ইভান বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে

২০১৬ সালের, ১ সেপ্টেম্বর এর সকালটা একটু অন্যরকম ছিলো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের এক শিক্ষার্থীর জন্য। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এম পি মহোদয়ের উপস্থিতিতে তার ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন পর্যায়ের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় দেড় হাজার দর্শকের সামনে আয়োজিত ‘আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প ২০১৬’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হওয়ার সৌভাগ্য লাভ হয় তার। একজন বিতার্কিক, বক্তা বা উপস্থাপক হিসেবে এটা তার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।

বলছি মোঃ রায়হানুল ইকবাল এর কথা। ইভান নামেই যার পরিচিতি সর্বত্র। বর্তমানে তিনি একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার ও গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন। আসলে ইভানের গল্পটা এখান থেকে শুরু হয়নি। হয়েছিলো অনেক ছোটবেলায়, তার বয়স যখন ৩ বছর, তখন থেকে শিখতে শুরু করা গান আর কবিতা আবৃত্তি দিয়ে। যেটা তাকে মঞ্চভীতি দূর করতে অনেকটা সাহায্য করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ছবি আঁকা, গল্প কিংবা কবিতা লেখা এবং এসব নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

যখন  ৩য় শ্রেণীতে পড়েন, তখন ঝালকাঠী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন এবং প্রথম সেশনেই শ্রেষ্ঠ বক্তা হন। তখন থেকেই তার বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা এবং ২০০৮ সালে ‘ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন’ ও ‘বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন’ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আন্তঃস্কুল বিতর্ক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা’য় স্কুল পর্যায়ের বিতর্কে জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন (বিডিএফ) কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা শুরু করেন।

২০০৯ সালে তিনি বরিশাল ডিবেটিং সোসাইটি (বিডিএস) এর প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং বিতর্ক সম্পর্কে আরো জ্ঞান ও সাংগঠনিক কর্মকান্ডের হাতেখড়ি নিতে থাকেন। তখনও তিনি বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কর্মশালা কিংবা উৎসবে মাইলস্টোন কলেজ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) এর হয়ে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখেন। ২০১৪ সালে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রজ, সহপাঠী ও অনুজদের অনুপ্রেরণা এবং আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (পিএসটিইউ ডি এস)’। প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সেখানে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন এর সহকারী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেশব্যাপী বিভিন্ন বিতর্ক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।

এই দীর্ঘ বিতর্ক জীবনের পাশাপাশি তিনি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় গায়ক, আবৃত্তিকার, বক্তা, উপস্থাপক, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা কিংবা কোরিওগ্রাফার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহক, ভিডিওগ্রাহক, পরিচালক, সম্পাদক এবং অনুষ্ঠান আয়োজক হিসেবে কাজ করেন।এখন তিনি জিএম নিউজ ও এগ্রিলাইফ২৪ এর ক্যাম্পাস করেস্পন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। হ্যাকাথন, নাসা স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জ, গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগ, মার্কস অলরাউন্ডার,আইডিয়া কন্টেস্ট ও আইটি কার্নিভালেও তিনি বিভিন্ন সময়ে অংশগ্রহণ করেন। এসব অংশগ্রহণ মুলক প্রতিযোগিতা থেকে এ ইভান পর্যন্ত কখনো চ্যাম্পিয়ন,কখনো রানার আপ কিংবা কখনো সম্মাননা স্মারক, সার্টিফিকেট ও অসংখ্য পুরষ্কার লাভ করেন।

এই সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো তাকে আজ বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন এর সহকারী সাধারণ সম্পাদক, ইউথ এন্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ওয়াইসিডি), বাংলাদেশ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আইসিটি ম্যানেজার, পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে গ্রামীনফোনের হ্যাংআউট অ্যাম্বাসেডর, নাসা স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক, বেসিস স্টুডেন্ট ফোরাম পিএসটিইউ চ্যাপ্টার এবং ইউথ চেইঞ্জ মেকার বরিশাল এর সদস্য হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেছে।

৯ম শ্রেণীতে তিনি শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্সে যুক্ত হন। সেখান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিডিএফ, ওয়াইসিডি বাংলাদেশ, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম, ইউথ চেইঞ্জ মেকার এর সঙ্গে বাংলাদেশের শিশু এবং তরুণদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।

ইভান তার জীবনের এসব দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ব্যাপারেমহান আল্লাহতা’লা, তার পরিবার ও কাছের মানুষদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা তাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন ও সাহায্য করেছেন। তিনি নিজেকে ‘আজীবনের শিক্ষার্থী’ বলে তুলে ধরেন। কারণ তিনি জীবনের সকল ঘটনা প্রবাহ ও অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণে বিশ্বাস করেন্। ইভান ‘তরুণ নেতা’ হিসেবে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।