আর খেলবে না শহীদ আফ্রিদি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে অবশেষে বিদায় বলে দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। এর মধ্য দিয়ে ২১ বছরের সফল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন পাকিস্তানি এ অলরাউন্ডার।১৯৯৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় আফ্রিদির। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওডিআইতে ‘বুম বুম’আফ্রিদি বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে গড়েন বিশ্ব রেকর্ড। রেকর্ডটা দীর্ঘ ১৮ বছর অক্ষত ছিল।লেগ স্পিনার অলরাউন্ডার আফ্রিদির সবচেয়ে সেরা সাফল্য আসে ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তার নেতৃত্বে এই ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান।২০১৫ বিশ্বকাপ শেষে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় বলেছিলেন আফ্রিদি। টেস্টকে গুডবাই বলেছিলেন তারও আগে ২০১০ সালে। এবার টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটকেও বিদায় বলে দিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় এ তারকা।টি-টোয়েন্টিতে হয়তো আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল আফ্রিদির। ভারতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে বাজে পারফরম্যান্স করে পাকিস্তান দল। সেবার দলটির পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ায় নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। এরপর পাকিস্তান দলে ফেরার বহু চেষ্টা করলেও নির্বাচকদের নজর কাড়তে পারেননি তিনি। ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন আফ্রিদি। গতকাল রোববার  রাতে পাকিস্তান সুপার লিগে পেশোয়ার জালমির হয়ে ২৮ বলে ৫৪ করেন আফ্রিদি। বিদায় বলার জন্য এমন একটা ভালো মুহূর্তের জন্যই হয়তো অপেক্ষায় ছিলেন আফ্রিদি।গতকাল এমন পারফরম্যান্সের পর তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলছি। আমি আমার ভক্তদের জন্যই খেলি। আর এই টুর্নামেন্টেও হয়তো আরও দুই বছর খেলে যাবো। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়। এখন আমার ফাউন্ডেশনটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার দেশের জন্য গুরুত্ব এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে খেলেছি।’টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বব্যাপি সফল খেলোয়াড়দের মধ্যে আফ্রিদি অন্যতম। এই ফরম্যাটে ৯৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে ১ হাজার ৪০৫ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৯৭টি উইকেট নিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সি এ অলরাউন্ডার।নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৭টি টেস্ট খেলেছেন বুমবুম আফ্রিদি। যেখানে ১ হাজার ৭১৬ রানের পাশাপাশি ৪৮টি উইকেট নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে তার সেরা স্কোর ১৫৬। ক্যারিয়ার জুড়ে ৩৯৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। করেছেন আট হাজারের বেশি রান। পেয়েছেন ৩৯৫ উইকেট।