একা এবং একসঙ্গে

কবে শেষ হলো আধুনিকতার যুগ?

হয়তো কেউ বলতে পারেন ১৮৮৯ সালের ৩ জানুয়ারী, যেদিন যেদিন চিকিৎসকরা জানালেন, ফ্রেডারিখ নিৎসে সম্পুর্ণ পাগল হয়ে গেছেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কবি বিনয় মজুমদারও মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালে বসে কবিতা লিখেছিলেন, ‘আমরা একত্রে আছি বইয়ের পাতায়’। সেদিনও কি পৃথিবীতে শেষ হয়ে ‍গিয়েছিলো আধুনিকতার যুগ? বিনয় মজুমদার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি, ঋত্বিক ঘটকও। তাহলে তখন বাইরের পৃথিবীটা কি আরও ঘোর উন্মাদ হয়ে উঠেছিলো? আর তাই এই মানুষগুলো নিজেদের বাঁচাতে ঢুকে পড়েছিলেন হাসপাতালে? জানতে ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে এসব প্রশ্নের উত্তর।

ঋত্বিক ঘটক যখন হাসপাতালে তখন সেই একই হাসপাতালে সহবাসী হয়ে এলেন বিনয় মজুমদার। ‘হাসপাতালে লেখা কবিতাগুচ্ছ’ বইয়ের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, ‘‘কবিতা লেখা আমি মাঝে মাঝে ছেড়ে দিই। তখন এমন এমন কাণ্ড ঘটে যাতে ফের লিখতে বাধ্য হই। এই বইখানাও তেমনি জোর করে লেখানো। হাসপাতালে পুরে কাগজ এবং কলম দিয়ে আমাকে বলা হল-কবিতা লিখলে ছাড়া হবে নচেৎ নয়।তার ফলে আমি লিখেছি ‘হাসপাতালে লেখা কবিতাগুচ্ছ’ বইখানা’’।

ঋত্বিক ঘটকতখন ওই একই হাসপাতালে।

‘রাস্তায় ঋত্বিকবাবু অজ্ঞান হয়ে গেছেন! মুখের ভিতরে একটা টাকার নোট!’

সুরমা ঘটক সেদিন কলেজের শেষ ক্লাস করে বের হয়েছেন।দু‘টি ছেলে ছুটতে ছুটতে খবর দিলো। পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে তাঁর কাছে। অস্থির মন নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। তখন ঋত্বিক ঘটককে ভর্তি করা হয়ে গেছে হাসপাতালে। অসংলগ্ন কথা বলছেন মানুষটা,

‘দশটা টাকা হবে ডাক্তার? না খেলে সুস্থ হব কী করে! একটু তো খেতেই হবে, নাকি। পারছি না বিশ্বাস করুন। কাজ করতে পারছি না। মাথা কাজ করছে না তো! একটু বাইরে যেতে দিন!’

ডাক্তারদের কঠিন প্রহরাও আটকাতে পারেনি তাঁর মদ্যপান। কেমন করে হাসপাতালে আসতো বাংলা মদ? নিজেই বলেছেন,

‘খুব সোজা। পায়খানার দেওয়ালের দুটো ইট সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। সেখানে হেড সুইপার এক বোতল মদ রেখে যেত। আর খাওয়ার পর আবার ইট লাগিয়ে দিতাম।’

‘টাকা কে দিত!’

‘কিছু ভিজিটর তো আসত নাকি! তারা ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করত। কিছু টাকাও রেখে যেত। সে সময় উত্তম আর রমাও এসেছে।’

‘রমা মানে সুচিত্রা সেন?’

‘ইয়েস স্যার। সুচিত্রা সেন।’

ওই অবস্থাতেও বসে ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো বিনয় মজুমদারের। ওখানেই ঋত্বিক ঘটক বিনয় মজুমদারকে নিয়ে একটা নাটক লিখে ফেলেছিলেন। ঠিক হয়, নাটকের মূখ্য চরিত্রেও অভিনয় করবেন বিনয় মজুমদার।ঋত্বিক ঘটক ওই অস্থিতিশীল মন নিয়েই লিখতে বসেন। দেশী মদের আগুনের ভেতর বসেই চলতে থাকে নাটক লেখার কাজ। চলে রিহার্সেলও। কিন্তু নাটক মঞ্চস্থ করার দিন হাসপাতাল থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে যান বিনয় মজুমদার।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ সারৎসার, উৎপল কুমার বসু, আনন্দবাজার পত্রিকা
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box