উত্তরসূরিদের আদর্শে এগিয়ে যান স্বদেশের কল্যাণে…

সৈকত প্রকৃতি,
সংস্কৃতিকর্মী,মানবাধিকার কর্মী, সংগঠক

অনেকদিন আগে আমাদের উত্তরসূরিরা অনেক কিছু দিয়ে গেছেন, এই দেশের জন্য,নিজের জীবনকে ও উৎসর্গ করেছেন এমন বহু মহাপুরুষ আছেন, এমনকি দেশের জন্য নিজের জীবন ও বিসর্জন দিয়েছেন হাসি মুখে,মৃত্যুকে পরোয়া করেনি আমাদের উত্তরসূরিরা।কিন্তু আমরা?স্বার্থের জন্য এক কানাকড়িও ছাড় দেই না,কাউকে সুযোগ দেওয়ার বিন্দু মাত্র আগ্রহ খুব কম লোকের আছে।স্বজাতিকে বা মাতৃভূমির জনগণকে আমরা এখনো ভ্রাতা,ভগিনী ভাবতে পারিনি! এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়কে প্রতিপক্ষ আর শত্রু ভেবে আসছি, কিন্তু কেন? আমায় একজন সাদা মানুষ দাও যার রক্ত সাদা,আমায় একজন কালো মানুষ দাও যার রক্ত কালো,যদি দিতে পারো প্রতিদান যাক অমূল্য তাও তুমি পেতে পারো..ভূপেন হাজারিকা।তাঁর আর একটি গানে বলেছিলেন ইংরেজ গেল কবেই,পাকিস্তান আর নেই, আজ কেন বাংলার বুকে নিত্য হাহাকার,হানাহানি,দলাদলি, মারামারি??? দেশ মানে মা,মাটি আর মানুষ পরম আপন, যার বসবাস হৃদয়ে।কিন্তু আমরা কি পেরেছি মাটি মানুষকে হৃদয়ে স্থান দিতে? প্রত্যেক ব্যক্তি কিছু না কিছু কাজ করেন।আজ হয়ত বেকার কাল হয়ত কোন একটা কোম্পানিতে চাকুরিতে প্রবেশ।আপনি কি ভেবেছেন এই দেশটাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমার আপনার।দেশের অবহেলিত, অনাদরে পড়ে থাকা মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, কিন্তু আমরা কি তা করছি? সবাই কর্পোরেট আর চিন্তার বৃত্তের মধ্যে বন্দি ! সমাজের দিকে তাকানোর আমাদের আর সময় নেই।সমাজের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সময় নেই। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকাই একমাত্র আমাদের কাজ। একসময় আপনি সন্তানের বাবা হবেন,পুত্র যদি আপনাকে প্রশ্ন করে… বাবা এই ঘুণে ধরা সমাজ পরিবর্তনের জন্য কি কাজ তুমি করেছো?এমন সংঘাতময় পৃথিবী কেন উপহার দিলে আমাকে ? কি জবাব দিবেন ?নিজেকে শৃঙ্খল থেকে বের করে আকাশে উড়িয়ে দিন,মনকে বিশালতার দিকে, অনন্ত, অসীমের ধিকে ধাবিত করুন।নিজের জন্য বাঁচা না,সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচা,সবার সঙ্গে সুখ দুঃখকে ভাগ করা। আপনি কোটি টাকার গাড়িতে চড়বেন,শতটাকার খাবারের বিল দিবেন রেস্টুরেন্টে,কিন্তু সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য যে একবেলাও যার আহার জুটলো না,তার বেলায় ? শুধু নিজেকে নিয়ে থাকবেন? শুধু নিজের স্বপ্ন পূরণ আর চাহিদা মোটানো জন্য দৌড়াবেন?এই আকাশ,চন্দ্র, সূর্য,বায়ু,জল,মাটি প্রকৃতির প্রতি তথা এই বাংলার মানুষের প্রতি আপনার একটা দায়বদ্ধতা আছে, যা কোন ভাবেই আপনি এড়িয়ে যেতে পারেন না, এড়িয়ে গেলে বুঝবেন আপনি চূড়ান্ত রকমের স্বার্থপর,অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি… যে শুধু নিজেকেই নিয়ে ভাবে সে প্রকৃত পক্ষেই স্বার্থপর।ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় মাষ্টারদা সূর্য সেনেরা নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছেন।যখন টাকার দরকার ছিলো তখন নিজ পিতা-মাতার বা ঘরের দামী জিনিসটি চুরি করেছিলেন স্বদেশকে বাঁচানোর জন্য,শত্রু মুক্ত করেছিলেন।এক সময় সেই অর্থও ফুরিয়ে এসেছিলো।কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না।পরে উনারা সিদ্ধান্ত নিলেন কোন একটা গ্রাম ডাকাতি করবেন,যেই গ্রাম অর্থ বিত্ত বৈভবে সমৃদ্ধ। সিদ্ধান্ত নিলেন আনোয়ারা থানার অন্তর্গত পরৈকোড়া গ্রাম ডাকাতি করবেন,কারণ সেই সময় ব্রিট্রিশ শাসনামলের শতভাগ ক্ষমতাসীন ২ জন জমিদারই পরৈকোড়া গ্রামে।একজন যোগেশ চন্দ্র রায় বাহাদুর অন্য জন প্রসন্ন কুমার রায় বাহাদুর। আর একজন ছিলেন ৮ আনা মানে অর্ধেক ক্ষমতাসীন জমিদার কানু চৌধুরী।কথা মতো কাজ। পরৈকোড়া গ্রাম ডাকাতি করে প্রাপ্ত টাকা,গয়না,বস্তু স্বদেশী আন্দোলনে ব্যয় করেছিলেন… আর এখন আমরা কি করছি একটু ভাবুন আর ভেবে উত্তরসূরিদের আদর্শ লালন করে এগিয়ে যান স্বদেশের কল্যাণে,আর পরম যত্নে থাকুক মা মাটি মানুষ প্রকৃতি….