আলোকিত জীবনের বিদায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুজতবা সউদ: কামাল লোহানী। পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী। আজ চলে গেলেন তিনি দেহ ছেড়ে। চলে গেল বিদ্রোহের এক ইতিহাস। জড়িয়ে ছিলেন ভাষা আন্দোলনে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে সোচ্চার থাকায় গ্রেফতার হয়েছেন, কারাবরন করেছেন এই সাংবাদিক। ছিলেন উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে অগ্রগামী সৈনিক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা বেতারের দায়িত্ব নেন তিনি। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশে ফিরে আসেন তখন তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে ধারা বিবরণী দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতির পিতা’র কোলকাতা সফরের সময় দমদম বিমান বন্দর থেকে দেয়া ধারা বিবরণী তাঁরই। দেশ স্বাধীন হলেও প্রশাসনে পরিবর্তন না হওয়ায় সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে ১৯৭৩ সালে তিনি রেডিও থেকে ইস্তফা দেন। যোগ দেন দৈনিক জনপদে, এরপর দৈনিক বাংলার বাণীতে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠিত হলে, কামাল লোহানী যোগ দেন রাজশাহী থেকে প্রকাশিত রাস্টীয় পত্রিকা দৈনিক বার্তা’য়। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সব সময় অগ্রগামী থেকেছেন কামাল লোহানী। দুইবার তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। উদীচী, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন কামাল লোহানী। আজ ২০ জুন সকালে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজেউন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]