আমি আমার মত করে জীবন যাপন করতে চেয়েছি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শারমিন শামস্

শারমিন শামস্

অনেকেই ভাবেন আমি বোধহয় মেয়ের দেখাশোনা, তাকে বড় করার জন্য চাকরি করি না। যা অনেক মা’ই করেন বা করতে বাধ্য হন। আমার ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। আমার মেয়েকে দেখাশোনার জন্য আমি ছাড়াও আরো অনেক মানুষ আছেন, যাদের কাছে রেখে আমি স্বচ্ছন্দ্যে চাকরি বাকরি করতে পারি। মেয়ে হওয়ার পর আমি কিছুদিন কাজ করেছিও। তারপর কোন এক ঘোর লাগা দিনে আমি চাকরি ছেড়ে দিসি। কেন দিসি? অনেকগুলো কারন আছে। যেখানে কাজ করছিলাম, সেখানে একেবারেই ভালো লাগছিল না। মর্যাদাহানি হচ্ছিল, আত্মসম্মান আর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হচ্ছিল। জীবinsite_fb1-1-21017নে আত্মসম্মান আর আত্মবিশ্বাস হারানোর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না, বিধায় জায়গাটি ছাড়তে চেয়েছি। দ্বিতীয় কারণ এবং প্রধান কারণটা হলো, আমি আমার মত করে জীবন যাপন করতে চেয়েছি। বারবারই আমার মনে হচ্ছিল, আমার কী যেন একটা করার কথা, হোক সে তুচ্ছ, হোক সে মহৎ, যা হয় হোক- তবু আমার কিছু একটা এমন করার কথা- যা আমি না করে অন্য কিছু করছি। আর জীবন যেহেতু একটাই তাই জীবনে আমার সময় আর খুব বেশি নাই। তাই আমার এখনই খুঁজে বের করা উচিৎ আসলে আমি কী করতে চাই আর কীভাবে বাঁচতে চাই! তো ছাড়লুম চাকরি। তারপর নিজের ভিতরে ডুব দিয়ে ঝিম ধরে বসে রইলাম বেশ কিছু দিন। এবং সেই ধ্যান কাজে লাগলো। আমি খুঁজে পেলাম আমার কাজ। এখন আমি একটা যাত্রাপথের ভিতরে আছি। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি আর সার্বক্ষণিক লেখালেখিই এখন আমার পেশা। আমি সুখি। হয়তো আগের মত রেগুলার আয় করি না। কিন্তু করি। এবং যেহেতু যাত্রাপথের ভিতরে আছি, তাই এটাতে স্থির হতে আমার কিছু সময় আরো দরকার। সেই সময়টা আমি নিজেকে দিতে রাজি আছি। যাই হোক, আমার পরিচিত কিছু মেয়ে আছেন, যারা সন্তানের দেখাশোনার কারণে, কিংবা অলসতা করতে চাকরি, ক্যারিয়ার ছেড়েছেন, তারা অনেকেই আমাকে তাদের দলে টানতে চান। বলেন, ‘এই যেমন তুমি ছেড়েছো।’ তাদের ভুলটা আমি ভাঙ্গিয়ে দেই। আমি সন্তানের জন্য ক্যারিয়ার ছাড়ি নাই। আমার ক্যারিয়ারটা ভিন্ন দিকে যাত্রা শুরু করেছে মাত্র। এটাই। আমি লিখে এবং সিনেমা বানিয়ে আনন্দে আছি। আমি একটা স্বপ্নকাতুরে মানুষ। আমার স্বপ্ন খুবি বোকা বোকা ধরনের। আমি একটা বইয়ের দোকানের স্বপ্ন দেখি। সেই দোকানটা আমার স্বপ্নের দোকান। একদিন কোন এক শহরে আমি সেই দোকানটা খুলে বসবো। আর সেজান, যাকে দেখে হয়তো বোঝাই যায় না, সে-ও একটা উদ্ভট স্বপ্ন দেখে। একদিন সব ছেড়েছুড়ে স্কুবাডাইভের ট্রেইনার হয়ে যাবে সে। হাহাহাহা। তো সেজন্য হয়তো আমার বইয়ের দোকানটা দিতে হবে কোন এক সমুদ্রঘেষা শহরেই। বেচারার জন্য এইটুকু আমি করতেই পারি। 🙂 জীবন এত ছোট, কিন্তু স্বপ্নগুলো ভীষন সুন্দর। আমাদের স্বপ্নরাই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। আর আমরা বেঁচে থাকি স্বপ্নজয়ের ভিতরেই।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে