আমার এই পথ চলাতে আনন্দ…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

দুই.

আবার বাউল সঙ্গীর সঙ্গে পৃথিবীর উচু নীচু পথে হাঁটতে থাকি। পায়ে কড়া পড়ে যায় তবুও পথ চলা থামেনা। আপাতঃ ক্লান্ত এই জোড়াবাউল একটা নদীর ধারে গিয়ে থামি। নদীর কুলুকুলু স্রোত আমার চোখে ঘুম এনে দেয়। আবার পাড় ভাঙ্গার শব্দে চমকে উঠি। চোখ মেলে দেখি আমার সামনে সুরেলা নদী ফেরদৌসী রহমান!

এ যেন বহমান বাংলাদেশ। তাঁকে খুব ছোট বেলাতেই দেখার বিরল সৌভাগ্য হয়েছে। নতুন কুঁড়ি শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী আমি তাঁকে প্রথম দেখেছি বিচারক হিসেবে। তখন আমি গান কি, বিচারক কি, শিল্পী কি কিছুই জানিনা, তোতা পাখির মত গাই “মুসাফির মুছ এ আঁখিজল”। শিশু বয়সে খেলতে না পেরে ও সারাদিন গান সাধনায় বাধ্যতামূলক রত থেকে দিনমান, দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অশ্রু মুছে যাই।

তাঁর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান “ভালোবাসো মোর গান”-এ আমার ডাক পড়লো। আমি আবার ভীত সন্তস্ত্র। বাউলসঙ্গীর দিকে অসহায়ভাবে তাকাই। তিনি এবার স্নেহের দৃষ্টি রাখেন। চোখের ভাষায় বলেন তুমি তো পারো,বোকা মেয়ে! ভয় পেও না, এবারও পারবে ইনশাল্লাহ। পারতে তোমাকে হবেই। এই সাহসেই আমি তাঁর কাছে যাই। নির্ধারিত সময়ে আমি তাঁর আবাসস্থলের দরজায় গিয়ে দাঁড়াই।

বিস্মিত আমি তাকিয়ে দেখি দরজা খুলে সহাস্য দাঁড়িয়ে আছেন আমার ধ্রবতারা! যেন কত দিন ধরে আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। বুকে জড়িয়ে নিলেন সোনা ময়না বলে। ওমা এমনও হয়! আত্মস্থ হতে হতেই গান নিয়ে বসলেন আর আমি শুধুই অবলোকন করছি। কি তাঁর উচ্চতা কি তাঁর সৌন্দর্য, কি তাঁর বাচন ভঙ্গি। গানের ঘরে আমি আরও বিমোহিত। গানের যে এত খাতা থাকতে পারে, তা আবার এত সুন্দর করে সাজানো থাকতে পারে তা আমার ধারনার বাইরে! মন্ত্রমুগ্ধের মত আমি গান তুলতে থাকি। আর “কলের গান” এর মত করে পুঙ্খানুপঙ্খরূপে উঁনি সেগুলো তুলে দিতে থাকলেন। গান তুলছিলাম আর ভাবছিলাম এই সেই ধ্রুবতারা যার কন্ঠে আস্ত একটা নদী বাস করে। নদীর কুলকুল ঢেঊ, নদীর ভাঙ্গন, দুর্বার গতি, আর আজলা ভরা জল সব একসঙ্গে পাওয়া যায়।

উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত , সিনেমার চটুল প্রেমময় গান, আর্তনাদ ভরা ভাটিয়ালি একজন মানুষ কিভাবে ধারণ করেন!এ প্রজন্মের মানুষ খালি তাঁকে খালামনি ডাকে! আরে,ওটা তো তাঁর একটা ছোট পরিচয়!

সেটাও কম বড় নয় তবে তাঁর আগে তিনি একজন মহা কিংবদন্তি সেটা আমরা বলবোনা? সে যাইহোক।

আমি যতই তাকে বিস্মিত হয়ে দেখি উনি ততই সহজিয়া ভঙ্গিতে বলেন “এই মেয়েটা না! দেখলেই শুধু সালাম করে” এত সালাম করো না সোনা ! আমি ভাবি পায়ে ধরে সালাম? এতো সবার জন্য আসে না। আর সালাম করা যায় না, যদি না তা মন থেকে না আসে।

একজন পুর্নাঙ্গ মানুষ যখন পুর্নাঙ্গ শিল্পীতে পরিণত হয় তখন তাকে আমি মহামানব ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারিনা। এ আমার একান্ত ভাবনা, আমার হৃদয় ঝুলিতে তার ভালোবাসা পূর্ণ করে আবার হাঁটতে থাকি। প্রখর রৌদ্রে ফেরদৌসী আপাকে( আসলে তিনি আমার গানের মা,গানমা) মনে করলেই আমি নদীর বাতাসে গা জুড়িয়ে নিতে পারি।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]