একটু পরেই বাংলাদেশের লড়াই

আহসান শামীমঃ আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে সেন্ট কিন্টসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ৷ ম্যাচটা পরিনত হয়েছে অনেকটা অঘোষিত ফাইনালে। সেন্ট কিটসের পিচের চরিত্র, গতি-প্রকৃতি ও ইতিহাস-পরিসংখ্যান, কোন কিছুই বাংলাদেশের জন্য খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। অন্তত প্রোভিডেন্সের মতো তো নয়ই। ইতিহাসের পাতা ঘেটে দেখা যায় , সেন্ট কিটসের বাসেটেরের মাঠে ওয়ানডেতে সাত সাতবার তিনশোর বেশি রান হয়েছে। দশটা সেঞ্চুরিও হয়েছে। এই মাঠে ২০০৭ সালের ২৪ মার্চ আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৩৭৭ রানের পাহাড় সমান স্কোরও আছে ,ম্যাথিউ হেইডেন ১০১, রিকি পন্টিং ৯১, মাইকেল ক্লার্ক ৯২।আর ব্যক্তিগত সবচেয়ে বড় ইনিংসটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে দিনেশ রামদিনের ১৬৯। এছাড়া এই মাঠে নয় বার ব্যাটসম্যানদের ৯০‘র ঘরে পা রাখার রেকর্ডও আছে।

পরিসংখ্যান আরো জানাচ্ছে, এ মাঠে আগে ব্যাট করা উত্তম। হয়ে যাওয়া ১৭ ম্যাচের মধ্যে আগে ব্যাট করা দল জিতেছে ১২ বার। পাঁচ বার পরে ব্যাট করা দল হেসেছে শেষ হাসি।সেই পরিসংখ্যান থেকে আজ ম্যাচ জিততে হলে প্রথম দরকার টস ভাগ্য, আর জিততে হলে ব্যাটিংয়ের জোরেই জিততে হবে। এই মাঠে প্রথম ইনিংসের গড় রান ২৮০-এর বেশী। আর পরে ব্যাট করা দলের গড় স্কোর ২১০‘র নীচে। তাই এখানে আগে ভাগে ব্যাট করাই উত্তম। রান তাড়া করায় থাকতে পারে বাড়তি ঝুঁকি।

এই মাঠে এখন পর্যন্ত ১৭ ওয়ানডে হয়েছে। বাংলাদেশও এর আগে দুটা ম্যাচে অংশ নিয়েছে। প্রথমবার ২০০৯ সালের ৩১ জুলাই। সাকিবের নেতৃত্বে টাইগাররা ৩ উইকেটে হারিয়েছিল উইন্ডিজ জাতীয় দলের মোড়কে খেলা ক্যারিবীয় ‘এ’ দলকে।সাত নম্বরে নেমে ৭০ বলে হার না মানা ৫১ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে আছে সেই দলের তামিম , মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট আবার সেন্ট কিটসের বাসেটেরের ওয়ার্নারপার্ক মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে শেষ বারের মত মুখোমুখি হয় টাইগাররা। সেবার আর জয় নয় উল্টো ৯১ রানের বড় পরাজয় সঙ্গী থেকেছেন মুশফিক বাহিনী।

এই মাঠে শেষ ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে ২০১৬ সালের ১৫ জুন।দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়ে ভরাডুবি ঘটেছিল উইন্ডিজের। হাশিম আমলার  ১১০ আর ডি কক ৭১  ও ডু প্লেসিসের ৭৩ জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে সাজানো প্রোটিয়াদের করা ৩৪৩ রানের বড় স্কোরের জবাবে ২০৪ রানে অলআউট হয়ে ১৩৯ রানের বিরাট ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকরা। সেই ম্যাচে   ৪৫ রানে ৭ উইকেট শিকারী লেগস্পিনার ইমরান তাহির রেকর্ড করেন।

ধরেই নেয়া যায়, উইকেট হবে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। প্রথমে ব্যাট করে ২৮০ থেকে ৩০০ রানের বড় স্কোর গড়াই হবে সাফল্যের প্রথম শর্ত। দেখা যাক, ব্যাটসম্যানরা সুযোগ পেলে সে শর্ত পূরণ করতে পারেন কিনা। আশার জায়গা বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা গেল দুই ওয়ানডে ম্যাচে রানের দেখা পেয়েছেন।

আশার কথা, ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সেরা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল হাঁটুর ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে পারছেন না । তাঁর পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে শেলডন কটরেলকে। বাংলাদেশ দলে লেগ স্পিনার শহীদের খেলার সম্ভাবনা আছে, সেক্ষেত্রে সাইড লাইনে বসতে হতে পারে রুবেল, মোসাদ্দেক বা সাব্বিরের মধ্যে কোন একজনকে।

ছবিঃ গুগল