আমাকে খুন করা হয়েছে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি আচমকা আবিষ্কার করলাম আমাকে খুন করা হয়েছে।

তারা আমার খোঁজে উল্টেপাল্টে দেখলো কাফে, কবরখানা আর উপাসনালয়

কিন্তু তারা আমাকে খুঁজে পেলো না।

তারা কোনোদিন আমাকে খুঁজে পায়নি?

না, তারা কোনোদিন আমাকে খুঁজে পায়নি-ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা

সেদিন ওরা লোরকাকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছিলো এবং কবিকে হত্যা করার জন্য স্পেনের তৎকালীন ফ্রাঙ্কো সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। লোরকা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন এবং এ নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এই কারণেই লোরকাকে তারা খুন করে।

১৯৩৬ সালের আগস্ট মাসে কবিকে তাঁর এক বন্ধুর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় স্পেনের পুলিশ। সেখানে লোরকা আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এ বিষয়ে পুলিশী তদন্ত শেষ হয়নি। পুলিশের প্রতিবেদনও ছিলো অসমাপ্ত। ঘটনার ২৯ বছর পর ১৯৬৫ সালে নড়েচড়ে বসে গ্রানাদা পুলিশের সদর দপ্তর। পুরনো ফাইল বের করে তারা লেখা শেষ করে লোরকার মৃত্যুর ঘটনার ওপর তদন্ত রিপোর্ট। সেখানেই লোরকাকে হত্যা করার পেছনে তখনকার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের বিষয়টা প্রকাশ্যে আসে।

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকাকে খুনের ঘটনা নিয়ে সেই সময়কার পুলিশ প্রশাসন সব ধামাচাপাই দিয়ে দিয়েছিলো। স্পেনের ফাসিস্ত শাসক জেনারেল ফ্রাঙ্কো নিজেই তখন বলেছিলেন, ‘ লোরকার মৃত্যু আসলে এক ধরণের প্রচারণা। লোরকা মারা গেছেন বিদ্রোহীদের সাঙ্গে মেলামেশার কারণে। এ ধরণের ঘটনা যুদ্ধ চলার সময় স্বাভাবিক দূর্ঘটনা হিসেবেই ধরে নেয়া ভালো।’ কিন্তু সব অপরাধ চাপা দিয়ে রাখা যায় না। ১৯৬০ সালে লোরকার মৃত্যু নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন ফরাসী লেখিকা মার্সেলি অকলেয়ার। স্পেন সরকারের কাছে তিনি চিঠি লেখালেখি শুরু করেন। তার তাগাদাতেই শেষ পর্যন্ত স্পেনের ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিরা গ্রানাদা পুলিশকে নির্দেশ দেয় রিপোর্ট লেখা শেষ করতে। আর সেই রিপোর্ট থেকেই জানা যায় লোরকাকে কারা হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলো।

স্পেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হবার মুহূর্ত থেকেই হাইডআউটে চলে যান লোরকা। বিভিন্ন বন্ধুদের বাড়িতে শুরু হয় তার গোপন জীবন। কিন্তু ১৯৩৬ সালের আগস্টের এক দুপুরে ঘেরাও হয়ে গেলেন লোরকা। এক বন্ধুর বাড়ির জানালা সামান্য ফাঁক করে দেখলেন বাড়ির বাইরে গিজ গিজ করছে পুলিশ।বন্ধু বাধা দিতে চেয়ে ব্যর্থ হন। পুলিশ লোরকাকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িটি বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে গিয়ে হাজির হয় ফুয়েন্তে গ্রান্দে নামে একটি এলাকায়। লোরকার সঙ্গে সেদিন আটক হওয়া আরও এক ব্যক্তি ছিলেন। পুলিশের রিপোর্টে লেখা হয়, লোরকার স্বীকারোক্তি নেয়ার পর পরই তাকে হত্যা করা হয়। আর কোনোদিন ফিরে আসেননি লোরকা তাঁর কবিতার কাছে, ভক্তদের কাছে, বন্ধুদের কাছে। তাড়াহুড়ো করে কবির গুলিবিদ্ধ শরীর নামিয়ে দেয়া হয় একটি অগভীর কবরে। পুলিশ তাদের পরের রিপোর্টেও লোরকার স্বীকারোক্তি নিয়ে একটি শব্দও ব্যয় করেনি।

সাধারণ ভাবে ধারণা করা হতো লোরকাকে তখনকার ডানপন্থী বাহিনীর একটি অংশ হত্যা করেছিলো। কিন্তু পুলিশের প্রকাশিত রিপোর্টে বিষয়টা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হলো, গার্সিয়া লোরকাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ গুগল

অলংকরণের ছবিগুলো লোরকার আঁকা


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box