আমি ডিসি সাহেবের ভিডিওটি দেখেছি…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মেহেরুন্নেছা

যৌন কাজে কেবল জবরদস্তি হলেই তা নীপিড়ন হিসেবে গণ্য হবে। একজন পুরুষ তার স্ত্রী, প্রেমিকা, বেশ্যা কিংবা যে কোনো নারীর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে। এখানে দোষের কিছুতো নেই। কারণ, ঘটনা যুগলের আগ্রহে ঘটছে। দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ পরস্পরের সম্মতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিলিত হয়েছে। একজন মানুষ তার বিশ্রামকক্ষে একান্ত সময় নিজের মত করে কাটাতেই পারেন। তিনি গান শুনতে পারেন, তিনি ছবি আঁকতে পারেন, তিনি বই পড়তে পারেন, তিনি লিখতে পারেন, তিনি তার প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে আসতে পারেন, একটুখানি উষ্ণতাও নিতে পারেন।

আমি ডিসি সাহেবের ভিডিওটি দেখেছি। তিনি অবশ্যই অনৈতিক কাজ করেছেন। অফিশিয়াল ডেকোরাম ভঙ্গ করেছেন। তার পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাকে হাতেনাতে ধরে সরকারি চাকুরীর বিধান মোতাবেক শাস্তি দেয়া যেতো।

এমন ঘটনা নিশ্চয়ই একদিন ঘটেনি। অনেকদিনের ফসল এমন ঘটনা। তবে ভিডিওকারীরা যেদিনের ঘটনা ভিডিও করেছে সেদিন মোটেই মেয়েটির অসম্মতি ছিলোনা। বরং যারা ভিডিওটি ধারণ করেছে তারা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমনটা করেছে। যে কোনো কারণেই হোক হয়তো ডিসি সাহেব এবং তার নারী সহকারীর উপর তাদের তিলতিল করে ক্ষোভ ও ঈর্ষা পুঞ্জীভূত হচ্ছিলো। তারই ফলশ্রুতিতে এ দুষ্টচক্র সর্বশেষ মোক্ষম শাস্তি দিয়ে দিলো তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভাইরাল করে।

সরকারি চাকুরীর বিধান মোতাবেক যত গুরুদণ্ডই ডিসি সাহেব পাননা কেনো তার শত্রুপক্ষ তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মস্তবড় শাস্তি দিয়ে দিয়েছে। হেটাররা এবার তার পরিবারকে নিয়েও টানা হেঁচড়া শুরু করেছে। এটাকে একধরণের সামাজিক মৃত্যুও বলা চলে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে বা যারা এটি ভিডিও করলো এবং ভাইরাল করলো তারা কি আদৌ তা করতে পারে? মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবন-যাপনের গোপনীয়তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা তথা ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল করার জন্য কি তাদের কোনোরকম শাস্তির আওতায় আনা যায়না? আমি ঠিক জানিনা, এক্ষেত্রে আইন কি বলে?

যদি ভিডিওকারী এবং ভাইরালকারীর জন্য শাস্তির বিধান না থাকে তাহলেতো মানুষের গোপনীয়তা বলে কিছু থাকবেনা। কারণ, কাউকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করে ক্ষতি করতে চাইলে ষড়যন্ত্র করে গোপন মুহূর্ত কোনোভাবে ভিডিও করতে পারলেই হলো। বাস! মুহূর্তে তা ভাইরাল! নিমিষেই একজন মানুষের সারা জীবন ধরে অর্জিত মান-সম্মান ক্ষণিকের অসতর্কতার জন্য জীবনের তরে শেষ!

আসলে সময় এসেছে ভার্চুয়াল জগতকে শক্তভাবে আইনের আওতায় আনা এবং সর্বোপরি ব্যক্তি মানুষের মর্যাদাকে এবং সামাজিক সম্মানকে সমুন্নত রাখার পদক্ষেপ নেয়া।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]