একশতে সত্যজিৎ, পঞ্চাশে চারুলতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক’শ বছরে পা রাখলেন অনন্য সত্যজিৎ রায়। এ বছর তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।আর এ বছরই ৫০ বছরে পা রাখলো তাঁর আরেক সৃষ্টি ‘চারুলতা’; সিনেমার পর্দায় সত্যজিৎ রায়ের তৈরি এক নিখুঁত নারী চরিত্র।সম্ভবত সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় সবচাইতে বেশি আলোচিত নারী চরিত্রও এই চারুলতা।

চারুলতা চরিত্রের যাত্রা বিফলতার দিকে। সিনেমায় সত্যজিৎ রায় সেই বিফলতার গল্পটাই বলেছেন পরম যত্নে। রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ গল্প অন্য এক মাত্রায় গিয়ে পৌঁছালো যেন এই সিনেমায়। ভূপতি চারুকে প্রশ্ন করেছিলো, ‘চারু, তোমার বড় একা একা লাগে না?’ এক নারী চরিত্রের অসাধারণ নিঃসঙ্গ নির্মাণ চারুলতা সিনেমা।

গল্পে চারুলতার জীবন অবগুন্ঠিত। সে জীবন এক ধরণের অর্থহীনতার কাছে ছিলো সমর্পিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গল্পে এমনই এক নারীর পথরেখা এঁকেছেন। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা সেই চারুকে, চারুর জীবনের আশাকে, কামনাকে, ভালোবাসাকে আরেক ধরণের নির্মোহ চিন্তায় গেঁথে তৈরি করে দিলো বিষাদের অন্য এক অবয়ব। চারুর জীবনের বিসর্জনের গল্প সত্যজিৎ রায় তার সিনেমায় বললেন নির্মোহ, বিষাদময় ভঙ্গিতে।

চারুলতা প্রথম মুক্তি পায় ১৯৬৪ সালে।মাধবী মুখোপাধ্যায়ের জানালার খড়খড়ি তুলে সামনের রাস্তায় উঁকি দেয়ার সেই দৃশ্যটি নিমেষেই সিনেমার দর্শকদের যুক্ত করে নিয়েছিলো চারুর একাকী যাত্রার সঙ্গে। সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় একটি সিনেমা চারুলতা। তিনি একবার বলেও ছিলেন সম্পাদনার টেবিলে চারুলতা সিনেমাটিকে আরও ধারালো করে তোলা সম্ভব। কিন্তু সে চেষ্টা তিনি নিজেই কখনো আর করেননি।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় চারুলতায় অমল চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন। কিন্তু এ সিনেমার প্রাণ ছিলেন মাধবী মুখার্জী।১৯৬৩ সালে সত্যজিৎ রায় তাকে ‘মহানগর’ সিনেমায় কাস্ট করেছিলেন।মুক্তি পাওয়ার পর দর্শক নন্দিত হয়েছিলো ‘মহানগর’। আর তাই সত্যজিৎ রায় ওই বছরই মাধবী মুখোপাধ্যায়কে বলেছিলেন নতুন কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ না হতে। তিনি বুঝে ফেলেছিলেন চারুলতার নায়িকা তিনি পেয়ে গেছেন। পরের বছরই মাধবী ডাক পেলেন চারুলতায় কাজ করার জন্য। চারুলতা ছবির সেটের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকায় মাধবী বলেছেন, ‘সত্যজিৎ রায় ছিলেন এক অসাধারণ শিক্ষক। প্রত্যেকটা দৃশ্য ধরে ধরে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বুঝিয়ে দিতেন। এই সিনেমার লাইট করার ক্ষেত্রেও প্রচুর সময় নিতেন তিনি। ওই সময়টায় সেটের সবাইকে বিভিন্ন ম্যাজিক দেখিয়ে ব্যস্ত রাখতেন তিনি। আমরা তার ম্যাজিকে মুগ্ধ ছিলাম।’

মাধবী মুখোপাধ্যায় ষাটের দশকেই বাংলা সিনেমার আরও দুই দিকপাল মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটকের সিনেমায় কাজ করেছেন।

তাঁর কাছে ‘চারুলতা’ নারীর নৈঃসঙ্গের গল্প। তার আকাঙ্ক্ষার গল্প।

এই সিনেমায় ক্যামেরায় কাজ করেছেন প্রখ্যাত সুব্রত মিত্র।আবগ সঙ্গীতে সত্যজিৎ রায় রবীন্দ্রসঙ্গিত ব্যবহার করেছেন পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের সহায়তায়। ষাটের দশকে ভারতে আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আর সমীকরণের আবহের মধ্যে সত্যজিৎ রায় মানুষে মানুষে সম্পর্কের বিবরণ দিয়েছেন। আর তা করার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের গল্প। তাঁর এই ভাবনাগুলিও এই সিনেমাকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন উত্তানের দিকে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইন্য়িান এক্সপ্রেস, সংবাদ প্রতিদিন
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box