আবার শিব্রাম চক্কোত্তি

হাতে টাকা জুটলে খরচে ওস্তাদ ছিলেন শিবরাম চক্রবর্তী। লেখা অথবা বইয়ের টাকা পকেটে ঢোকা পর্যন্ত অপেক্ষা, একদল মানুষ জুটিয়ে ঢুকে পড়তের কোনো রেস্তেরাঁয়। কেউ কেউ তাকে তুলনা করতেন তাঁরই কাহিনির অসাধারণ চরিত্র হর্ষবর্ধনের সঙ্গে। শিবরাম চক্রবর্তী অট্টহাস্য করে বলতেন, কোথায় কাঠের ব্যবসায়ী আর কোথায় আমি। আমার চরিত্র পাগল টাকা খরচের জন্য। আর আমি পাগল টাকার জন্য।

শিবরাম চক্রবর্তী

বাংলা সাহিত্যে হাসির ফোয়ারা হয়ে থাকা অনন্য চরিত্র হয়ে ছিলেন শিবরাম চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ে তার রসিকতার জুড়ি মেলা কঠিন। খাবার নিয়েও তাঁর পাগলামীগুলো ছিলো আরো মজার। একবার একটি বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকার ব্যাপারে কথা বলতে শিবরাম গেনে শিল্পীর বাড়িতে।গিয়েইখেুব তাড়া দিলেন শিল্পীকে। সেই শিল্পী তাঁকে বলেছিলেন, পাণ্ডুলিপি রেখে চলে যেতে।পরে প্রচ্ছদ এঁকে রাখবেন।কিন্তু শিবরামের তাকে ঘোর আপত্তি। তিনি সোজা শিল্পীকে জানিয়ে দিলেন তিনি তেলমাখা মুড়ি দিয়ে তিনি প্রথমে জলখাবার খাবেন। তারপর দুপুরের খাবার। ততক্ষণে নিশ্চয়ই প্রচ্ছদ আঁকা শেষ হয়ে যাবে!

শিবরাম চক্রবর্তীর গল্পে পরিচিত এবং অন্যতম একটি নারী চরিত্র বিনি। শিল্পীর তুলিতে অলংকরণে বিনি বরাবরই সুন্দরী তরুণী। তাই একদিন শিবরাম বন্তব্য করেছিলেন, ‘মেয়েদের আপনি বড় সুন্দরী করে ফেলেন।’ শিল্পী সঙ্গে সঙ্গে বললেন, `ওটা আমার দূর্বলতা। দোষ-ও বলতে পারেন। যদি বলেন ওকে একটা খাঁদা অথবা বোঁচা কওেরও দিতে পারি। উত্তর শুনে শিবরাম চক্রবর্তী সেদিন চিৎকার করে উঠে বলেছিলেন,‘একদম ঠিক আছে। আর কিচ্ছু করতে হবে না।

শিল্পীদের অনুরোধ থাকলেও বইতে তাঁর নিজের ছবি ব্যবহার করতে চাইতেন না শিল্পীদের আঁকা নিজের প্রতিকৃতি ‍নিয়েই তিনি ছিলেন সন্তুষ্ট। কেউ ঠবি বদলাতে চাইলে বলতে, ‘কী হবে ফটো দিয়ে?’আপনার আঁকা ছবিতেই আমি থাকবো। তারপর গলা নামিয়ে বলেছিলেন. ‘ছবিটা এরকম থেওকে গেলে আর বুড়ো হবো না কোনোদিন।’

শিবরাম বলতেন,‘ সার্কাসের ক্লাউন সব খেলা জানে। কিন্তু পারতে গিয়ে কোথায় যে কী হয়ে যায়-খেলাটা আর হাসিল হয় না। হাসির হয়ে ওঠে। আর হাসির হলেই খেলাটা হাসিল হয়।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ বাংলা লাইভ, কলকাতা

ছবিঃ গুগল,প্রাণের বাংলা