৎ রায়ের এই অমর কীর্তি।