আমার প্রতিবাদের ভাষা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লাল দ্রোহের রঙ। নারীর ঠোঁটও সেই লালের ছোঁয়া পেয়ে হয়ে উঠলো প্রতিবাদের ভাষা। ১৯১২ সালে কয়েক হাজার নারী নিউইয়র্কের রাস্তায় তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মিছিলে সমেবেত হলেন। ইতিহাসের পাতায় এই আন্দোলনের নাম সাফরেজ মুভমেন্ট।আমেরিকার প্রসাধনী নির্মাণে প্রথম নারী এলিজাবেথ আরডেন সেই প্রতিবাদী নারীদের হাতে তুলে দিলেন লাল রঙের লিপস্টিকের টিউব। প্রতিবাদী নারীরা সেদিন তাদের ঠোঁটকে লাল রঙে উজ্জ্বল করে তুলে জানিয়েছিলেন তাদের বিদ্রোহ আর প্রতিবাদ।

লাল লিপস্টিক শতকের পর শতক নানান তাৎপর্যে নিজের উপস্থিতিকে জানান দিয়েছে। প্রাচীন মিশরে অভিজাত শ্রেণীর নারীদের মাঝে ঠোঁটে লাল রঙ বুলিয়ে নেয়ার প্রচলন ছিলো। প্রাচীন গ্রিসে বারবনিতারাও ঠোঁটে ব্যবহার করতো লাল রঙ। এই রঙ পৃথিবীজুড়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী এবং সংস্কৃতিকে প্রকাশ করেছে। রেচেল ফেলডার এই বিখ্যাত রঙের লিপস্টিকের ওপর একটি বই-ই লিখে ফেলেছেন-রেড লিপস্টিক, অ্যান ওড টু এ বিউটি আইকন’। রেচেল মনে করেন লাল রঙের লিপস্টিক শুধু প্রতিবাদের ভাষা নয়, এটি নারীর একান্ত বিষয়ও।

বিশ শতকে লাল লিপস্টিক বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় হওয়ার আগে বস্তুটির বেশ বদনামই ছিলো।নারীরা এই রঙ ঠোঁটে ব্যবহার করলে ধরে নেয়া হতো তারা সমাজে অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। এই নারীদের উদ্ধত হিসেবেও চিহ্নিত করা হতো। মধ্যযুগে ঠোঁটে লাল রঙ মাখা একজন নারীকে বলা হতো শয়তানের দোসর। ভোটের অধিকারের জন্য লড়াইয়ে নামা নারীরা লাল লিপস্টিক ব্যবহার করে গোটা বিশ্বে তাদের সহযোদ্ধাদের মাঝেও লাল লিপস্টিককে জনপ্রিয় করে তুললেন।

নারীর আধিকার আদায়ের এই লড়াই ইউরোপ হয়ে নিউজিল্যান্ড ঘুরে আষ্ট্রেলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।ইংল্যান্ডে এই আন্দোলনের নেত্রী এমিলিয়নি প্যানখ্রুইস্ট নিজেই লাল রঙের লিপস্টিক পড়ে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন এবংএই রঙের লিপস্টিক দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাল লিপস্টিক আবারও প্রতিবাদ আর দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। হিটলারের তীব্র অপছন্দ ছিলো লাল রঙ। আর তাই ইংল্যান্ডে যুদ্ধে যোগ দেয়া সকল নারীরা তাদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে লাল লিপস্টিক দিয়ে নিজেদের ঠোঁট রাঙিয়ে নিতেন। নাজিবাদের বিরুদ্ধে সেটাই ছিলো তাদের বিদ্রোহ। যুদ্ধের বছরে কর বসায় লিপস্টিকের দাম বেড়ে যায়। তখন নারীরা বিটের রস মেখে তাদের ঠোঁট রঙিন করে তুলতেন। যুদ্ধের সময় আমেরিকায় যুদ্ধে যোগ দেয়া নার্সদের জন্য লাল লিপস্টিকের ব্যবহার ছিলো বাধ্যতামূলক।

লাল লিপস্টিকের এই বিদ্রোহী আবেদন কিন্তু আজও ফুরিয়ে যায়নি। ২০১৫ সালে ম্যাসিডোনিয়ায় প্রতিবাদ মিছিল থেকে এক নারী পুলিশ অফিসারের ঢালে তার লাল লিপস্টিক মাখা ঠোঁটের লাল চুম্বন চিহ্ন এঁকে দিয়ে প্রবল সংবাদ হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে নিকারাগুয়াতে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় নারীদের পাশাপাশি পুরুষ কমরেডরা তাদের ঠোঁটে লাল রিপস্টিক মেখে পথে নেমে এসেছিলেন। গত বছর চিলির রাজধানীতে প্রায় ১০ হাজার নারী মিছিল করেছিলেন ধর্ষণের প্রতিবাদে। তাদের সবার গলায় ঝোলানো ছিলো লাল রঙের স্কার্ফ আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন

ছবিঃ সিএনএন, গুগল      

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]