আমাদের প্রাণের বাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের নতুন অফিস

বেশ উঁচু একটা ভবন। ভেতরে দোকাপাটের ছড়াছড়ি। আর তারই মধ্যে মুখ গুঁজে থাকা একটা ছোট্ট অফিস ঘর। ছোট মানে আসলেই ছোট। যন্ত্রপাতি ঠাসা ঘরের ভেতরে দুটো টেবিল, একটা উঁচু ড্রয়ার মতো। টেবিলের উপর একটা কম্পিউটার। প্রিয় পাঠক, ভাবছেন এসব কী বলছি প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে? বলছি প্রাণের বাংলার হয়ে ওঠার পথটার কথা।
সেই ছোট্ট অফিসঘর থেকেই একদিন মানে তিন বছর আগের এক মার্চ মাসে শুরু হয়েছিলো প্রাণের বাংলার হাঁটতে শেখার পর্ব।
এই সংখ্যা প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে রইলো প্রাণের বাংলার পেছনের পথের গল্প ‘আমাদের প্রাণের বাংলা’।

বসলাম তো আপনাদের প্রাণের বাংলার গল্প শোনাবো। কিন্তু খুব কোনো বিরাট বিশাল গল্প কি আছে? একটা পত্রিকার জন্ম যেরকম হয় অনেকটা সেরকমই। বেশ কয়েক বছর আগে তরুণ শামীম জাহিদ প্রস্তাব দিয়েছিলো অনলাইনে কাগজ করার বিষয়ে। ওই পর্যন্তই। প্রস্তাবটা ঝুলেই থাকলো নানা কাজের ভিড়ে। কিন্তু শামীম নাছোড়বান্দা। কাগজটা ওরা করতেই চায়। এমন একটা পত্রিকা করার স্বপ্ন ওদের অনেক দিনের। ওরা মানে শামীম আর তার অনুজ জুলফিকার সুমন। শেষে একদিন প্রস্তাবটা আলোচনার টেবিল পর্যন্ত গড়ালো। বসলাম প্রাণের বাংলা নিয়ে। জুলফিকার সুমন ওর-ই তৈরি করা অসাধারণ সুন্দর এক লে-আউট উপস্থাপন করলো। দেখেই আমরা মুগ্ধ। মনে ধরে গেলো প্রাণের বাংলা। হয়তো ওই মনে ধরে যাওয়াটাই প্রাণের বাংলার বীজ বোনার শুরু।
কী পত্রিকা হবে, কেমন হবে এসব নিয়ে ভাবনাটাই মাথায় জন্ম দিলো নানা প্রশ্নের। শেষমেশ একটা অবয়ব দাঁড়িয়ে গেলো প্রাণের বাংলার। শুরু হলো কাজ।
একটু একটু করে পথ কেটে এগিয়েছে প্রাণের বাংলা। অনলাইন সাপ্তাহিক পত্রিকা। শুনতে ছোট বলে মনে হলেও সংসারটা কিন্তু বেশ বড়। আসলে সময় গড়াতে গড়াতে সংসার বড় হয়ে গেলো। মনে আছে প্রথম সংখ্যা বের করতে গিয়ে আপ করার কাজ দু’দিন করতে হয়েছিলো আমাদের। মাঝে মাঝে ভাবি, এখন কাজটা কীভাবে একটা নিয়মের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে!মাত্র কয়েক ঘন্টায়ই আপ ফিনিস।
পত্রিকা মেক-আপ করার দিনে অফিসে চা, কফি, পুরি খাওয়া আমাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। টোস্ট থেকে শুরু করে মিষ্টি বিস্কুট এমন কি পপকর্ণও কাজের সময় প্রাণের বাংলার অফিসের টেবিল দখল করে রাখে। আমাদের কিন্তু ছোট একটা ইলেকট্রিক কেতলি ছিলো চা বানানোর জন্য।ছিলো ছোট সাইজের চায়ের কাপ। পানি গরম করে কাপে টি ব্যাগ ভাসিয়ে দিয়ে কাজ করা একটা সময় আমাদের চার জনের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো। চুপি চুপি বলে রাখি, আমাদের কেতলিটা নষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রাণের বাংলার ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক শামীম জাহিদ ওটা আর মেরামত করছে না। ফলে কফি হয়ে উঠেছে প্রণোদনার প্রধান হাতিয়ার।

যেখান থেকে প্রাণের বাংলা’র শুরু

প্রাণের বাংলা তিন বছরে পা রাখলো পেছন ঘুরে তাকালে কতগুলো ক্যালেন্ডারের পাতা উড়ে যায়। তারিখের পর তারিখে নানা ঘটনার গল্প। কিন্তু মন দিয়ে ভাবলে তো দেখি প্রাণের বাংলা আমাদের বুকের ভেতরে স্বপ্নের মতোন একটা সংসার ছড়িয়ে বসেছে। সেখানে কত ভাবনার পাখি এসে বসে, কত পরিকল্পনা কাগজ কলমেই তৈরী করে আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা। জানি না আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পৃথিবীতে কারো সফল হয়েছে কিনা?
আকাশটাতো ছোঁয়া যায় না। কিন্তু মানুষ চেষ্টা করে। প্রাণের বাংলাও আছে সেই দলে। ও কথায় কথায় বলে রাখি, প্রাণের বাংলা এখন নতুন অফিসে। অফিসটা আরেকটু বড় হয়েছে। এখন বেশ অনেকটা গোছানো অফিসে আমরা কাজ করি। ছোট্ট অফিসটাও আমাদের আছে। ওটা এখনও আমাদের অনেক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিন বছরের পথ চলা নিকুঞ্জ এলাকার অফিস থেকে। কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় সেই অফিসেই। লক্ষ্য করে দেখেছি ওই অফিসটাতে যারা আসে তারা সবাই তরুণ। সবাই পথ চলছে স্বপ্নের হাত ধরে। পথের শেষটা তারা কেউ জানে না। কিন্তু পথ চলাতেই তাদের প্রভূত আনন্দ। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, প্রাণের বাংলা অফিসের দেয়াল অনেক স্বপ্নের কথা শুনে যায়। সেগুলো কখনো বাস্তবায়িত হয় কখনো হয় না। কিন্তু স্বপ্নের ঘরবাড়ি তৈরি হতেই থাকে আমাদের অফিসে।
প্রাণের বাংলা’র অফিসে বৃহস্পতিবার কেউ কেউ আসে আড্ডা দিতে। কেউ আসে কাজে। অনেক সময় কাজের দাপটে চ্যাপ্টা হয়ে ভাবি এরা অন্যদিন আসে না কেনো! অন্যদিন তো আমরা ফাঁকা বসে থাকি। কিন্তু তারপর যদি বৃহস্পতিবার নিয়মিত মুখগুলো অনুপস্থিত হয় তখন তাদের কথা মনে পড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর আড্ডা জমে ওঠার মুখে তাদের কথা ভাবতে থাকি আমরা।

চলছে প্রাণের বাংলা’র কাজ

প্রাণের বাংলার পাঠক এই তিন বছরে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটির বেশি। আমরা গুনে বের করিনি। এরকম খবর আমাদের জানায় অনলাইনে প্রকাশিত পত্রিকার পাঠকপ্রিয়তা যাচাইয়ের মাধ্যমগুলো। প্রাণের বাংলা কতদূর পথ পার হয়ে কোথায় পৌঁছেছে জানি না। তবে পাঠকদের প্রাণে যে সামান্য একটু জায়গা করে নিতে পেরেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই আমাদের। বৃহস্পতিবার পত্রিকা আপ করার পর প্রাণের বাংলায় নিয়মিত দর্শনার্থী ও পাঠক মিলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় এক লক্ষের ওপরে। পাঠকদের এই চাপ সইতে না পেরে মাঝে তিনবার প্রাণের বাংলার সার্ভার সাহেবও ভেঙ্গে পড়েছিলো। আমাদের প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান জুলফিকার সুমনের জন্য সেটা ছিলো নির্যাতনের দিন। তাকেই পুরো সংকট সামাল দিতে হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় ভালোবাসার প্রবাহ এমনই। পাঠকদের এই ভালোবাসাই তো আমরা চেয়েছিলাম। তারা যে প্রাণের বাংলাকে ভালোবাসেন তার প্রমাণও মিলেছে তার প্রবাহের চাপে।
প্রাণের বাংলা অফিসে বসে মাঝে মাঝে ভাবি, কে জানে কবে আমাদের স্বপ্নগুলো সফল হবে? আমাদের আরেক সহকর্মী ইরাজ আহমেদ অবশ্য আশার বাতিটা জ্বালিয়ে রাখতে চান। কিছু একটা হবেই। প্রাণের বাংলা লেখক আর পাঠকদের ভালোবাসা নিয়ে অনেক দূরের পথ পার হবেই।
যুদ্ধটা খুব সহজ নয়। কিন্তু এর চাইতেই বোধ করি কঠিন পাঠক-লেখকদের ভালোবাসার চাপ। সেখানেই তো আটকে থাকা। পেছন ফিরে যখন এই ভালোবাসাটা দেখতে পাই, প্রতিদিন আমাদের পাশে উপলব্ধি করি তাদের সরব উপস্থিতি তখন উচ্চস্বরে বলতে ইচ্ছে করে-জয় হোক আমাদের প্রাণের বাংলা’র।

আবিদা নাসরীন কলি

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]