এক প্রাণের বাংলার গল্প…

প্রায় দু’বছর আগের এক পহেলা বৈশাখ ।  ছোটভাই-বন্ধু শামীমের নিমন্ত্রনে ‘পপকর্ণ আইটির’ সূচনা অনুষ্ঠানে যাই । পরিচয় হয় শামীমের ছোটভাই জুলফিকার সুমনের সঙ্গে । হাসি-খুশি ছেলেটা, আইটি বিষয়ে ভীষণ চৌকস । কথায় কথায় সেদিনই কথা গড়ায় একটা  সাপ্তাহিক অনলাইন বের করা প্রসঙ্গে । যাতে সবকিছুই থাকবে তবে একেবারে পলিটিক্যাল বিষয় বাদ দিয়ে । আর এটাই  হবে একটা প্লাটফর্ম যেখানে সারা পৃথিবীর বাঙলা ভাষাভাষি সকলকে আমরা এক জায়গায় জড়ো করবো । কথা হয় আরও অনেক কিছুই । আমাদের আগ্রহেরও কোন ঘাটতি ছিলো না । পিসি’র সামনে বসে আমরা তখনই বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার পাতায় চড়াই উৎরাই করে ফেলি । যেন কালই কাজটায় হাত দিয়ে ফেলবো ।

তারপর সেদিন ওখান থেকে ফিরে আর অমন করে বিষয়টা নিয়ে ভাবিনি । ফোনে শামীমের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হয় ।  কিন্তু পত্রিকার কথা আর হয় না । বেমালুম ভুলে গেলাম পত্রিকা করার প্রসঙ্গটি ।  এভাবেই বছরটা চলে যায় ।

পরের বছর জানুয়ারীতে শামীমের ফোন, ‘আপা একদিন আসেন কথা আছে’ । যাবো যাচ্ছি করেও অনেক সময় পার করে দেই । হঠাৎই একদিন ওদের অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমি আর ইরাজ নেমে যাই ওদের উদ্দেশে । এবার দুই ভাই বেশ সিরিয়াস ।  পত্রিকাটা কিন্তু করতেই হবে…….ওদের ওই একই কথা । ইতিমধ্যে সুমন ‘প্রাণের বাংলা’ নাম দিয়ে ডোমেইন কিনে পেজ ডিজাইনও করে ফেলেছে । সবকিছু দেখে কোথায় যেন উৎসাহের গন্ধ পাই । অনেকটা নামটার ভালোবাসায় পড়ে যাই । ‘প্রাণের বাংলা’ যেন মন কেমন করা………। যাক সেদিনই ঠিক হয়ে যায় ২১শে ফেব্রুয়ারীতেই আমরা যাত্রা শুরু করবো । হাতে মাত্র তখন বাইশ দিন সময়……

আমাদের অফিস পর্ব শুরু হলো পপকর্ণ আইটির পেছনের ছোট্ট পরিসরে । সম্বল  দু’টো পিসি । কিন্তু সমস্যা হলো সাংবাদিক কোথায় ? বিনা সম্মানীতে এখন কে শ্রম দেয়?……কিন্তু বাচোঁয়া শুধু সাপ্তাহিক বলে ।  আমার পশ্চিমবঙ্গের বন্ধু বাচিকশিল্পী ও সঞ্চালক রিনি বিশ্বাসকে কথাটা বলি । একি… ওর ও উৎসাহের শেষ নেই । গল্পকার বন্ধু রুদ্রাক্ষ রহমান তো পারলে পুরো পত্রিকাটাই লিখে বের করে ফেলে । যাকে বলি সে-ই উৎসাহ যোগায় । আমাদের সাহস সঞ্চিত হতে থাকে । বন্ধু-বোন শম্পারেজা, আফসানা মিমি দুজনে দু’টো বিভাগ দেখার দায়িত্ব নিয়ে নেয় । আমরাও নেমে পড়ি সরোজমিনে প্রদায়ক তল্লাশিতে । ইতিমধ্যে শামীম বেশকিছু স্বজন জড়ো করে ফেলে । সবাই আবার কোন না কোন পত্রিকায় কাজ করে । অনেকে আবার আমার আর ইরাজের নামের সঙ্গে পরিচিত বলে কিছুটা আগ্রহও দেখায় ।  তবে সাপ্তাহিক বলেই ওরা আমাদের সঙ্গে কাজ করার কথা দেয় । ফয়েজ আহমেদ আর জনি বিনোদনের দায়িত্ব নিয়ে নেয় । পায়ের নীচে শর্ষে আটা সম্রাট বুঝে নেয় বেড়ানোর বিভাগ দেশেবিদেশের দায়িত্ব । তার সঙ্গে সাইকেলে ঘুরে বেড়ানো হোমায়েদ ইসহাক মুনও জুটে যায় । কান্তা আহমেদ সাজঘরের ভার নেন । রন্ধন শিল্পী অসিত কর্মকার সুজন এগিয়ে আসে রান্নার রেসিপি নিয়ে হেঁসেলে । জেসিনা শারমিন আর জাফরিন আক্তার জ্যামি সামলাতে আসে অন্দরমহল । আর ইভা আফরোজ! যেখানেই অনুবাদের কাজ, সেখানেই তিনি ।  এবার স্বাস্থ্য বিভাগটা কে দেখবে?…. মনে পড়লো ডাক্তার বন্ধু মিজানুর রহমান কল্লেলের কথা । খুব একটা যোগাযোগ নেই ।  একজনের কাছ থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন দেই…… এক বাক্যে রাজী কল্লোল……এমনকি ওর স্ত্রী ডাক্তার ওয়ানাইজাও লিখবে বলে কথা হয় । স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান ইশতিয়াক নাসির মীরাক্কেলের জনপ্রিয়তায়ই সবার পরিচিত । আমাদের সঙ্গে শুরু থেকেই আছে । বাদ সাধলো মিরাক্কেল সিজন-৯ ।  তাকে যে মেন্টর হতে হবে । এবার কলকাতার হাতছানি । স্বপ্ন ফেলে চলে যায় ইশতিয়াক । তবে নিয়মিত যোগাযোগ হতে থাকে । তাই সিজন শেষ করে দেশে ফিরেই বয়স-১৯ এ দু’হাত খুলে লিখছে ।

এরই মধ্যে আমার বাসায় ইরাজের ক’জন বন্ধু ও বন্ধু পিত্নী একদিন  দাওয়াত খেতে আসে । ইরাজের বন্ধু আহসান শামীম এক সময় সাপ্তাহিক বিচিত্রার স্পোর্টস রিপোর্টার ছিলেন । এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী । ঘরে টিভি চলছিলো, তাই টিভিতে সবাই ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে ব্যস্ত । এক ফাঁকে আমিই শামীম ভাইকে প্রস্তাব দেই, শামীম ভাই আবার সাংবাদিকতা করবেন? অবসরে খেলা নিয়ে লেখবেন আমার পত্রিকায়? শামীম ভাই তৎক্ষণাত রাজী হলেও তার মুড বসাতে বেশ সময় লেগে যায়  ।  তারপর কখন যে লেখা শুরু করেন….. এখন মাঝ রাতেও লেখা পাঠান ।

এবার আসলো দেশের বাইরে প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি । আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু অটোয়ার সুলতানা শিরীন সাজি কানাডার বিষয় দেখে দেবে বলে কথা দেয় ।  নিউইয়র্ক প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ শহীদ নিউইয়র্কের পাট বুঝে নেন ।  আমার ভোরের কাগজের একসময়ের সহকর্মী শীলা চৌধূরীর বর্তমান বসবাস কলকাতায় ।  আমার সঙ্গে ওর যোগাযোগ সবসময়ই ছিলো তাই পশ্চিমবঙ্গের ভারটা ওকেই দিলাম । বাকী রইলাম আমি, ইরাজ, সুমন, শামীম ।  সুমন নিলেন পুরো আইটির ঝামেলা ।  ইরাজ আহমেদ জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ পুরো দায়িত্বই বুঝে নিলো । শামীম রইলো সব কিছু ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়ে । আর আমার অবস্থা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন ।  পুরো  অস্থায়ী এই বাহিনী নিয়ে সংসারটা ঢেলেই সাজাতে থাকলাম । এদিকে ডেটলাইন চলে এসেছে ।  হাতে কিছুই নেই । মাত্র বাইশ দিনে!…. সম্ভব না । পিছিয়ে দিলাম ডেট লাইন, ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে এবার চেঞ্জ হয়ে ডেটলাইন পড়ে ২৭ মার্চ ২০১৬ ।  কথার নট নড়ন-চড়ন ।  যে যার কাজে সবাই নেমে পরে কোমর বেঁধে । আর সেই ধারাবাহিকতায়ই নির্দিষ্ট দিনেই ‘প্রাণের বাংলা’ অনলাইন হয় । এদিকে শামীমের বন্ধু মমিন এবং মামা এম মতিন রহমান ‘প্রাণের বাংলা ’ছাপ দেয়া টি-শার্টও তৈরী করে অফিসে হাজির….শুরু হয় টি-শার্ট বিলানো…… ।

এবার পত্রিকার কাজের পাশাপাশি আমি ব্যস্ত হলাম অন্যদিকেও ।  আমার সঙ্গে ভোরের কাগজ এবং সংবাদে যারা একসময় কাজ করতো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি । কেউ কেউ প্রফেশন চেঞ্জ করে ফেলেছে ।  আবার কেউ কেউ সাংবাদিকতায়ই অনেক এগিয়ে গেছে । সবার প্রানঢালা উচ্ছ্বাস । যারা সাংবাদিকতায় আছে তারা তো সাহায্য করবেই্ আর যারা অন্য মাধ্যমে আছে তারাও আবার লেখালেখি শুরু করবে বলে কথা দেয় । আর সেই কথা রাখতেই একাত্তর টিভির সম্পাদক অনুষ্ঠান বিভাগ-এর শবনম ফেরদৌসী, মানবধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী লেখতে শুরু করেন প্রাণের বাংলায় । সাহায্য করেন বিডি নিউজের ওমর শরীফ ।  ঢাকা ট্রিবিউনের রুম্পা জামান । আবার শবনমের সূত্র ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমেরিকাতে পিএইচডি করতে যাওয়া রায়হান শরীফ সাহিত্য বিভাগে বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন কবির কবিতা অনূবাদ করে পাঠান ।

যে আমার ফেইসবুক নিয়ে কোন মাথা ব্যথা্ কখনই ছিলো না, সেই আমি এখন দিন-রাত ফেইসবুকে বসে লেখক খুঁজি ।  ফেইসবুক বন্ধুদের মধ্যে কারো একটু ভালো লেখা দেখলেই আমার অনুরোধ পৌছে যায় তার কাছে । কানাডা প্রবাসী সাইফুল্লা মাহমুদ দুলাল ভাইকে জানাতে উনিও লেখা পাঠান । এভাবেই পেয়ে যাই ভোরের কাগজের একসময়ের সহকর্মী বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক প্রবাসী ডাক্তার এ আল মামুন । তিনি আমাকে নানা বৈচিত্রের লেখা পাঠান । আরও পেয়ে যাই শারমীন শামস্, ইংল্যান্ড প্রবাসী শারমীন জান্নাত ভূট্টো, সুমিত হক, সাবিনা শারমীন বাঁধন, আমেরিকা প্রবাসী শামীমা জামান,  সুইজারল্যান্ডে পড়তে যাওয়া সজিব খন্দকার,ইসমাত সুলতানা  স্কটল্যান্ড প্রবাসী গীতিকার শেখ রানা, লন্ডন প্রবাসী মুকিত চৌধুরী, রুকসানা আক্তারকে । কেউ কেউ পূর্ব পরিচিত কেউবা শুধুই ফেইসবুক ফ্রেন্ড ।  কিন্তু আজ আমরা সবাই আত্মার খুব কাছাকাছি বাস করি। শারমীন শামস্ তো আমার ছোট বোনের জায়গাটাই এখন দখল করে বসে আছে ।

শিল্পী কনক চাঁপা একেবারেই একজন ভিন্ন ধরণের মানুষ ।  কাছে না গেলে এতটা বোঝা আমার পক্ষেও সম্ভব ছিলো না । একটা কমেন্টস নিতেই একদিন ফোন করি । জানতাম উনি লেখালেখি করেন তাই  সাহসে ভর করে বলেই ফেলি, নিয়মিত লেখবেন প্রাণের বাংলায়?……ওমা, এত ব্যস্ততা স্বত্ত্বেও উনি রাজী ।  একেবারে হাতে চাঁদ । শুরু করলেন ‘কাটাঘুড়ি’ বিভাগে লেখা ।  আর বিভাগটা এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে, কোন একটা সংখ্যা মিস হলে আমাদের ফোন এবং মেইল দুই মাধ্যমেই পাঠকের কাছে এর জবাবদিহি করতে হয় । তাই বুবু কনক চাঁপা মাঝ রাতেও লেখা পাঠাতে বাধ্য হন……. শত হলেও পাঠকদের কথাটাও তো ভাবতে হবে ।

কানাডা প্রবাসী লেখক আন্জুমান রোজী । ফেইসবুকে তার একটা লেখা দেখে, লেখাটা তার কাছে  চাই… সে লেখাতো পেলামই…. আর রোজী আপা  হয়ে গেলেন আমাদেরই একজন । এখন তার লেখা ছাড়াও প্রাণের বাংলার কথা ভাবা যায় না । শামীমের মাধ্যমে ফেইসবুকেই পরিচয় সানিয়া শুভ্রার সঙ্গে । তখন শুভ্রা নিউইয়র্কে । শুভ্রা লেখা দেয় ।  কথা হয় । একদিন ওর কাছেই জানতে পারি আমার বহুদিনের পরিচিত কবি কাজী জহিরুল ইসলাম নিউইয়র্কে আছে ।  কর্মস্হল জাতিসংঘ । তৎক্ষণাত যোগাযোগ । দীর্ঘ যোগাযোগ বিরতিতেও তার আন্তরিকতার কমতি ছিলোনা । জোরেসোরেই প্রাণের বাংলায় লেখাশুরু করেন । এভাবেই আমরা মানুষ সঞ্চয়ের পন করে এগুতে থাকি ।

আমার হাওড়ার  বন্ধু সহেলী বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই প্রাণের বাংলার লেখক । সিঁউড়ির বন্ধু নিলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়কে এত লেখতে বলি, কিন্তু ওর এক কথা আমি লেখতে পারি না । আমিও নাছোড়বান্দা ।  সঙ্গে লেগেই আছি ।  শেষতক জিতে গেলাম । লেখা পেলাম ।  আপ হলো ‘আমার শহর’ । ওই লেখাটাই ৬০ থেকে ৬৮ জন শেয়ারই করেছে । তারপরও ওর ভয় কাটেনা ।  ।  হলি আর্টিজান ট্রাজেডির পর এক বন্ধুর টাইম লাইনে একটা চমৎকার লেখা পাই্ ।  লেখক পশ্চিমবঙ্গের সিঁথির রাহুল পন্ডে । লেখাটা পড়ে আমি আপ্লুত হই ।  তাকে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রন জানিয়ে লেখাটা ধার চাই । অসাধারণ রাহুল সেই থেকে আমাদের সঙ্গেই আছে । ছবির জন্য আমার কলকাতার বন্ধু ফটোগ্রাফার অনিরুদ্ধ দাস, ঢাকার ফটোসাংবাদিক টুটুল নেছারের সঙ্গে কথা হয় ওরা ওদের ছবির ব্যাপারে অলিখিত পারমিশার দিয়েই রাখে । কলকাতার ফেমিনা বাংলার সাংবাদিক বন্ধু কবি অদিতি বসু রায় । সময় বের করতে পারে না তবুও অনুরোধে ঢেঁকিটি গেলে মাঝেমধ্যে…..এরা সবাই আমার ফেইসবুক বন্ধু্ । টুটুল ছাড়া এখনও ফেইস টু ফেইস দেখা মেলেনি কারো ।

রিনি বিশ্বাস নিজের নিয়মিত বিভাগ ‘ আলোক রেখার মতো’তে লেখেই থেমে নেই ।  আমার মতো সেও লোক সঞ্চয়ে নেমেছে । তার ফেইসবুকে কারো ভালো লেখা দেখলেই হলো । লিংক পাঠিয়ে যোগাযোগের তাগদা দেয় ।  আমিও সেই মতে পৌছে যাই তার দ্বারপ্রান্তে । এভাবেই ফেইসবুকে পরিচয় স্কুল শিক্ষক রাজা ভট্টাচার্যের সঙ্গে ।  বড়ো ভালো মানুষ রাজা’দা ।  আমাকে ফেরালেন না । হয়ে গেলেন আমাদের সঙ্গী । যেদিন রাজা’দার লেখা আপ হয় সেদিন থেকে পরের কিছুদিন আমি উনার বন্ধুদের থেকে বন্ধুত্বের আহবান পাই ।  উনারা যেমন পাঠক তেমন লেখকও । আবার আমিও রাজা’দার ফেইসবুক বন্ধুদের থেকে অনেককেই ধার নেই। মিউজিশিয়ান- ব্লগার প্রিয়ম সেনগুপ্ত, আনন্দ বাজারের সিনিয়র রিপোর্টার তিয়াষ মুখোপাধ্যায়, সুব্রত গোস্বামী সবাই রাজা’দার সুবাদেই…… ।

‘প্রাণের বাংলা’ পাঠ করে যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাটছড়া বেঁধেছেন…. তাদের অনেকেই এখন নিয়মিত লিখছেন । তারা হলেন,  দীপারুন ভট্টাচার্য, সিঁউরির  দেবপ্রিয়া রায়, ঋক অমৃত  ,নিউইয়র্কের শিবব্রত দেবচৌধুরী, , কানাডার সদেরা সুজন ।   দীপারুন ভট্টাচার্য পশিচমবঙ্গের হলেও চাকুরীসূত্রে বর্তমান আবাস দিল্লী । কর্মসূত্রে ঢাকায় এলে আমার বাড়িতে এসেছিলেন । দেখা হলো  । গল্প হলো । এই হলো আমার ফেইসবুক সংযোগের ছোটখাটে একটা বিবরণ । তাই ফেইসবুককে আর অবহেলা করার প্রশ্নই ওঠে না । এ আমাকে দিয়েছে অনেক……. ।

আমাদের ঊর্মি খালা, সাগর মামা । ওঁদের পরিচয় বিখ্যাত সাংবাদিক দম্পতি । দু’জনেই বিবিসি তে ছিলেন । এখন অবসর নেয়ার পর দু’জনে কলকাতাতেই থাকেন । আর লেখালেখির সঙ্গেই বসবাস । ঢাকা বেড়াতে এলে আমরা ওদের লেখার জন্য বলি । আমরাও তাদের  স্নেহ বঞ্চিত হইনি। তাই মাঝেমাঝে লেখেন ঊর্মি রহমান-সাগর চৌধুরী দম্পতি । কবি শামীম আজাদ ।  আমাদের সবার প্রিয় শামীম আপা ।  এখন লেখাই তাঁর নেশা । সুতরাং প্রাণের বাংলাও তাঁর লেখার অংশীদার হয় ।

এদিকে দিন তো যাচ্ছেই প্রাণের বাংলাও কলেবরে বড় হচ্ছে ।  সব বিভাগে লোক সংখ্যা বাড়ছে, আবার কোথাও মানুষ বদল হচ্ছে ।  সুজনের হাত ধরেই হেঁশেলে ঢুকেন আরও দুই রন্ধনশিল্পী দিলরুবা শারমীন আর নাজিয়া ফারহানা । সাজঘরের হাত বদল হয়। কান্তার জায়গায় আসে নাসরিন পিংকি । শুরু হয়ে যায় ইরাজ আহমেদের নিয়মিত কলাম ‘চলে যেতে যেতে’ । সুমনের পাশাপাশি প্রযুক্তিতে লেখছে সাইফ তনয়, শাহরিয়ার স্বপন । সাংবাদিক নিজামুল হক বিপুলও এখন নিয়মিত লিখছে । লেখক কবি এবং ব্যবসায়ি লুৎফুল হোসেন পত্রিকাটি দেখে লেখা পাঠান । রুদ্রাক্ষ রহমান নিজের কর্মক্ষেত্রের বাইরে প্রাণের বাংলার জন্যই সময় রাখেন । অনেক সময় তার দ্বারস্ত হতে হয় আমাদেরও । এ শহরে আমাদের কিছু প্রিয় মানুষ আছে যাদের ডাকলে ফেরান না কখনও ।  তেমনি একাত্তরের বার্তা বিভাগের পরিচালক সৈয়দ; ইশতিয়াক রেজা এবং স্থপতি- লেখক শাকুর মজিদ । প্রাণের বাংলায় তারাও লিখেছেন । দীর্ঘ হস্ত প্রসারিত করেছেন এনটিভির সংবাদের প্রধান ব্যক্তি খায়রুল আনোয়ার মুকুল ভাই । পত্রিকাটির সব বিষয়েই পাই তার একান্ত সহোযোগীতা । এভাবেই অলিখিত ভাবে হয়ে গেছেন আমাদের উপদেষ্টা  ।

এমনি করে গুটিগুটি পায়ে ‘প্রাণের বাংলা’ এক বছরে পা রাখে । সময়টা শুনতে কম মনে হলেও ৩৬৫ দিন মানে অনেক দিন । প্রাণের বাংলার সংসারে এখন দেশে বিদেশে মিলিয়ে প্রায় ৬০/৬৫ জন সদস্য । জন্মদিনটা কিভাবে করবো, আদৌ করবো কিনা এরকম যখন ভাবছি ।  তখন প্রতিদিন প্রদায়কদের ফোন, আপু কিছু করবেন না?…. সাপ্তাহিক বলে প্রদায়ক দিয়েই চলে যাচ্ছে । তাতে করে তাদের অফিসে না এলেও হয় । নেটে সময় মতো লেখা পাই ।  আবার কেউ কেউ অফিসে  আসে স্রেফ প্রাণের টানে । সুতারাং সবারই উদ্দেশ্য একটা গেট-টুগেদার । গত বছর রোজাতেও আমরা একদিন ইফতারিতে সবাই একত্রীত হয়েছিলাম । এবারও বড় পরিসরে সবাই একটু সবার সঙ্গে বসতেই যেন মরিয়া । শামীম আর সুমনের প্রচুর উৎসাহ । ওদের পাশে এসে দাঁড়ায় ‘হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি’র সাইফুল, রাসেল আর রাজীব । কিন্তু সবার জন্য একটা দিন মেলানো প্রায় ঝামেলার হয়ে পড়ে । আজ এ ফ্রি, তো সে বিজি ।  তাই পেছাতে পেছাতে ২ এপ্রিল সন্ধ্যাটাই বেছে নেই ।  অজ্ঞাত কারনে সেদিন সন্ধ্যাটা সবারই ছিলো ব্যস্ততার বাইরে । সুতরাং আর সময়ক্ষেপণ নয় ।  ভেন্যূ ঠিক হয় উত্তরা একনাম্বার সেক্টরের এক রেষ্টুরেন্ট । ব্যস নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে  দেশের ভেতরে ‘প্রাণের বাংলা’ পরিবারের সবাই একে একে চলে আসে । শম্পা আপা নাতনী নিয়ে সময় মতো এলেও মিমি একটু দেরীতে পৌছে । মুকুল ভাইও অফিস সেরে সোজা পৌছে যান । গল্প-গানে চারিদিক মূখরিত । সবার শুভেচ্ছা বক্তৃতার পর কেক কেটে খাওয়া-দাওয়া পর্ব শুরু হয় । তবে সবার কথাতেই  ‘প্রাণের বাংলা’নিয়ে নিজেদের আর কী করণীয় এবং আলোচনা, আত্নসমালোচনাই উঠে আসে । ৬টা থেকে রাত ১০টা অব্ধি চলে দেদারসে আড্ডা । এভাবেই শেষ হয় প্রাণের বাংলার একবছরের পথচলা ।

আবিদা নাসরীন কলি

ছবি: জন্মদিনের ছবির সঙ্গে আছে বিভিন্ন সময়ে ‘প্রাণের বাংলা’র কার্যালয়ে তোলা কিছু ছবি