আমাদের সন্তানদের জন্য শুভ কামনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সালাহ্ উদ্দিন শৈবাল

শুনতে শুনতে অনেক সময় অনেক ভুল কথাও বিশ্বাস হয়ে যায়। বাংলাদেশে জন্মের সুবাদে অনেক না পারাই আমাদের ছোট বেলা থেকে শুনতে হয়। দেখতে হয়।

হামজা দেওয়ান

এক সময় ফুটবল পাগল জাতি ছিলাম আমরা। চুন্নু উইং দিয়ে বল পায়ে দৌড় শুরু করলে আমাদের রক্ত নেচে উঠতো। বাংলাদেশ ফুটবলের অনেক প্রথমের সংগে এই চুন্নুর নাম জড়িয়ে আছে। নেপালের বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক, ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম গোল, এশিয়া কাপে প্রথম গোল…। চুন্নু আমার প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন! আরো কত নাম….সালাউদ্দিন..সালাম…সাব্বির..কায়সার হামিদ…।

………এরপর হঠাৎ আবিস্কার হলো বাঙালী ফুটবল খেলতে পারে না। পারলেও নব্বই মিনিট পারে না।

আমরা শুনতে শুনতে বিশ্বাস করতে থাকলাম। ফুটবল খেলা দেখা ছেড়ে দিলাম। যাদের অযোগ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ফুটবলের মৃত্যু হলো তাদের কোন বিচারই হলো না। রাতারাতি এক ফুটবল পাগল..ফুটবল ভালোবাসা জাতি ক্রিকেটে মজে গেলো। এই বিরাট খরচ বহুল খেলা…দুনিয়ার অনেকের কাছে না চেনা এই খেলা আমাদের অক্সিজেন হয়ে গেলো। আশা বাঁচিয়ে রাখতে মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরে। উপায় কি?

সবাই কিন্তু শুনে শুনেই বিশ্বাস করে না। চ্যালেঞ্জ করে। নিজের উপর আস্থা রাখে। সুযোগ খুঁজতে থাকে। দেশে না পেলে বিদেশে।

জামাল ভুইয়াকে আমরা সবাই চিনি। ডেনমার্কে জন্ম। সেখানেই বেড়ে উঠা। এখন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন!!

হামজা দেওয়ান। ইংল্যান্ডে জন্ম। ইংল্যান্ড অনুর্ধ ২১ দলে খেলেছে। এখন নামী ক্লাব Leicester City’র হয়ে খেলছে।

জিদান মিয়া

ইংল্যান্ডে জন্ম জিদান মিয়া’কে নিয়ে একবার ডেইলী অবজারভার একটা ষ্টোরী করেছিলো। তার শিরোনাম ছিলো A football legend in the making। ২০০১ সালে জন্ম নেয়া এই তরুন মাত্র এগার বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার নেশায় আমেরিকায় পাড়ি জমায় Michael Johnson Performance Centre স্কলারশীপ নিয়ে। FC Dallas Youth Team এবং Sporting United হয়ে খেলেছে…খেলছে। তার নিজস্ব পেইজে লেখা “An inspiring young man, chasing the dream”। পরিচিতিতে ছোট করে লেখা “Bangladeshi descent”! প্রিয় জিদানের জন্য শুভ কামনা!

কোন বাংলাদেশী আজ পর্যন্ত দেশ ভিত্তিক বা ক্লাব ভিত্তিক বিশ্বকাপ ফুটবল খেলেনি। কিন্তু যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা জানেন সে দিন হয়তো খুব দূরেও নেই!

এবার বলবো কানাডার সামিতের কথা। বাংলাদেশী বাবা-মায়ের সন্তান সামিত সোম আমাদের সে স্বপ্নই দেখাচ্ছে। অসম্ভব মেধাবী এই মিড ফিল্ডার কানাডার অনূর্ধ ২০ দলে খেলে ফেলেছে।

দেশ ভিত্তিক বিশ্বকাপ ছাড়াও ক্লাব ভিত্তিক বিশ্বকাপ হয়। নাম ফিফা ক্লাব ওর্য়াল্ড কাপ। সেখানে মহাদেশেগুলোর সেরা টুর্নামেন্টের সেরা ক্লাবগুলো অংশ নেয়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ান রিয়াল মাদ্রিদ। CONCACAF Champions League final হচ্ছে উত্তর আমেরিকার ও আশেপাশের এলাকার টুর্নামেন্ট। এখানে ইউ. এস, মেক্সিকো, কোস্টারিকা ছাড়াও আছে ক্যারাবিয়ান বিভিন্ন দেশ।

কানাডার এবারের প্রতিনিধি মেজর লীগ সকার চ্যাম্পিয়ান Montreal Impact। সামিত এই দলের গুরুত্বপূর্ন খেলোয়াড়!! কানাডার পত্রিকা সিবিসি শিরোনাম করেছে “Shamit Shome: The Montreal Impact’s renaissance man”। সামিতের দল খেলবে ২০২০ সালের CONCACAF চ্যাম্পিয়ান লীগ। কানাডার ক্লাবগুলো এই টুর্নামেন্টে কিন্তু খুব শক্ত প্রতিপক্ষ। ২০১৮ আর ২০১৫ সালে রানার্স-আপ হয়েছে। চ্যাম্পিয়ান হলেই ক্লাব বিশ্বকাপ! সংগে সামিত!! প্রথম বাংলাদেশের ছেলে বিশ্বকাপে? অসম্ভব কিছু অবশ্যই না।

আমি আরো বেশি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি ব্রাজিল..আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মতোই হামজা, জিদান, সামিত এবং আরো অনেক অনেক দেশী ছেলে মেয়ে পৃথিবীর সেরা সেরা লিগে খেলবে….তারপর জামাল ভুইয়া’র মতো সময় হলে ঠিক শরীরে লাল-সবুজ জার্সী জড়িয়ে বিশ্ব মঞ্চে উড়াবে বাংলাদেশের পতাকা। সারা পৃথিবী অবাক হয়ে দেখবে…ছোটো-খাটো গড়নের এই দম কম বাংগালী ফুটবল ভালোবাসে…ফুটবল খেলতে পারে।

আমরা পারি না এমন কোন কাজ আমি খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা পারে না এমন কোন কাজ আমি খুঁজে পাই নি।

কাভার ছবিতে: সামিত

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]