আহা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

আজমেরী সুলতানা ঊর্মি

এক.

 হাইস্কুলে উঠার পর বাসা থেকে টিফিনের টাকা আর দেয়া হতো না।কারন আমাদের সরকারি স্কুল থেকেই একেক দিন একেক রকম মজার মজার সব টিফিন দেয়া হতো। একদিন গজা তো আরেকদিন বিশাল সাইজের সিঙারা,সমুচা,নয়তো পরোটা, মিষ্টি,কেক, কলা …
তো বাসা থেকে যেটা দেয়া হতো সেটা রিক্সাভাড়া।প্রতিবেশী বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই স্কুলে হেঁটে যেতাম এবং ফিরতাম। সেই টাকা বাঁচিয়ে চলে যেতাম টাঙ্গাইলের নিরালা মোড় পার হয়ে বইয়ের দোকানে বা লাইব্রেরী ঘরে।সামান্য ক‘টা টাকায় কোনটা রেখে কোনটা কিনবো মাথা খারাপ হয়ে যেতো।
সময় যতো গড়িয়েছে তিন গোয়েন্দা,দস্যু বনহুর,মাসুদ রানা সিরিজ থেকে সেটা পৌঁছে গেছে রফিক আজাদ,নির্মলেন্দু গুন, শক্তি চট্টোপাধ্যায়,শামসুর রেহমানের কবিতার বইয়ে।
মাঝে সাঝে তিরিশ টাকা দামের অডিও ক্যাসেট। বেশীর ভাগই সেটা ব্যান্ডের গানের ক্যাসেট।
আহ্ ফিডব্যাকের বাউলিয়ানা তখন সবচাইতে হিট।জেমসের ফিলিংস,এল আর বি র এখন অনেক রাত খোলা আকাশের নীচে, মাইলসের প দিয়ে সব সিরিজ কিংবা আর্কের হাসানের ‘একাকী’ বলে চিকন গলায় চিৎকার…
আহ্ এই অডিও ক্যাসেটের ফিতায় বন্দী কতো সুর,কতো কথা..
‘চোখ জলে ভেজা স্যাঁতসেঁতে..বালিশের উপর শুয়ে কাটছে অনেক রাত..ধন্যবাদ হে ভালোবাসা!ধন্যবাদ এই মন ভাঙা ..’

দুই.

কাল রাতে ঘুমের মধ্যেই মনে হচ্ছিলো কিচ্ছু ঠিক নেই।একবার মনে হলো মাথার কাছে আমার বাবা বসে আছেন,তার পাশে দাদাভাই দাঁড়িয়ে ঝুকে তাকিয়ে আছেন …দাদী আমার গালের সঙ্গে গাল লাগিয়ে শুয়ে আছেন।জর্দা দিয়ে মিষ্টি পানের নেশার সুবাসে আমার চোখ দিয়ে জল গড়ায় ….

মৃত মানুষের গায়ে কি কোন সুবাস থাকে ? তাহলে শালুক ফুলের সুবাস আসছিলো কোথা থেকে?মনের ভুল? কি জানি …হবে হয়তো!
হঠাৎই ঘুম ভেঙে যায়।কেউ নেই।কেবল তাদের রেখে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
সকাল থেকেই বুক ভার….অস্বস্তিকর চাপা ব্যথায় দম বন্ধ ..চোখ জ্বালা করে।
বাসায় খুব পায়রা আসে।বুয়া বলে জালালী কইতর।তাদের ক্রমাগত বাক বাকুম ডাক আমাদের গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমার দাদী তার পায়রার খোপগুলোতে রোজ ভোরে চাল আর পানি রেখে আসতো। পায়রাগুলি আমার দাদীর মাথার উপর দিয়ে চক্রাকার উড়তে উড়তে আদুরে ডাক ডাকতে থাকতো। কি আশ্চর্য সুন্দর প্রশান্তি থাকতো দাদীর চোখে মুখে!

মগ ভর্তি সোনালী ধোঁয়া উঠা চা নিয়ে দরজা খুলে উত্তর দিকের বারান্দায় এসে দাঁড়াই।ঠান্ডা হিমের উত্তুরে হাওয়া।শুষ্কতা। নিচের কামরাঙা গাছের পাতায় ধুলো জমে আছে।কচি সবুজ কামরাঙা ঝুলে আছে ….দাঁড়কাক চুপচাপ ….একাকী নিঃসঙ্গ।
মগ ভর্তি ঠান্ডা শরবতের মতো চা নিয়ে আকাশ দেখি…. গাঢ় নীল সমুদ্রের মতন আকাশ . .কোথাও এতোটুকু সাদা নেই।কালো নেই।
ভালো লাগে না …চাপা অস্বস্তি বাড়ে … রেলিংএ চায়ের মগ রেখে এক মুঠ চাল আনতে যাই জালালী কইতরের জন্য।ঘরে এসে ওষুধ খাই …কাথা গায়ে শুয়ে থাকি।
মা, তোমার কি হয়েছে ?মেয়ে চুলে হাত বুলোয়..
আগামী কাল আমার ছোট্ট পরী টার জন্মদিন।উঠে বসি।মেয়েকে বুকে চেপে ধরে বলি.. গল্প শুনবে মা ?

কাভার ছবি: লেখক। ভেতরের ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]