ইউকে’র ড্রাইভিং লাইসেন্স…

আরাফাত তানিম

(ইংল্যান্ড থেকে): সম্প্রতি আমি ইউকে তে ড্রাইভিং পাশ করেছি, ইউকে  যারা থাকেন বিশেষ করে লন্ডনে তারা জানেন যে কত কঠিন এই একটা ব্যাপার। অনেকেই তুলনা করে থাকেন মাস্টার্স পরীক্ষার সঙ্গে। বছরের পর বছর কষ্ট করতে হয় ড্রাইভিং পাশ করতে হলে।

এই পরীক্ষাটি মূলত থিওরি আর প্র্যাকটিক্যালের উপরেই, থিওরি টা সহজ ৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ৪৩টি সঠিক হতে হয়, ভালো করে পড়লে এটা সহজ-ই। প্র্যাকটিক্যালেই যত বিপদ।

আমাদের অনেকের ধারনা ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি আর সবুজ বাতি মানলেই শেষ, আসলে তা নয়। এই লাল বাতির সিগন্যাল মানা হচ্ছে ড্রাইভিং এর সহজ ধাপ, বেশিরভাগ জায়গায় আবার এই বাতিও নাই! সবাই মানছে, আপনি নিয়ম না মানলে অন্যরা হর্ন দিয়ে জানাবে (আসলে তার উপস্থিতি জানানোর জন্য), এক্সিডেন্ট করলে ইন্সুরেন্সের টাকা বেড়ে যাবে, পুলিশ লাইসেন্সে ৩ পয়েন্ট, ৬ পয়েন্ট বা লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার অধিকার রাখে।

আরো শত শত নিয়ম যেমন গিভ ওয়েতে দাড়ানো, সিক্স পয়েন্ট চেক করা, সিগন্যাল দেওয়া, লেন মেইনটেইন, রাউন্ড এবাউটের নিয়ম, মিনি রাউন্ড এবাউট, ক্রস রোড, জেব্রা ক্রসিং, মেন্যুবার, স্পিড লিমিট, গাড়ির দূরত্ব, রোড সাইন, মিরর চেক ইত্যাদি ইত্যাদি। ছোটখাটো ভুল হলে মাইনর দেয়া হয়, আপ টু ১৫টি করা যায়, একটা ডেঞ্জারাস বা সিরিয়াস ভুল করলেই ফেইল।

বলা বাহুল্য আমি নিজেও ১ বারে পাশ করতে পারিনি, প্রায় ৮ মাস ধরে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করার পর, আনুমানিক প্রায় দেড় লক্ষ টাকাও খরচ হয়েছে শুধু ক্লাস করতে গিয়ে। অনেকের আরো বেশি সময় ও টাকা খরচ হয়।

তার উপর আছে টেনশন, একবার ফেল করলে ২-৩ মাসের মধ্যে বুকিং পাওয়া যায় না। উপস্থিত সময়ে শত শত নিয়ম মনে রেখে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে এক্সামিনারকে সন্তুষ্ট করা আসলেই টাফ।

এইবার দেশে গিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পথে ত্রিশা গাড়িতে আসছিলাম, গাড়ির ড্রাইভার খুবই বাজেভাবে চালাচ্ছিলো, সে কখনোই এক লেনে থাকেননি, সামনের অংশ বাকা করে এক লেনে আর পিছনের অংশ আরেক লেনে। যখন যে লেন একটু খালি হয় সেই অন্য লেনে ঢুকে যায়। মনে হচ্ছিলো এই লাগিয়ে দিলো আরেকটি গাড়ির সঙ্গে। ওভারটেকিং করার সময় মনে হয়েছিলো পাশের ছোট গাড়ি দুমুড়ে মুচড়ে যাবে।

গাড়িতে বসা কোন যাত্রীই কিছুই বলছে না, ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এভাবে চালাচ্ছেন কেন? সে উত্তর দিয়েছিলো ড্রাইভার সে, আমি না, আমি যেন চুপ করে বসে থাকি। দুই একজন যাত্রীও আমাকে বলেছিলো জ্যামে আটকে থাকবেন? ড্রাইভারকে তার মত চালাতে দেন।

সিলেট ঢাকা মহাসড়কে এনা গাড়ি চলে প্লেনের গতিতে, ঢাকার বাসগুলো যেন ফরমুলা ওয়ানে কম্পিটিশন করে, বেশিরভাগেরই ফিটনেস নেই, গরু ছাগল দেখে গাড়ি চালালেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়, সিস্টেম নেই, নেই পাবলিকের সাধারন জ্ঞান। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে ঝরা পাতার মত, গাছটাই কেবল বেঁচে থাকে নতুন পাতা ঝরাবে বলে।

ছবি : গুগল