ঈদের পোষাক কোথায় পাবেন…

ঈদ আমাদরে সবচাইতে বড়আনন্দ উৎসব।তাই ঈদে ক্রেতা, শুভানুধ্যায়ীদেও নতুন কিছু দেবার জন্য দেশের প্রধান প্রধান ফ্যাশন হাউসগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।আমরা এবারের প্রচ্ছদ বেশকিছু ফ্যাশন হাউজের তৈরী পোষাক নিয়েই সাজিয়েছি।
কে ক্র্যাফ্ট: ইতিমধ্যে প্রতিটি কে ক্র্যাফ্ট আউটলেটে নতুন-নতুন ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, টপ্স, পাঞ্জাবী, শিশু পোশাকসহ নান উপহার সামগ্রী ও ঘর সাজনোর অনুসঙ্গ পৌছে গেছে।
নানারঙ, বিন্যাস, অলংকরণ ও নিরীক্ষায় ঈদ পোশাকের কালেকশন সাজিয়েছে কে ক্র্যাফ্ট। মেয়েদের সালোয়ার- কামিজে নিজস্ব ডিজাইনে উইভিং করা সুতি, ভয়েল, লিনেন, সিল্ক, ডবি কাপড়ে হ্যান্ড এমব্রয়ডারী, মেশিন এমব্রয়ডারী, টাই-ডাই, রঙ্গিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট ও হাতের কাজ করা হয়েছে।এছাড়াও জর্জেট ও সিফনের ব্যবহার হয়েছে।
এবারের ঈদে সামগ্রিকভাবে প্যাটার্ন ও স্টাইলে রয়েছে মোঘলীয় অনুপ্রেরণা যেমন- সালোয়ার-কামিজ টু-পার্ট, শেরওয়ানীকাট, কটিযুক্ত, ক্ল্যাসিক কামিজ ইত্যাদি।যা – লেগিংস. প্যান্ট বা পালাজ্জোর সঙ্গে পরা যাবে।
অর্নামেন্টেশনের ক্ষত্রেওে এবার দেশি ও পাশ্চাত্য ডিজাইন, স্টাইল এবং প্যাটার্নকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
শাড়ির কালার কম্বিনেশন, ডিজাইন ও প্রিন্ট- প্যাটার্নে বৈচিত্র আনা হয়েছে।
পাঞ্জাবীতে বৈচিত্র্য, নতুনত্ব ও নিরীক্ষাধর্মী কাজের জন্য কে ক্র্যাফ্টের বিশেষ সুনাম রয়েছে।সাদা, কালো, ব্রাউন, অ্যাশ, ব্লু, গ্রীন,মেরুন ও ব্রাউন শেডের পাঞ্জাবীতে মেশিন এমব্রয়ডারী, টাই-ডাই, স্ক্রীন ও কারচুপির কাজ করা হয়েছে।কটনের মধ্যে রয়েছে টুটোন,টেক্সচারড, স্ট্রাইপড এর বৈচিত্র। মোটিফে, কম্পোজিশন এবং লে আউটে রয়েছে নতুনত্ব।

রঙ বাংলাদশে: রঙ বাংলাদশে বিচিত্র আয়োজনে সাজয়িছে ঈদসম্ভার। বিপুল আর বিস্ময়কর এই পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়য়ি আছে অযূত সৃষ্টির প্রেরণা। রঙ বাংলাদশে সেখান থেকেই কুড়িয়ে নিয়েছে একগুচ্ছ। আর সেসব অনবদ্য প্রেরণা-আকারে তৈরী ডিজাইনে তৈরী  করা হয়ছে দৃষ্টিনন্দন ঈদ সংগ্রহ।
রঙ বাংলাদশে বরাবররে মতো বিষয় ভিত্তিক প্রেরণায় সংগ্রহ সাজাতে চায়। এই ধারায় এবার বেছে নেয়া হয়ছে নকশি কাঁথা, ইবান টেক্সটাইল, আফ্রিকান মাড হাউজ আর ইসলামিক নকশা। এই চার বিষয় থেকে তৈরী করা হয়েছে মোটিফ। চমৎকার বিন্যাসে তা সাজানো হয়েছে কাপড়ের  ক্যানভাসে। সেই কাপড়ে তৈরী  হয়েছে পাঞ্জাবী, টি-র্শাট, সালোয়ার-কামিজ-দোপাট্টাসহ নানা পোশাক। একইভাবে শাড়িতেও আর্কষণীয় রূপ দেয়া হয়েছে এসব মোটিফের অনন্য বিন্যাস।
রঙ বাংলাদশে-এর ঈদ সম্ভাবে থাকছে শাড়, সালোয়ার- কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, র্কুর্তি, পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, হাফ শার্ট, ফতুয়া, ফ্রক, বাচ্চাদের পোশাক।
রঙ বাংলাদেশ তার সব স্থরের ক্রেতাদের জন্য পোশাক বানিয়ে থাকে। এজন্য মূল্যও রাখা হয় প্রত্যেকের সাধ্য বিবেচনায়। এবারও তার ব্যাত্যয় হয়নি
শাড়: সুতি শাড়ী-৮৫০-৪,০০০টাকা , হাফ সিল্ক-২,২৫০-৮,৫০০টাকা , মসলিন- ১০,৫০০-২০,০০০ টাকা।
সালোয়ার-কামিজ ২০০০-৪৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কামিজ ৮৫০-৩০০০ টাকা, র্স্কাট-টপস ১২০০-২৫০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৮৫০-৪০০০ টাকা, টি-শার্ট ৩৫০-৫০০ টাকা,পলো শার্ট- ৬৫০-১২০০টাকা, শার্ট- ৬৫০-১৮০০ টাকা, ফতুয়া ৭৫০-১২৫০ টাকা, বাচ্চাদের পোশাক ৩০০-২০০০ টাকা  আর আনস্টিচড  ১৫০০-৪০০০ টাকায় পাওয়া যাবে।
এছাড়া আছে রঙ বাংলাদশে-এর অনলাইন শপিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা। কিনতে পারবেন ঘরে বসেই । এজন্য রয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারির বিশেষ সুবিধা। আর রমজান মাসে অনলাইনে যে কোন অর্ডারে পাচ্ছেন ১০% ছাড়। আপনি পুরো রমজান মাস জুড়ে রঙ বাংলাদশে-এর যে কোন আউটলেটে ৫,০০০ টাকার কেনাকাটার বিপরীতে পাবেন ৫০০ টাকা গিফট ভাউচার। এই ভাউচার রমজানইে ব্যবহারযোগ্য।
টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির: নগরীর শাড়ি অনুরাগীদের পছন্দকে বিবেচনায় রেখেছে টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির। এবারের ঈদে দেশের ঐতিহ্যবাহী সব তাঁত অঞ্চলরে অন্তত দেড় শতাধিক নতুন ডিজাইনের শাড়ি থাকছে টাঙ্গাইল শাড়ী কুটিরের সংগ্রহে। ফলে ঈদে নিজের বা প্রিয়জনের জন্য বিশেষ শাড়িটি খুঁজে পেতে বেগ পেতে হবে না। গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ  টাঙ্গাইল শাড়ী কুটরিরে সম্মানিত ক্রেতারা এখন অনায়াসইে হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন পছন্দের শাড়ি।

নিত্যউপহার: এবারও ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে নিত্য উপহার-এর আয়োজনে বরাবরের মতো প্রাধান্য পেয়েছে শিল্পীদের আঁকা ডিজাইন। ঈদে প্রয়াত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর ডিজাইন থেকে বাছাইকৃত ডিজাইন নিয়ে ২টি শাড়ী ।
নিত্য উপহারের ঈদ আয়োজনে শিল্পী ধ্রুব এষ’র ৯ টি ও শিল্পী মোস্তাফিজ কারিগর’র ৭ টি সব মিলিয়ে মোট ১৬ টি নতুন ডিজাইনের ছোট-বড়দের টি-শার্ট পাওয়া যাবে।
শাড়ী ১৫৫০ – ৩০০০ টাকা, ছোটদের টি-শার্ট ২০০ টাকা, বড়দের টি-শার্ট ২৯০ – ৫৬০ টাকা।

কে ক্র্যাফ্ট কিডস: শিশুদের জন্য নানা বৈচিত্রপূর্ণ আয়োজন নিয়ে কে ক্র্যাফ্ট তাদের ঈদ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মূলত: শিশুদের বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়ে করা ডিজাইন মাধ্যম হিসাবে  টাই-ডাই, প্রিন্ট, এমব্রয়ডারী এবং ইয়োর্ক ওয়ার্কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এবং এ সকল আয়োজন ইতিমধ্যে কে ক্র্যাফ্ট আউটলেটে পৌছে গেছে।
শিশুদের পোশাকে নতুন নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি,শার্ট, টি-শার্ট, কুচিশাড়ি, শাড়ি,সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট-টপ্স, লেহেঙ্গা, ফ্রক, লংকুর্তি, ফোর পার্ট কামিজ, ফতুয়া, সারারা কামিজ ।
এবারের ঈদ পোশাকে শিশুদের বিপুল সমাহার রয়েছে কাটিংয়ে, ডিজাইনে, প্যাটার্নে এবং ফিনিশিংয়ে।
রং হিসাবে প্রাধান্য পেয়েছে লাল, সাদা, নীল, বেগুনী, ফিরোজা, অফ হোয়াইট, গোলাপী, বিস্কুট , কমলা, বাসন্তী রং সহ নানা শেডের রং।

কাপড় হিসাবে টু-টোন, লিনেন, নরসিংদী কটন ও নানা রকম সুতি কাপড়।
পোশাককে বর্ণময় করতে ট্রাডিশনাল ফোক, মধুবনী, জ্যামিতিক, সরা আট/ পেইন্টিং, ফুলেল, ক্রীট মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে।

লা রিভ: প্রতিবারের মতো এবারও ‘লা রিভ’ চলমান আর্ন্তজাতিক থীম বা ট্রেন্ডকে দেশীয় ঘরানার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করছে। এবাররে থীম জ্যাকসটাপোজ। এই থীমকে র্সবজন গ্রহনযোগ্য করে তুলেছে লা রিভ। আধুনিক বিমূর্ত, আধাবিমূর্ত, উচ্চকিত রং, জলরঙের ব্রাশ স্টোক, জ্যামিতিক নকশা, ফ্লোরাল মোটিফের সমন্বয়ই এবারের ঈদ পোশাকরে প্রধান উপকরণ।

মেয়েদের পোশাকরে সিলয়টে-এ ডাবল বা ট্রিপল লেয়ারিং, এসেমেট্রিক হেমলাইনসহ নানারকম ডিটেইলিং ব্যবহার হয়েছে এবারের পোশাকগুলোত। ফ্লয়ি আর আরামদায়ক কাপড়ে তৈরী টিউনিক, সালোয়ার কামিজ, শ্রাগ ইত্যাদি কাপড়গুলোতে যথাযথ এলাষ্ট্রশেন করা হয়েছে। জ্যামেতিক বিভ্রম, লিনিয়ারর গ্রাফিক্স, র্আটি টেক্সচারাল প্রিন্ট, জলরং প্রভাবিত প্রিন্ট এসেছে সার্ফেস অর্ণামেন্ট হিসাবে।

এমব্রয়ডারী, হাতের সেলাই, বিডস ও সিকোয়েন্সের প্রয়োগ, ফ্লক প্রিন্ট এবারের পোশাকগুলোতে নতুনভাবে নতুনমাত্রায় ব্যবহৃত হয়ছে। পিয়র সিল্ক, কটন, জর্জেট, মসলিন, ডিসকস ইত্যাদি কাপড়ের ব্যবহার হয়েছে এবাররে ঈদ পোশাকগুলোত।

ছেলেদের পোশাকে সমকালীন প্যাটার্ণ প্রাধান্য পয়েছে। পরিশীলিতি অলঙ্করন এবাররে পাঞ্জাবীর প্রধান বৈশিষ্ট।
শিশুদের পোশাকেও একই থীম ব্যবহৃত হযেছে। বর্ণিল আর আরামদায়ক এই পোশাকগুলোতে শিশুদের জন্য বিশেষ ধরনের উপযোগী কাপড় ব্যবহৃত হয়েছে। যার সবগুলোই ইকোফ্রন্ডেলী। নানারকম শিশুতোষ গ্রাফিক্স-অলঙ্করন ছোট সোনামনদিরে ঈদকে স্মৃতিময় করে তুলবে।
লা রিভের ওয়বেসাইট – www.lerevecraze.com
গ্রামীণ ইউনিক্লো: ঈদের আনন্দে নতুন অনুষঙ্গ যোগ করে পোশাক। তাই সব বয়সের ও আয়ের মানুষের জন্যই গ্রামীণ ইউনিক্লো নিয়ে এসেছে নানা ধরণের ক্যাজুয়াল এবং ট্রেডিশনাল পোষাকের সমাহার। এর মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবী, পাজামা, শার্ট, টি- শাট, পোলো- শাট, জিনস- প্যান্ট, চিনো- প্যান্ট ও মেয়েদের অনেক ডিজাইনের কামিজ  ও ক্যাজুয়াল শার্র্ট। এছাড়াও ছেলেদের বক্সার-ব্রিফ, ট্যাংক-টপ ও মেয়েদের পালাজ্জো, লেগিংস, ওমেন পেন্সিল প্যান্ট। আরামদায়ক ও ট্রেন্ডি এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে ।
উল্লেখ্য গ্রামীণ ইউনিক্লোর বর্তমানে ১৩ টি শাখা আছে। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, ধানমন্ডি সাইন্সল্যাব মোড়, কাটাবন মোড়, খিলগাঁও তালতলা, নয়াপল্টন, মিরপুর-০১, মোহাম্মদপুর রিং রোড, ধানমন্ডি মেট্রোশপিং মল, যাত্রাবাড়ি শহীদ ফারুক রোড, ওয়ারী র্যাংকিন স্ট্রিট, গুলশান বাড্ডা লিংক রোড এবং  সাভার সিটি সেন্টার। বিস্তারিত জানতে: http://www.facebook.com/grameenuniqlo

শৈল্পিক: ঈদকে সামনে রেখে উৎসবের রঙে রাঙাতে শৈল্পিক এনেছে নতুন ডিজাইনের সব পোশাক। শৈল্পিকের ঈদের কালেকশনে থাকছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট ও টি-শার্ট। উৎসবের আমেজে তৈরি জমকালো এসব পোশাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক মোটিভের সমন্বয়। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক ও উত্তরায় শৈল্পিকের শো-রুম রয়েছে। শৈল্পিকের প্রধান শাখা ১৬৭২, আসকারাবাদ, মোজাফ্ফর মেনশন, দেওয়ান হাট, চট্টগ্রাম। ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/ShoilpikLimited