আসিফ কারাগারে: চলছে কথার লড়াই

গীতিকার শফিক তুহিনের এক মামলার জেরে  সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর এখন জেলে। তার গ্রেফতারকে ঘিরে সঙ্গীত জগতে বইছে উল্টোপাল্টা হাওয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গায়কের ভক্তরা ছড়াচ্ছেন উত্তাপ। চলছে পাল্টাপাল্টি কথাযুদ্ধ।

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রপত্রিকায়  তাদের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। পক্ষে বিপক্ষে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় আর অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়িতে পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত। কেউ ফেইসবুকে শফিক তুহিনের কাছে মামলা তুলে নেয়া এবং ঝামেলাটি মিটমাট করার ব্যাপারেও আবেদন জানিয়েছেন। কেউ আবার সিনিয়র শিল্পীদের কাছেও সাহায্য প্রার্থনাও করেছেন এই দুজনের বিবাদ মেটাতে। কিন্তু তাতেও আগুন নেভেনি। আসিফ আকবরও চলে গেছেন কারাগারে। অবশ্য তাকে জেলে নিয়ে যাওয়ার পথে বেশ হাস্যেজ্জ্বলই দেখা গেছে।

গ্রেফতার হয়ে জেলে যাবার আগে ফেইসবুক লাইভে আসিফ শফিক তুহিন সহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর অভিযোগ এবং মামলার বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জালিয়াতি করে অন্যের গান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে  তা সঠিক নয়, পুরোপুরি মিথ্য। আসিফ বলেন, তিনি আট বছর গান থেকে দূরে ছিলেন এবং আবার ফিরে এসে ‘চুটিয়ে’ কাজ করছেন- এটাই সবার মাথা ব্যথার কারণ।

অন্যদিকে শফিক তুহিন তার মামলার এজাহারে বলেছেন, এ মামলায় অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন শিল্পীর ৬১৭টি গান ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে মোবাইল ফোনের কনটেন্ট হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে তার রচিত শতাধিক গান রয়েছে বলে এই গীতিকারের দাবি।

মামলার এজাহারে শফিক তুহিন উল্লেখ করেছেন, গত ১ জুন রাতে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ‘গান চুরির’ বিষয়টি অবগত হন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো বিক্রি করে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।

 আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

৬ জুন ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় মামলার এজাহারটি গ্রহণ করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এদিন ধার্য করেন। আসিফ আকবরের পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেন।

বিনোদন ডেস্ক