আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

জীবন চলছিলো জীবনের নিয়মে।খুব ঘন ঘন ছবির গান গাইছিলাম। নিয়মিত ভাবে সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলাউদ্দীন আলী ভাই, আলম খান ভাই সত্য সাহা দাদা, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই, আবু তাহের ভাই দিন রাত ডাকছেন। আমরা খুব সময়ানুবর্তিতা মেনে স্টুডিওতে যাই, মনযোগী ছাত্রীর মত যা দেন ঠিকঠাক গাইতে চেষ্টা করি, কিছু ভুলভাল থাকলে রেকর্ডিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমার স্বামী ভুল ধরিয়ে দেন।এর মধ্যেই দু’য়েকটা করে মঞ্চানুষ্ঠান করে যাচ্ছি।সন্তুষ্ট চিত্তেই দিন যায় আমাদের।

আমি একটা জিনিস খুব বিশ্বাস করি,শ্রম যেমন সফলতা আনে তেমনি নিয়মিত ভাবেই সুচিন্তার সঙ্গে সঙ্গে সফলতা আপনা আপনি আসতে থাকে।মাটির গায়ে মাটি লাগে লোহার গায়ে লোহা, টাকার গায়ে টাকা লাগে ঢেউয়ের গায়ে লাগে ঢেউ।পেশাদার জীবন শুরু করে কোন এক চক্রান্তে প্রায় আট বছর আমি আবদ্ধ হয়েছিলাম।কিন্তু হতাশ হইনি।আমাকে আমার সহযাত্রী সাহস যুগিয়েছেন।চলচ্চিত্রের গান আমার সেই বদ্ধ আগল খুলে দিলো।

আমেরিকা থেকে আমার গানের আমন্ত্রণ আসলো। পঁচাশি সালে আমেরিকা যাওয়ার একটা আমন্ত্রণ এনেছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন উপস্থাপক। তখন আমি বলেছিলাম অভিভাবক ছাড়া আমি বিদেশ যাবোনা।তিনি তখন রাগে ফেটে পড়ে ভবিষ্যৎ বাণী এবং বদদোয়া করে গিয়েছিলেন দর্পে যে, এই মেয়ের আর কখনওই বিদেশ যাত্রা হবেনা। আমার বাবা-মা একটু কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু আমার স্বামী বলেছিলেন যোগ্যতা থাকলে আমার অভিভাবক কেন,পুরো ফ্যামিলি সহই যাওয়ার ব্যবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ। আমি এ নিয়ে আর ভাবিনি বা পথ চেয়ে বসে থাকিনি।যখন প্লেব্যাক এ সুনাম ছড়িয়ে পড়ছিলো তখন আমার মঞ্চানুষ্ঠানও বেড়ে গেলো, বিটিভিতেও কদর বাড়লো, এবং সেই সঙ্গে সুদূর লস এঞ্জেলস থেকে গানের আমন্ত্রণ এলো। আমাদের তো ভিসা নাই।তবে পাসপোর্টে কোলকাতা ও লন্ডন এর ভিসা আছে।আল্লাহ ভরসা করে আমেরিকার ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করলাম।

কতকিছু যে সেই ভিসার অ্যাপ্লিকেশন এ চাইলো ইউএসএ অ্যামব্যাসি! খুটিনাটি অনেক কিছুর সঙ্গে বার্থ সার্টিফিকেট, কাবিননামা ইত্যাদির সঙ্গে ব্যংক সলভেন্সীও! লে হালুয়া, ব্যংকে থাকে পনেরো বিশ হাজার টাকা, তাও মাঝেমধ্যেই তুলতে হয়। বড় দুলাভাই এর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ব্যাংকে রেখে সেই রেকর্ড তুলে নিয়ে আল্লাহর নাম করে সব গোছগাছ করে ভয়ংকর আশাময় এর ভোরে আমেরিকান দূতাবাসে গেলাম। সেদিন কতবার আয়াতুল কুরসী পাঠ করেছিলাম মনে করতে পারবো কি?

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]