আমার আমি, তোমাকে পর্ব- এক

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

জসিম মল্লিক

 জেসমিন কানাডা ফিরে যাওয়ার পর আমার যে খুব অসুবিধা হচ্ছে তা না। আমাকে দেখভাল করার মানুষ যথেষ্টই আছে । তবে এই তালিকায় আমার ফ্যামিলির কেউ নাই। আমি আসলে তাদের সেই সুযোগ দিতেও চাই না। আমার অবচেতন মন যা বলে আমি তাই করি। আমার মন আগে থেকেই বলে দেয় আমি কার কাছ থেকে কতটুকু গ্রহণ করবো। আমি সবার কাছ থেকে সবকিছু নিতে পারি না। আমার অস্বস্তি হয়। সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি হয় পরিবারের লোকদের কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতে। কেনো আমার এরকম হয় আমি জানিনা। আমি সবসময় একাই আসি ঢাকা। এবারই প্রথম এসেছি দু’জনে । তাই জেসমিন চলে যাওয়ার পর আমি আমার পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেছি। একা থাকার অভ্যাসে। জেসমিন যতদিন ছিল একটা শাসনের মধ্যে ছিলাম। এখনও আছে কিন্তু দূর থেকে! জেসমিন চলে যাওযার পর আবারও বরিশাল গেলাম ঢাকার একঘেয়েমি দূর করতে। মনে করেছিলাম কয়েকদিন থাকব, ঘুরব, বেড়াব কিন্তু দু’দিন যেতে না যেতেই আবার ফিরে আসলাম ঢাকা। বাড়িতে মায়ের শূন্য ঘরটা কেমন ছন্নছাড়া হয়ে আছে। মনটা খারাপ হয়ে গেলো! মা নাই বাড়িতে মন বসাতে পারিনা। সবকিছু কেমন যান্ত্রিক আর একঘেয়ে লাগে। মনে হয় সবকিছুর মধ্যে যতটা না প্রানের স্পর্শ তারচেয়ে বেশি লাভক্ষতির হিসাব। বরিশাল থেকে ফিরে আসার পর কিছুদিন ব্যাস্ত থাকলাম নতুন বইয়ের প্রুফ দেখা, কভার ডিজাইন এসব নিয়ে। তারপর চলে গেলাম বেড়াতে। আমি ঘুরতে পছন্দ করি। একজায়গায় বেশিদিন থাকা আমার জন্য কষ্টকর। তিনদিন ধরে জেসমিন ফোন দেয় না। স্বাধীনতা উপভোগ করছি ঠিকই কিন্তু তারপরও মনে হয় কতদিন ধরে কথা হয় না! ফোন করলেই যে সবসময় মধুর কথা হয় তা না। বেশিরভাগই আমার দোষক্রুটি নিয়ে কথা। নানা অভিযোগ। জীবনে কিছুই করতে পারিনি, শুধু ঘুরে বেড়াই। সংসারের কথা ভাবি না। আমি হোয়াটসঅ্যাপে লিখলাম, ’কোনো খবর নাই’। জেসমিন এসব নিয়মিত চেক করে না। আমি সেটা জানি। তাই তৎক্ষনাৎ উত্তর আশাও করি নাই। ফেসবুকে ছবি আপলোড করতে হলেও আমাকে বলবে, আমার ছবিটা চেঞ্জ করে দাওতো। কি একটা পচা ছবি দিছো প্রোফাইলে..। ঢাকায় ফিরে রাতেই লিখলাম, ’আমি সিক’। একটু পরই কলব্যাক। জানতাম ফোন আসবে। -ফোন না করে ম্যাসেজ লেখো কেনো! আমি হাসি, বলি এমনি। -ঢং। আমি আরো জোরে হাসি। জেসমিন ততোধিক গম্ভীর হয়ে বলল, কি হইছে! – আমার ব্যাক পেইন। -এটা নতুন কি। এাতোদিনতো আমার কথা মনে ছিলনা। অসুখ হলেই আমার কথা মনে পড়ে! -কেনো অরিত্রির সঙ্গে প্রতিদিন কথা হইছে! -ফোন করছো কেনো বলো -আমার সুগারও হাই। -আর কিছু! -না আর কিছু না। -সুগার তো হাই হবেই। শুয়ে বসে আরাম করতেছো। কোনো হাঁটাহাঁটি নাই। জানোনাতো ডায়েবেটিস কত খারাপ জিনিস। লিভার কিডনি চোখ সব ধরবে বলে দিলাম। বুঝবা মজা। -ব্যাক পেইনটা ভোগাচ্ছে। -আম্মাকে বলো হট ওয়াটার ব্যাগ দিতে। -বলছি। দিতেছি এখন। -বেশি পেইন কিলার খাবানা। স্টমাকের ক্ষতি হবে। -মনেহয় তুমি ডাক্তার! -তাহলে যতখুশী খাও। আমাকে কিছু বলবা না। ঘুরে বেড়াও শুধু! -তাহলে কাকে বলবো! -জানিনা। বলেই ফোন কেটে দিল। আমি মন খারাপ করে বসে থাকি। একটু পর আবার ফোন করি। -কি হইছে! ঝাঁঝালো কন্ঠ। -ফোন রেখে দাও কেনো! আমার কথা শেষ হয়নাই। -বলো কি বলবা। -ডান চোখটা কেমন ড্রাই ড্রাই লাগতেছে। -রিফ্রেশার দাও। সব আমাকে বলে দিতে হবে! রাতে ভাত খাবানা। আম্মাকে বলবা রুটি করে দিতে। সুগার কত! -বলছি। রুটিই খাই। ৬•৮। -মানুষকে জ্বলাতেও পারো তুমি। -সবাইকে জ্বালাইনা। তোমার আম্মাকে জ্বালাই..। আবারও ফোন কেটে দিল। আমি আপসেট হয়ে ফোনটার দিকে তাকিয়ে থাকি..। ঢাকা ২৭ জানুয়ারী ২০১৭।

ছবি:লেখক