টপ মডেল ইউকে অ্যাওয়ার্ড জয় করা ছিলো আমার স্বপ্ন-প্রিয়তী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দু’দুটো টপ মডেল অ্যাওয়ার্ড ইউরোপের মাটিতে বসে পেলেন বাংলাদেশী কন্যা প্রিয়তী। মাঝে মাঝে এভাবে চমকে দেন ভক্তদের তিনি। গত জুলাইয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসব চলার সময় বৃটিশ পত্রিকা ‘ইন্টিগ্রিটি’ তাদের টপ মডেল অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণা করে মাকসুদা আক্তার প্রিয়তীর। তারপর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘ টপ মডেল ইউকে’ অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় প্রিয়তী জয় করলেন পুরস্কার। এই প্রথম কোন এশিয়ান ব্যাকগ্রাউন্ড এর মহিলা মডেল টপ মডেল ইউকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন । আয়ারল্যান্ড থেকে কোন আইরিশ নাগরিক বা মডেল প্রতিবছর অংশগ্রহণ করলেও  প্রিয়তীই প্রথম বিজয়ী হয়েছেন।

আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী প্রিয়তীর সঙ্গে ফোনে কথা হলো প্রাণের বাংলার প্রতিনিধির। তার গলায় আনন্দ আর উচ্ছ্বসটুকু স্পষ্ট বোঝা্ গেলো। আনন্দিত কন্ঠে জানালেন, ইউকে টপ মডেল অ্যওয়ার্ড বিশ্বজুড়ে মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার প্রক্রিয়া চলছিলো প্রায় এক বছর ধরে। গত ফ্রেব্রুয়ারী মাসে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য তা পিছিয়ে যায়। এই মঞ্চে প্রিয়তীকে লড়াই করতে হয়েছে গোটা ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মডেলদের সঙ্গে।প্রিয়তীর ভাষায়, ‘এই টপ মডেল অ্যওয়ার্ড প্রতিভাবান মডেল অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়। সেখানে আমার ক্যাটাগরিতে টপ মডেলের পুরস্কারটা জিতে নেয়া আমার জন্য অনেকটা কল্পনাতীতই ছিলো।আয়ারল্যান্ড থেকে অংশ নিয়ে এখানে পুরস্কার জেতাটা বেশ কঠিন-ই ছিলো।’

প্রিয়তী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার স্বপ্ন অনেকদিন ধরেই মনের মধ্যে যত্নে বড় করছিলেন। ভেবেছিলেন এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে একদিন জয়ের গৌরব ছিনিয়ে নেবেন। সেই স্বপ্ন প্রিয়তীর সফল হয়েছে।

মাকসুদা আক্তার প্রিয়তী জীবনের নানান ঘটনা, দূর্ঘটনাকে হাতের মুঠোয় আড়াল করে একদা পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর ইউরোপে। একাকী এক নারী পায়ের তলা থেকে সরে যাওয়া মাটি একটু একটু করে জোড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করেছেন। সে যুদ্ধে জিতে নিয়েছেন হারানো অনেক কিছু।

বাংলাদেশে এসে নিজের সঙ্গেই বেশ কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে প্রকাশ্যে এনে আলোড়ন তুলেছিলেন প্রিয়তী। বলা যায়, এ দেশে #Me too আন্দোলনের ঢেউ তৈরি করেছিলেন। প্রিয়তী মনে করেন #Me too আন্দোলন কোনো হুজুগে বিষয় ছিলো না। এই আন্দোলন নারীদের জন্য কাজের পরিবেশকেঅনেকটাই নিরাপদ করেছে বলে তিনি মনে করেন। নারীর ওপর যারা যৌন নিপীড়ন চালায়, নারীকে নানা ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে প্রিয়তীর মনে হয় আন্দোলনটা ছিলো তাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তারপর নিজের জীবনের অপ্রকাশিত কথাগুলো প্রকাশ করেছেন বই লিখে। প্রিয়তী প্রাণের বাংলাকে জানিয়েছেন, আবার বই লেখার কাজে হাত দিয়েছেন। নতুন বইয়ের বিষয়ে প্রিয়তী আগাম কিছু বলতে চাইলেন না। শুধু প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য বললেন, জীবনধারা পরিবর্তনের নানান কৌশল নিয়ে লেখা হবে এই বই।

বই লেখার কাজেই তাহলে বেশি ব্যস্ত? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়তী জানালেন, তিনি সিনেমায় অভিনয় করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। সে লক্ষ্যে প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। কারণ আন্তর্জাতিক মানের সিনেমায় অভিনয় করতে হলে যে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্য প্রশিক্ষণ খুব জরুরী।

দেশের সিনেমায় অভিনয় করতে  আগ্রহী প্রিয়তী। শুধু একটা প্রফেশনাল টিম এবং একটা ভালো প্রোজেক্ট খোঁজেন। বলেন, ‘একজন অভিনয় শিল্পী হতে যেসব স্কিল নিজের মাঝে ডেভেলপ করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি , তা দেশে অনেকের মাঝেই নেই। দেশের বাইরে থাকাতে হয়তো অনেকেই আমার পর্যন্ত রিচ করতে পারেন না। তবে কাজের প্রয়োজনে আমি যেকোনো জায়গায় রিলোকেট করতে সর্বদা প্রস্তুত।’

ছবি: প্রিয়তীর ফেইসবুক থেকে


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box