একটু উষ্ণতার জন্য…

শ্বেতা চট্টোপাধ্যায়

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

খুব চেয়ে অথবা একটুও না চেয়ে যখন কোনো কিছু বা কারোর সামনে এসে পড়ি, তখন সবকিছু কেমন গোলমাল পাকিয়ে যায় আমার..। দুটো ক্ষেত্রেই কিভাবে নিজেকে গোছাবো, বুঝতে পারি না..। যুদ্ধ করি নিজের সঙ্গে অনেক, রাস্তা খুঁজে না বের করতে পারলে নিজের কাছে নিজের মতো করে জিরিয়ে নিই..।

প্রতিবছর শীতকাল এর এই সময় টা এক অদ্ভুত রকম বিষণ্নতা কাজ করে..। হারানোর নাকি পুরোনো স্মৃতি খুঁড়ে পাওয়ার, তা আর জানতে ইচ্ছে করে না..। গতকাল টিভিতে একটা শো থেকে জানলাম, এমনটা নাকি শীতকাল এলে অনেকেরই হয়..। কে জানে..! নিজের হলেও সেই ‘মন’ এর খবর আর কেই বা পুরোটা রাখতে পেরেছে..!

মাঝে মাঝে মনের ভেতর থেকে টুপ করে উঠে আসে কত কি..! পুরোনো স্মৃতি, প্রিয় রোদ্দুর, কোনো এক কফিশফের সন্ধ্যে, প্রিয় রাজধানীর বুকে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে সূয্যি ডুবে যাওয়া সন্ধ্যের স্মৃতি, একগোছা পুরোনো চিঠিপত্তরের গন্ধ…আরও কত কি..! হিসেব না রেখেই তাদের মেলে দিই আমার প্রিয় বারান্দায়..।

শীতকাল আমার প্রিয় ঋতু নয়, প্রিয় নয় শীতকালের সঙ্গে জুড়ে থাকা স্মৃতিরাও..। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ তাই প্রতি বছর আমার মনখারাপ করে দ্যায় নিয়মিত ভাবে..। শহর জোড়া গ্রহণ, সমর্পণের উত্তাল উত্তাপে আমি বরাবরই দলছুট, ওই যে কিছু না গুছিয়ে উঠতে পারা ছন্নছাড়া মানুষ গুলোর মতো, তাই চুপিচুপি উষ্ণতা খুঁজি কবিতার ওমে..।

গতকাল ও হাতে এল ছেড়ে চলে আসা কিছু মুহুর্তের স্মৃতি..। নেড়ে চড়ে দেখতে দেখতে মন খারাপ করছিল তুমুল..। এসময় ধুলো পড়া, রঙচটা বিবর্ণ জীবনে আমায় একমাত্র টানে উজ্জ্বল হলুদ মস্ত ডালিয়া আর ঝলমলে চন্দ্রমল্লিকা গুলো..। এই একটা জায়গায় আমি শীতকে ভালবেসে ফেলি..। গতকাল কতগুলো শুকনো ধুলোঢাকা ফুল হাতে এলো, নড়েচড়ে দেখে তুলে রাখলাম, আসছে বসন্তে ওদের বিদায়ের জন্য..।

এই সময় আমার অপেক্ষা থাকে আর একটা নতুন শুরুর জন্য, যখন অনেক না গুছিয়ে উঠতে পারার বুদবুদ কে এই ছবিটার মতো করে উড়িয়ে দিতে বড্ড আনন্দ হয়…!

ছবি: সজল