আমার রঙ্গীন টিনের বাক্স

রুখসানা আক্তার

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

আমার মুণ্ডের নিউরনের ভিতর একটা টিনের ফুল লতা পাতা আঁকা তোরঙ আছে ,ঠিক তেমনটি যেমনটি ছিলো, ষোড়শী রাকিয়া মুইজির বিয়েতে রঙ্গীন টিনের বাক্সে চল্লিশ বছরের দোজবর ছোট চাচাই এর সাজিয়ে দেয়া লাল মোজা ,গোলাপি প্লাস্টিকের জুতো , সবুজ কাকৈ ,ফুলের তেল , কসক সাবান , লাল ফিতা , তিব্বত স্নো, লাল আলতা , বাবুর হাটের গামছা , কানের মাকরি আর সোনার আঙ্গুর পাতা নোলকের সঙ্গে শাদীর বাহারি শাড়ী জোড়া।

আমি আমার এই পেট্রাতে স্মৃতির চাদরের ভাঁজে ভাঁজে
মুক্তার মত শুভ্র কর্পূর ছিটিয়ে লুকিয়ে রেখেছি আমার শৈশব ।যেখানে আছে সদ্য আঠারো পেরুনো বড় আপার বিয়ে,
পাঠশালায় আসা যাওয়ার পথে সই পাতানো মিলনের সঙ্গে তিন কোনা পুকুর পাড়ের দর্জির দোকানের মেঝেতে পড়ে থাকা পুতুলের বিয়ের জন্য টুকরো কাপড় কুড়ানো ,
আর দুজনের মিলে ছুটির দিনে গামছা দিয়ে স্টাফকোয়াটারের পুকুর ঘাটে ধরতে যাওয়া
কুচচিংড়ি, দারকিনি আর টেংড়া – পুটিমাছ,
সঙ্গে আছে তপু টিপুসহ কচু পাতা দিয়ে ধরতে যাওয়া গঙ্গা ফড়িং আর আমাদের খেলা ঘরের মিছেমিছি সংসারের জন্য কাদা মাটি দিয়ে বানানো হাঁড়ি পাতিল।

আছে আমার কৈশোর , যেখানে আমি ভাঁজ খুলেই কর্পূরের গন্ধ পাই যেমন পেতাম মায়ের লোহার সিন্ধুকের কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে।
আস্তে আস্তে কর্পূরের গন্ধ উবে গিয়ে হালকা সরিষা ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসে ,আমি চোখ বন্ধ করে
আমার মস্তিষ্কে স্মৃতির চাদরের উড়ানের সঙ্গে
ভাসতে ভাসতে নিজেকে আবিষ্কার করি,
আমার থেকে এক ক্লাস নিচে পড়া বন্ধু লুতু ,
আমারা পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ইনাথবাজ গ্রামের হলুদ বেগুনি রঙের সরিষা আর তিশি ক্ষেত পার হয়ে বিলের জলে মাছের অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকা সাদা বলাকার সারি দেখতে দেখতে কাঁশবন ঘেরা আর কলমি লতায় ভাসা ছোট্ট পুকুর পেরিয়ে নতুন খোয়াই নদীর পারে এসে দাঁড়িয়েছি ।

ফোনের রিংটোনের শব্দে আমি ছিটকে পড়ি, তাড়াতাড়ি বাক্সে তালা দিয়ে ফোন তুলি ,ওপাশে
রিশিপশনিস্ট আমার নাম জন্ম তারিখ শিওর হয়ে
আমার আগামী কালের কেমোথেরাপি নেয়ার কথা
স্মরণ করিয়ে দেয় ,আমি হেসে তাকে ধন্যবাদ জানাই।

ছবি: লেখক