বই করেছি চুরি…

মার্ক টোয়েনের সেই কথার সময় কবেই তো খতম। কিন্তু বইচুরির গল্প আজো বেঁচে আছে। কেউ বলেন বই চুরি, কারো ভাষায় বই মারা। কথাটা যাই হোক সখের অথবা খুব সুখের অনুভূতির মতো বইটা আলমারি থেকে হাওয়া হয়ে গেলে মেজাজও যে খারাপ হয় তাতে সন্দেহ নেই। বই চুরি হয় নানান জায়গা থেকে। লাইব্রেরী, দোকান, বন্ধুর বাড়ি, বইমেলা। সেসব বইচুরির স্মৃতিও অবিরাম ভেসে বেড়ায় মনে।সেই স্মৃতিকে উসকে দিতেই চুরি করা অথবা চুরি যাওয়া বই নিয়ে কথা বলা বিশিষ্টজনদের সঙ্গে। তারাও জানিয়েছেন বইচুরি নিয়ে নিজেদের জীবনের রুদ্ধশ্বাস গল্প। এসব  নিয়েই রইলো প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজন ‘বই করেছি চুরি…’।

 সেটাই আমার একমাত্র বই চুরির গল্প

শম্পা রেজা

অভিনয় ও সঙ্গীত শিল্পী

কলেজ জীবনে একবার ঢাকার আমেরিকান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে একটা বই চুরি করেছিলাম। সেটাই আমার একমাত্র বই চুরির গল্প। অনেক বন্ধু মিলে দলবেঁধে গিয়েছিলাম। যতদূর মনে পড়ে ওদের কী একটা অনুষ্ঠান ছিলো। আমরা কয়েকজন পরিকল্পনা অনুযায়ী বই চুরি করি ওদের লাইব্রেরী থেকে। এখনো মনে আছে আমার বইটা ছিলো আফ্রিকার নারী কবিদের কবিতার একটি সংকলন। সেই ঘটনার পর অবশ্য আর বই চুরি করিনি।

আমার কাছে বই চুরি আর টাকা চুরি এখন সমার্থক। অনেকে বলে জ্ঞান চুরি করছি। কিন্তু আমার মনে হয়, জ্ঞান তো বলে সজ্ঞানে কোনোকিছু চুরি না করতে। একজন মানুষ অনেক বছর ধরে একটা মূল্যবান বই যত্নে ধরে রেখেছে তার শেলফে। আর আমি গিয়ে সুযোগ পেয়ে বইটা চুরি করলাম-ব্যাপারটা আমার এখন আর ভালো লাগে না।সে তো বহুকাল ধরে সেই বইটা আগলে রেখেছে যত্ন দিয়ে। ওই বইটা চুরি হওয়া মানে তার অনেক ভালোলাগার অনুভুতিকেও চুরি করা।

আমাকে বাসা থেকে মাসের খরচের সঙ্গে সবসময় বই কেনার টাকা দেয়া হতো আলাদাভাবে। তাই পরে আর বই চুরি করার আগ্রহ অনুভব করিনি মনের মধ্যে।

আমার অবশ্য বই চুরির সৌভাগ্য হয় নাই
আহসান হাবীব

 লেখক ও উন্মাদ কার্টুন পত্রিকা সম্পাদক

লেখকদের বই চুরি। এই শিরোনোমে একটা লেখা লিখতে হবে। কি লিখি?
এর সবচে কমন গল্পতো সেই একটাই পৃথিবী বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েন এর বাসা ভর্তি বই ছিলো। বন্ধুরা তাকে বললো ‘তোমার বাসায় এত বই কিন্তু সেলফ কোথায়? ’
মার্ক টোয়েনের বিখ্যাত উত্তর। ‘বই যেভাবে জোগাড় করেছি সেলফতো সেভাবে জোগাড় করা সম্ভব না’ বলা যায় মার্ক টোয়েনই বই চুরিটাকে জায়েজ করে দিয়ে গেছেন। কাজেই বই চুরি আসলে জ্ঞান চুরি। জ্ঞান চুরিতে অপরাধ নেই।

আমার অবশ্য বই চুরির সৌভাগ্য হয় নাই। কারণ আমি বড় হয়েছি বইয়ের মধ্যেই। আমার বাবার ছিলো বইয়ের হিউজ কালেকশন। তিনি শুধুই বই কিনতেন। আর ছিলো তার পত্র পত্রিকার কালেকশন। দেশ পত্রিকা থেকে শুরু করে হেন পত্রিকা নেই তিনি সংগ্রহ করতেন না। সব পত্রিকা আবার বইয়ের মত করেই বাধাই করা থাকতো।

আবার আমরা যখন ছুটি-ছাটায় দাদা বাড়ি বেড়াতে যেতাম। সেখানেও ছিলো একটা লাইব্রেরী সেটাও বাবারই করা। আবার যখন নানার বাড়ি যেতাম সেখানে অন্য কাহিনী। সেখানে পারিবারিক লাইব্রেরী না থাকলেও এক মামার ছিলো বইয়ের দোকান, নাম ছিল ‘শেখ লাইব্রেরী’। কাজেই চারিদিকে বই বই আর বই। চাহিবামাত্র বই পেয়েছি। বই চুরি করতে হয় নাই। তবে হ্যাঁ একটা কাজ করতে হয়েছে, বই চুরি ঠেকাতে হয়েছে নানা কৌশলে। সেটাতেও মজা কম না। জ্ঞান চোরকে সসন্মানে মনে করিয়ে দেয়া যে সে হয়তো ভুল করে অমুক বইটা তার ব্যাগে ভরে ফেলেছে বা শার্টের নিচে গুজে ফেলেছে, মানুষতো ভুল করেই।

সে যাই হোক নিজের চুরির কাহিনী যখন বলতে পারলাম না তখন এক বিখ্যাত বিদেশী জ্যোতির বিজ্ঞান লেখকের বই চুরির একটা গল্প বলা যাক। সেই লেখক তখন কিশোর । গ্রহ নক্ষত্রের দিকে তার দারুন আগ্রহ। একটা লাইব্রেরী থেকে গ্রহ নক্ষত্রের একটা বই চুরির সে প্লান করলো। যেই ভাবা সেই কাজ। ঠিকঠাক মতই চুরির কাজ সম্পন্ন হলো। লাইব্রেরিয়ান টেরও পেলো না। কিন্তু বাসায় এসে বই খুলে দেখে একি ? নক্ষত্র তারকাদের বইই বটে, তবে তারা আকাশের গ্রহ নক্ষত্র নন। সব যে হলিউডের তারকার ছবিতে ভর্তি বইটা !

সুযোগ পেলেই আমি বই মেরে দেবো

শহিদুজ্জামান সেলিম

অভিনয়শিল্পী

আমি বই চুরি বলতে চাই না, বলতে চাই বই সংগ্রহ। কাজটা আমি এখনো করি। সুযোগ পেলেই কারো সংগ্রহ থেকে বই সরিয়ে ফেলি। কোথাও বইয়ের সম্ভার দেখলেই আমার ভেতরে বই মেরে দেয়ার  ইচ্ছাটা জেগে ওঠে।আমাদের ভাষায় বই সরানোর ব্যাপারটা আসলে চুরি নয়, বই মারা। বই মেরে দেয়া কথাটা শুনতেই আমরা বেশি অভ্যস্ত। বলিও কথাটা খুব বেশি।

এই কিছুদিন আগে বাতিঘর নামে একটা বড় বইয়ের দোকানে গিয়েছিলাম। থরে থরে বই সাজানো সেখানে। বই ঘাটতে ঘাটতে বই মেরে দেয়ার ইচ্ছাটা জেগে উঠলো। গোটা পাঁচেক বই পছন্দও হলো। কিন্তু দোকানে সিসি ক্যামেরার পাহারা থাকায় কাজটা করতে পারলাম না। শেষে পছন্দের বইগুলো কিনে ফেলেছি।

একবার এক শ্যুটিং হাউজ থেকে হুমায়ূন আহমেদের  কবি উপন্যাসটা মেরে দিয়েছিলাম। বেশ পুরনো বই। বই তো নিয়ে এসে রাখলাম বইয়ের তাকে। কিন্তু সেই বই আমার জীবনে অভিশাপ হয়ে এসেছিলো। বইটার সঙ্গে ঘুনপোকা চলেএলো। সেই পোকা আমার বইয়ের শেলফও কেটে ফেললো। একদিন তাকটাই ভেঙ্গে পড়লো অন্যসব বই নিয়ে। কারণ একটাই-পোকার আক্রমণ। সেই পোকা আমার অনেক নতুন বই নষ্ট করেছিলো। বলতে পারেন বই চুরির ফল। কিন্তু এসব ঘটনা কিন্তু আমার বই মেরে দেয়ার ইচ্ছাটাকে মারতে পারেনি। সুযোগ পেলেই আমি বই মেরে দেবো।

 

আসলে তো এই চুরিতে পাপ নাই

লুৎফর রহমান রিটন

শিশু সাহিত্যিক

বই চুরি করি নাই কথাটা বললে মিথ্যা বলা হবে। বই চুরি আমি করেছি। কিন্তু প্রথম কোন বইটা চুরি করেছি এবং কার কাছ থেকে করেছি সেটা প্রকাশ করতে পারবো না। বলতে চাই না আসলে। তবে ঘটনাটা আমার মনে আছে।

এখনো দুষ্প্রাপ্য কোনো বই দেখলে আমার চুরির ইচ্ছা জাগে। আসলে যে বইটা আমি আর টাকা দিয়েও কিনতে পারবো না সেরকম বই নিজের সংগ্রহে রেখে দেয়ার একটা টান অনুভব করি। বলা যায়, বই মারার পক্ষে একটা ব্যাখ্যা। আসলে তো এই চুরিতে পাপ নেই। জ্ঞান চুরি করলে অন্যায় হয় না বলেই আমার বিশ্বাস। আমি সেই জ্ঞান বুঝে অন্যের বই নিজের দখলে নিতে চাই।

আজকাল অবশ্য এই কাজটা তেমন করা হয় না।এখন বই কিনতে হয়। তবে বই চুরি ব্যাপারটা আমি এনজয় করি আজো।

বই চুরি বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুব ভয়াবহ

মাহবুব আজীজ

 লেখক, ফিচার সম্পাদক সমকাল

বই চুরি বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুব ভয়াবহ।আমার মতো এত বিপজ্জনক পদক্ষেপ কেউ বই চুরি করতে নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।আমার প্রথম বই চুরি ময়মনসিংহে। তখন আমি জেলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরী থেকে বই একটা বই চুরি করে ফেলি। সেটাই আমার শুরু। এরপর থেকে তিন বন্ধু মিলে চুরি করা শুরু করলাম। শহরের ছিলো তিনটি লাইব্রেরী। সেখান থেকে নানান কবিতা সংকলন, উপন্যাস চুরি করতে লাগলাম আমরা।

আমাদের পরবর্তী শিকার ছিলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। আমরা তখন বই চুরি করতাম কবি বা লেখক ধরে। চুরি করতে লাগলাম রচনাবলীও।

বই চুরি করতে বাড়িতে মিথ্যা বলে ঢাকায় চলে এলাম। তখন কলেজের ছাত্র। নিউমার্কেটের মহিউদ্দিন অ্যান্ড সন্স দোকানটি ছিলো আমাদের শিকার। মালিক ভদ্রলোকের সঙ্গে গল্প করতে করতে আমরা সেদিন ব্যাগ ভর্তি করেছিলাম বই দিয়ে। এরপর বহুদিন আমরা এই দোকান থেকে বই সরিয়েছি। পড়েছি বিখ্যাত সব লেখকদের বই। শেষে আমার এই চুরিকাণ্ডের এক দোসর বন্ধু ধরা পড়ে যায় ওই দোকানে। আমিও আটকে যাই। যদিও সেদিন আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এই ঘটনার জন্য আমাকে আমার কলেজ থেকে এক বছরের জন্য সাসপেণ্ড করা হয়।

বই চুরিটা আমার কাছে ছিলো অনেকটা কবিতা লেখার মতো।এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অন্য এক পৃথিবী। আমি বই চুরিকে সমর্থন করি না। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাটুকু আমাকে লেখক হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে অনেক।

আমার নিজের বইচুরির গল্পগুলি সে তুলনায় নেহাত বিবর্ণ

সাগুফতা শারমীন তানিয়া

লেখক

‘দাও শ্যাল নট স্টীল’ অর্থাৎ “তুমি চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন করিবে না”, সিনাই পর্বত থেকে হিব্রুতে দশখানা কমান্ডমেন্টস বা আচরণীয় বিধি লেখা কর্দমলিপি বগলদাবা করে মুসানবী নামলেন, তাতে একখানা বিধি হচ্ছে- চুরি কোরো না। তা এক পর্যায়ে তিনি দেখলেন তাঁর প্রিয় অনুসারীরা সেই বিধিমালা একেবারে বিস্মৃত হয়েছে। প্রেরিত পুরুষদের বিস্ময় আর বেদনা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য যা তা বলবার শুরুতে বলে নিচ্ছি— এখনকার পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি চুরি হওয়া বইটি হচ্ছে ‘বাইবেল’। যেহেতু বইচুরির দায় থেকে নিজেকে পৃথক করতে পারছি না (সত্যভাষণের খাতিরেই) তাই বলে নিচ্ছি, অপরের সম্পত্তি দখল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেদখল এইসব যা কিছু অপরাধ আমরা করি, আমার মতে এর ভেতরে সবচেয়ে ছোটখাট অপরাধ হচ্ছে বইচুরি। বইয়ের প্রতি, তথা বিদ্যাচর্চার প্রতি সামান্যতম অনুরাগ না থাকলে এ কাজ লোকে করে বলে মনে হয় না। বিদ্যালাভকল্পে সুদূর চীনে যাওয়ার চাইতে লোকে পাবলিক লাইব্রেরিতে যায়- কিংবা কারো ব্যক্তিগত সংগ্রহ নেড়েচেড়ে দ্যাখে, তারপর সেখানকার বই ‘আহরণ’করে।‘দাও শ্যাল নট কভেট’ও ছিলো সেই আদি বিধিমালায়, লোভ করিওনা, অপরের স্ত্রীর প্রতি, দাসদাসীর প্রতি, ষাঁড় কিংবা গাধার প্রতি… বইয়ের কথাতো লেখা নেই।তা সে ফোঁকর গলে বই চুরির ব্যাপারটা চলে আসতেই পারে।

নিজের অপরাধের বিবৃতি দিলে তা তেমন সুখপ্রদ হবে না হয়তো। শুরু করছি বাড়ি থেকে, ইংরেজিতে যেখান থেকে ‘চ্যারিটি’ শুরু হয়, চৌর্যবৃত্তিরও শুরু সেখানেই। আমাদের বাড়িতে আশৈশব আমি দেখে এসেছি ফিটজেরাল্ডের করা সচিত্র ওমর খৈয়ামের অনুবাদ, পাতায় পাতায় অপূর্ব সব ছবি, ছোটবেলায় না বুঝেই মুখস্ত করে ফেলেছিলাম, “ডিভোর্সড ওল্ড ব্যারেন রিজন ফ্রম মাই বেড, অ্যান্ড টুক দ্য ডটার অভ ভাইন টু স্পাউজ”। এ বই কে কিনে এনেছিলো এ বাড়িতে? মানে, এই হতশ্রী নিমাই-ফাল্গুনী-আশুতোষ-শরৎ রচনাবলীর পাশে… একটু কেমন না? বাপকে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, বাপ বলে না। অবশেষে বল্লো, ও আমি হাতে করে নিয়ে এসেছি।

-হাতে করে নিয়ে এসেছ মানে? এমন বই কে তোমাকে হাতে করে দিয়ে দিল?

-দিয়ে দেয়নি। মেয়ে দেখতে গেছিলাম বিয়ের জন্য। তখন দেখলাম বইটা। চেয়ে এনেছি।

-ফিরিয়ে দিতে যাওনি।

-আরে, মেয়ে পছন্দ হয়নি তো।

মানে ঠারে ঠোরে বাপ বোঝাতে চাইলো এ ঠিক চুরি নয়, বলে কয়েই আনা। কিন্তু একটু ফাঁক আছে তো, বাপ তো জানতো এই মেয়েটিকে তার পছন্দ হয়নি, এখানে সে আর আসবে না, পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারী সমাজে সম্ভাব্য-জামাতাকে বই দিতে কসুর করেনি সে বাড়ির লোকে। যে বাড়িতে এমন সব বই ছড়ানো-ছিটানো থাকে, সেই সংস্কৃতিমনা বাড়ির অদেখা মেয়েটির জন্যে (মানে আমার হলেও-হতে-পারতো মায়ের জন্য) আমার মনঃপীড়া দেখা দিয়েছিলো সত্যি, কিন্তু তা ভুলে গেছিলাম বইটা নেড়েচেড়ে।

আমার নিজের বইচুরির গল্পগুলি সে তুলনায় নেহাত বিবর্ণ, উইয়ে ধরা পুরনো বই শুকোতে দিয়েছিলো লাইব্রেরির লোকে, তুলে এনেছি…এমন। সতীদাহের চিতা থেকে স্ত্রীলোককে উদ্ধার করার মতো শিভালরাস মনোভাব হয়েছে বরং। নিজের বইগুলি চুরি হওয়া ঠেকাতে আমি বইয়ের তাকগুলির সামনে অজস্র চীনামাটির জিনিসপত্র রেখে দিই সেটা বলে রাখি, এতে বই অব্দি হাত পৌঁছানোটা কঠিন হয়। নিজের বই খোয়া গেলে যদিও নিদারুণ মনখারাপ হয়, তবু মার্ক টোয়েনের জয়গান গাই।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

অলংকরণ : প্রাণের বাংলা